Header Top

ভাইবার-ইমোর দাপটে কমল বিদেশি ইনকামিং কলরেট

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইমো, স্কাইপে, ম্যাসেঞ্জারসহ কমিউনিকেশন্স অ্যাপগুলো প্রতিদিন এত বেশি বিদেশি ভয়েস কল আনছে যে সেখানে প্রচলিত ইনমাকিং কল মৃত প্রায়।

তাই আন্তর্জাতিক গেটওয়েগুলোর ব্যবসা বাঁচিয়ে রাখতে সরকার প্রতি মিনিটের ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট দশমিক শূন্য ছয় সেন্টে নামিয়ে এনেছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের উপ-পরিচালক সাবিনা ইসলাম স্বাক্ষতির চিঠিতে বৃহস্পতিবার এই ইনকামিং কলে রেট কমানোর চিঠি ইস্যু হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিন এতো বেশি কল অ্যাপে চলে আসছে যে তাতে আর আইজিডব্লিউগুলোর ব্যবসা থাকছে না। অথচ অ্যাপের কলের মান খুব একটা ভালো নয়। তারপরেও যেহেতু কেবল ডেটার খরচে কথা বলা যায় তাই মানুষ বিদেশ থেকে দেশে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার জন্যে কমিউনিকেশন অ্যাপকেই বেছে নিয়েছেন।

বিদেশ থেকে আসা কলের রেট কয়েক দফায় অনেক কমানোর পরেও প্রতি মিনিট কথা বলার জন্যে এখনও কয়েক টাকা করে খরচ হয়। কিন্তু সেই তুলানায় কমিউনিকেশন অ্যাপ ব্যবহার করে কথা বললে শুধু ডেটা ব্যবহারের খরচ। সেটিও প্রতি মিনিটের জন্যে নামকাওয়াস্তের হিসাব।

তাছাড়া প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে ভয়েস কলের অবৈধ পথের বাজারও বেশ রমরমাই আছে। সেটিকেও আমলে নিয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব বিষয় মাথায় রেখে ডিসেম্বর মাসে আইজিডব্লিউ অপারেটরগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিটিআরসি সরকারের কাছে কলরেট কমানোর সুপারিশ করে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ঘুরে প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর বৃহস্পতিবার তা ইস্যু করা হয়।

এদিকে বহুদিন একই কলরেট থাকার কারণে দফায় দফায় কলের পরিমাণ কমিছিল। বিটিআরসির হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদেশ থেকে আসা কলের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গিয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের হিসাব অনুসারে, সর্বশেষ অর্থবছরে সব মিলে প্রায় এক হাজার ২১৩ কোটি মিনিটের কল বিদেশ থেকে এসেছে। যা আগের অর্থবছরেও ছিল এক হাজার ৯৯০ কোটি মিনিট। এটি আগের কয়েক বছরের সঙ্গে তুলনায় গেলে আরও খারাপ পরিস্থিতি বেড়িয়ে আসবে।

বিদেশ থেকে আসা কল যেমন কমছে একইভাবে বাংলাদেশ থেকে আগে যে হারে কল বিদেশে যেতো সেটিও অনেক কমে গেছে। এমনিতেই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া কলের পরিমাণ আগে থেকেই অনেক কম ছিল। এখন সেটি আরও কমে গেছে।

খোদ বিটিআরসির কর্মকর্তাদের মতে কমিনিউকেশন অ্যাপ এখন শুধু কেবল বিদেশি কল কমিয়ে দেওয়া নয় বরং তারা দেশীয় কলের ওপরও হাত বাড়িয়েছে। দেশের মধ্যেও ডেটা ব্যবহার করেন এমন গ্রাহকরা আর সাধারণ ভয়েস কলে কথা বলতে অনাগ্রহী।

তারা বলছেন, সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা আগের চেয়ে বেড়েছে যেটি খুবই ভালো লক্ষণ। আর এ কারণে তারা বিদেশে যোগাযোগের ক্ষেত্রে খরুচে ভয়েস কলের ওপর নির্ভর না করে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্মার্টফোন নির্ভর অ্যাপ ব্যবহার করছেন।

বিটিআরসির হিসাব অনুসারে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরেও দিনে গড়ে বিদেশ থেকে কল এসেছে পাঁচ কোটি ৪৫ লাখ মিনিট। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সেটি নেমে গেছে তিন কোটি ৩২ লাখ মিনিটে। এদিকে গত বছরও বাংলাদেশ থেকে দিনে ৫০ লাখ মিনিটের মতো কল বিদেশে যেতো এখন সেটি নেমে গেছে ২০ লাখ মিনিটে।

আর বিটিআরসির সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, এখন গড়ে দিনে বিদেশ থেকে আসা কলের পরিমাণ দুই কোটি মিনিটের মধ্যে চলে এসেছে। সামনের দিনে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। বর্তমানে ২৪টি আন্তর্জাতিক গেটওয়ে অপারেটর আছে যারা মূলত বৈধপথে বিদেশে কল পাঠানো বা বিদেশ থেকে কল আনার ব্যবসা করে থাকেন।

এসআইজেড/এডি/২০২০/১২১৫/জানুয়ারি১৫

আরও পড়ুন –

নির্দেশনার ফেরে বন্ধ সরকারি নম্বর, সেবা বিঘ্নিত

ভয়েস কলের অ্যাপ চালুর লাইন লেগেছে

*

*

আরও পড়ুন