হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ করা বোকামি

ধীরে ধীরে বিকল্প পথ খুঁজে নিচ্ছে হুয়াওয়ে। ছবি : ইন্টারনেট

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সংকট যেন পিছু ছাড়ছে না চীনের। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক যুদ্ধের মধ্যেই ছিল হুয়াওয়েকে নিয়ে টানাপড়েন। এরমধ্যে এবার যোগ হয়েছে করোনাভাইরাসের প্রকোপ।

সবকিছুর প্রভাবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা জেরবার। এসবের মাঝে একটি খবরে কিছুটা আশাবাদী অবশ্য হতে পারে চীনারা।

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হুয়াওয়াকে বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ করার তোড়জোড়ের মধ্যে প্রভাবশালী ম্যাগাজিন দ্য ইকোনোমিস্ট কোম্পানিটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তাদের মতে চীনা টেক জায়ান্টকে নিষিদ্ধ করে দিলেই টেলিকম খাতে নিরাপত্তা ঝুঁকি কেটে যাবে এমনটা ভাবা বোকামি। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে ম্যাগাজিনটি নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করে।

এতে বলা হয়, হুয়াওয়েসহ সব প্রযুক্তিরই নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে এবং তা এড়ানোর উপায় রয়েছে। রাশিয়ার উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, বলার মতো কোনও টেলিকম ডিভাইস নির্মাতা নেই রাশিয়ার। তবুও তাদের হ্যাকাররা তো থেমে নেই। তাই হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ করে দিলে হ্যাকিং থেকে মুক্তি মিলবে এমন ধারণা ভুল।

তাই ফোন ও নেটওয়ার্কিংয়ের এ জায়ান্টকে ফাইভজির বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে ইকোনোমিস্ট। কারণ কোম্পানিটি কম দামে ভালো মানের পণ্য তৈরি করে, যা বাজার থেকে বাতিল হয়ে গেলে প্রতিযোগিতা কমে যাবে। এতে ফাইভজির বিস্তারে অনেক সময় লাগবে।

দীর্ঘদিন ধরে হুয়াওয়ে স্বল্পমূল্যে মানসম্পন্ন পণ তৈরি করার কারণে বাজারে একটি প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করে আরও বলা হয়েছে, কোম্পানিটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে মূলত ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বায়নে বড় ধাক্কা লাগবে।

ইকোনোমিস্ট মনে করে, চীনা জায়ান্টির নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে তিন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

প্রথমত, ডাটা নিরাপত্তায় আরও শক্তিশালী এনক্রিপশন পদ্ধতি ব্যবহার করা।

দ্বিতীয়ত, টেলিকম প্রযুক্তি নির্মাণের খাতকে আরও স্বচ্ছ করতে হবে। যন্ত্রাংশ খোলার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সফটওয়্যারের কোড শেয়ার করতে হবে। যাতে কেউ ব্যাক ডোরগুলো লুকাতে না পারে।

তৃতীয়ত, দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান প্রদান করতে হবে।

হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছুদিন থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে তাদের দুই মিত্র অস্ট্রেলিয়া ও জাপান নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে অপর মিত্র যুক্তরাজ্য কোম্পানিটির ফাইভজি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছে।

যদিও জায়ান্টটির ফাইভজি ডিভাইসগুলোর মধ্যে কোনো ব্যাক ডোরের অস্তিত্ব এখনও প্রমাণ করতে পারেনি মার্কিনীরা।

এমআর/ আরআর/ জানুয়ারি ২৯/২০২০/১৪১৫

*

*

আরও পড়ুন