১০০ কোটি টাকা দিতে গিয়েছিল জিপি, বিটিআরসির প্রত্যাখান

গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয় জিপি হাউজ। ছবি : টেকশহর
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অডিট আপত্তির পাওনা দাবির ইস্যুতে আলোচনা চালাতে বিটিআরসিকে ১০০ কোটি টাকা দিতে গিয়ে ফিরে এসেছে গ্রামীণফোন।

গ্রামীণফোনের ডাইরেক্টর ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এদিন ১০০ কোটি টাকার পে-অর্ডার নিয়ে বিটিআরসিতে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু বিটিআরসি এই টাকা গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন খাঁন টেকশহরডটকমকে জানান, ‘যেহেতু গ্রামীণফোনের নিরীক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে মহামান্য আদালতের একটি নির্দেশনা রয়েছে, সেক্ষেত্রে বিটিআরসি উক্ত নির্দেশনার বাইরে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে না। কমিশন উক্ত নির্দেশনা প্রতিপালনে সচেষ্ট আছে’

হোসেন সাদাত বলছেন, অডিট আপত্তির পাওনা দাবির ইস্যু সুরাহা আলোচনার মাধ্যমে করার শর্ত হিসেবে শুরুতে ‘কিছু টাকা’ জমা দেয়ার আহবান প্রায় সময়েই এসেছে।  বিটিআরসির এই আহবান গণমাধ্যমেও পেয়েছি। সে হিসেবে এই ১০০ কোটি টাকা জমা দিতে গিয়েছে জিপি, যেন আলোচনাটি চালিয়ে নেয়া যায়।

‘এই টাকা দেয়ার প্রেক্ষাপট এবং আদালতে যাওয়ার প্রেক্ষাপট একদমই আলাদা। আদালতে যাওয়ার প্রেক্ষাপট ছিল প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্তের খবরে, আমাদের শেয়ার হোল্ডারদের কথা ভেবে। আর ১০০ কোটি টাকা দিতে যাওয়ার প্রেক্ষাপট হলো পাওনা দাবির ইস্যুর সমাধানে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার’ বলছিলেন তিনি।

অপারেটরটির এই ডাইরেক্টর ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বলছেন, ‘টাকা দিতে যাওয়ার এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো অডিট দাবির যথার্থতা বিবেচনায় এনে একটি সমাধানে পৌঁছানো – যেটি চলমান আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে বিকল্প একটি উদ্যোগ। এখানে মহামান্য হাইকোর্ট অডিট দাবি আদায়ের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন, কিন্তু এই অডিট দাবির যথার্থতা নিয়ে কোন মতামত দেননি’

এদিকে উচ্চ আদালতের  ২০০০ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশনার বিরুদ্ধে গ্রামীণফোনের করা রিভিউ আবেদনের শুনানি বৃহস্পতিবার।

গত ২৬ জানুয়ারি করা ওই আবেদনে অপারেটরটি ২০০০ কোটি টাকার পরিবর্তে প্রায় ৫৭৫ কোটি টাকা দিতে চেয়েছে।  আর এই টাকা তারা এক বছরে ১২টি সমান কিস্তিতে পরিশোধ করতে চায়।

২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বরের আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রয়ারি বিটিআরসিতে জিপির ২০০০ কোটি টাকা জমা দেয়ার সময়সীমা শেষ হবে।

বিটিআরসির করা অডিট আপত্তিতে জিপির কাছে মোট পাওনা দাবি ১২ হাজার ৫৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিটিআরসির অংশ ৮৪৯৪ কোটি আর এনবিআরের অংশ ৪০৮৬ কোটি টাকা।

বিটিআরসির পাওনা দাবি করা প্রায় ৮৪৯৪ কোটির টাকার মধ্যে মূল টাকা হলো ২২৯৯ কোটি টাকা, বাকি ৬১৯৪ কোটি টাকা সুদ।

অপারেটরটি বলেছে, আইন অনুযায়ী এই মূল টাকার ২৫ শতাংশ হিসেবে প্রায় ৫৭৫ কোটি টাকা জমা দেয়ার আবেদন রয়েছে ওই রিভিউয়ে। ২০০০ কোটি টাকা মূল পাওনা দাবির ৮৭ শতাংশ, যা তাদের কাছে অনেক বেশি মনে হচ্ছে।

রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে হোসেন সাদাত জানিয়েছেন, আদালত যে রায় দেবেন সেই রায়ের পর তারা কী পদক্ষেপ নেবেন সেটি তখন ঠিক করবেন। তবে তারা এই পাওনা দাবির ইস্যুটি আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা চান আর তার জন্যেই টাকা ডিপোজিট করতে গিয়েছেন।

এডি/২০২০/ফেব্রুয়ারি১৯/১৮০০

আরও পড়ুন –

সিম নিয়ে পেঁয়াজের মতো অবস্থার আশংকা জিপির

রিভিউ আপিল : ৫৭৫ কোটি টাকা দিতে চায় জিপি

লভ্যাংশ অর্ধেকেরও নিচে নামাল জিপি

*

*

আরও পড়ুন