Samsung IM Campaign_Oct’20

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা সফল ইনসাইট ইন হেলথের লক্ষ্য বাংলাদেশও

ইনসাইট ইন হেলথের বাংলাদেশের কর্মীরা প্রতিষ্ঠানটির সিইও'র সঙ্গে। ছবি : সৌজন্যে
Evaly in News page (Banner-2)

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : যুক্তরাষ্ট্রে ভালোই সাড়া পাচ্ছে প্রবাসী এক বাংলাদেশির উদ্যোগ ‘ইনসাইট ইন হেলথ’। সুদূর মার্কিন মুলুকে এটি শুরু হলেও বেশিরভাগ কর্মী এখন বাংলাদেশের। এখান থেকে মূল কাজ সামলাচ্ছেন তারা।

স্বাস্থ্য সেবার সঙ্গে যুক্ত উদ্যোগটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইনাম নূর। তার সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয় ইনসাইট ইন হেলথ নিয়ে। এ উদ্যোগের এগিয়ে যাওয়ার কথা থাকছে এ প্রতিবেদনে।

শুরুর কথা

ইনসাইট ইন হেলথ নামকরণের আগে ২০০৬ সালে স্থানীয় ‘ডেজমি বাংলাদেশ’ নামের একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু হয় এ উদ্যোগের। ওই বছরই ‘ইনসাইট ইন টেকনোলজি’ নামে এটি নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করে।

শুরুতে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ও এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করতেন এটির উদ্যোক্তারা।

সিইও ইনাম নূর জানান, এক দশক ব্যবসা সফলভাবে সেবা দেওয়ার পর ২০১৫ সালের দিকে মনে হলো শুধু কাস্টমস সফটওয়্যার দিয়ে ভবিষ্যতে টিকে থাকা সম্ভব নয়। প্রযুক্তি খাত বদলাচ্ছে খুব দ্রুত। তখন নতুন কিছু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

তরুন এ উদ্যোক্তা জানান, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে বড় বড় কিছু কোম্পানি স্বাস্থ্যখাতে কাজ করতে শুরু করে। এরপর তার মাথায় আসে তারাও কেন এমন কিছু শুরু করছেন না? সেই ভাবনা থেকে শুরু করেন স্বাস্থ্য সেবা দেবার বিষয়টি।

ইনসাইট ইন হেলথের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ইনাম নূর। ছবি : সৌজন্যে

ততদিনে অনেক কিছু সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা হয়েছে জানিয়ে ইনাম নূর বলেন, ‌’আমরা এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য খাত সম্পর্কে অনেক তথ্য সংগ্রহ করি।’

ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তিন মিলিয়ন ডলারের তহবিল (সিড ফান্ডিং) পেয়েছে, যা তাদের আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

ইনসাইট ইন হেলথ যেভাবে কাজ করে

ইনসাইট ইন হেলথ এমন একটি উদ্যোগ যেখানে তারা মানুষের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ডেটা বিশ্লেষণ এবং পারসোনালাইজড ডিজিটাল মার্কেটিং অটোমেশন করে থাকেন। এর সবই করা হয় গ্রাহকের একেবারে অগোচরে।

ইনাম নূর জানান, তারা যুক্তরাষ্ট্রে ইন্সুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করেন। সেখানে স্বাস্থ্য খাত মূলত বেসরকারিভাবে পরিচালিত হয়। তাই ইন্সুরেন্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করে ইনসাইট।

তারা বীমা করা বয়স্ক ব্যক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ বছরের বেশি জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সব তথ্য সংগ্রহ ও সেগুলো প্রসেস করেন। এ জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, বিগ ডেটা, মাইক্রোসফট ডট নেট ও ডেটা সায়েন্সের ব্যবহার করা হয়।

এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দেওয়া হয়, কে কখন চিকিৎসক দেখাবেন সম্ভাব্য সেই দিন তারিখ। তার স্বাস্থ্যের এখন কি হাল, কবে আবার চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে ইত্যাদি নানা রকম তথ্য তারা সরবরাহ করেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে।

এ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় ডেটা সায়েন্টিস্টদের। এ ছাড়াও ডেটা নিয়ে এসব কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান ইনাম নূর।

বাংলাদেশ এখনও উপযুক্ত নয়

যুক্তরাষ্ট্রে যে মডেলে তারা কাজ করছেন, সেটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উপযুক্ত নয় বলে মনে করেন ইনাম নূর। তিনি বলেন, ইনসাইট ইন হেলথ যে মডেলে কাজ করে, সে জন্য বাংলাদেশের অবকাঠামো প্রস্তত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যখাত পুরোটাই বেসরকারি খাতে পরিচালিত হয়। সেখানকার বীমা কোম্পানিগুলো মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে। যুক্তরাজ্যে আবার সেটি ভিন্ন। সেখানে স্বাস্থ্যখাত পুরোটাই সরকারি নিয়ন্ত্রণে।

প্রবাসী এ উদ্যোক্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য খাত যেভাবে পরিচালিত হয় বাংলাদেশে তেমন করে হয় না। এখানে চিকিৎসার সবই ব্যক্তিগত। তাই এখানে প্রয়োজন মোবাইলকেন্দ্রিক বাজার তৈরি করা।

ইনাম নূর জানান, ইতিমধ্যে অবশ্য বাংলাদেশে দু’একটি প্রতিষ্ঠান এমন মডেলে কাজ করার কথা ভাবতে শুরু করেছে। তারাও এগুলোর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

তবে দেশে এখনও বীমা কোম্পানিগুলো স্বাস্থ্যখাত নিয়ে খুব বেশি এগোয়নি বলে তাদের মডেলটি খুব বেশি কার্যকর হবে না বলে তার ধারনা।

দেশের কর্মী বেশি

ইনসাইট ইন হেলথের অধিকাংশ কর্মীই বাংলাদেশের। প্রতিষ্ঠানটি যখন কাজ শুরু করে তখন বাংলাদেশে তাদের কর্মী ছিল মাত্র চার জন। ধীরে ধীরে যা বাড়ছে। এখন ডেটা সায়েন্টিস্ট, এআই, মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করছেন তারা।

কর্মীর সংখ্যা বেড়ে এখন ১৮ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তাদের সমান সংখ্যক কর্মী রয়েছেন।

আগামী দু’বছরের মধ্যে বাংলাদেশে কর্মী সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা তার।

লক্ষ্য দেশে কাজ করা

দেশের স্বাস্থ্য খাতে কাজ করার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করে ইনাম নূর জানান, তারা দেশের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এ দুটি প্রতিষ্ঠান দেশে হেলথ কেয়ার নিয়ে কাজ করছে। অবকাঠামো সেভাবে প্রস্তুত না হলেও যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

অবশ্য দেশে কাজ করার ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতাও তুলে ধরেন প্রবাসী এ উদ্যোক্তা। বিশেষ করে এখানকার স্বাস্থ্য খাত পুরোটাই ব্যক্তিগত হওয়ায় প্রায় সবার মধ্যে সচেতনতার অভাব প্রকট। তাই মানুষকে সচেতন করাও তাদের কাজের অংশ হবে বলে জানান তিনি।

ইএইচ/ মার্চ ১৫/২০২০/১৪৪০

*

*

আরও পড়ুন