ডুয়োলিঙ্গো অ্যাপে ভাষা শিখছে ৩০ কোটি মানুষ

ডুয়োলিঙ্গোর প্রতিষ্ঠাতা লুইস ভন আন। ছবি : বিবিসি
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তার মাতৃভাষা স্প্যানিশ। কিন্তু মা চেয়েছিলেন ছেলে ইংরেজি শিখুক। এ জন্য আলাদা খরচের বোঝা মাথায় নিয়ে তাকে পাঠানো হয়েছিলো ইংরেজি শেখার স্কুলে। সেটাই তাকে অনেক এগিয়ে নিয়েছে।

গুয়েতেমালার মতো দরিদ্র দেশে ইংরেজি শেখার সুফল তিনি পেয়েছিলেন। তাই ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরে তিনি তৈরি করেছেন ডুয়োলিঙ্গো অ্যাপ। লুইস ভন আনের তৈরি অ্যাপটির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ৩০ কোটি মানুষ ভাষা শিখেছে। ডুয়োলিঙ্গোতে ২৮টি ভিন্ন ভাষা শেখানো হয়। এসব ভাষার মধ্যে আছে ইংরেজি, স্প্যানিশ, অ্যারাবিক, ইউক্রেনিয়ান ও ফ্রেঞ্চ। এছাড়াও, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা যেমন ওয়েলশ, নাভাহো, হাওয়াইয়ান ও স্কটিশ গ্যেলিক শেখারও সুযোগ দিচ্ছে অ্যাপটি।

৪১ বছর বয়সী লুইস ভন আন বেড়ে উঠেছেন মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়েতেমালায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র আসেন ১৯৯৬ সালে। সেখানকার ডিউক ইউনিভার্সিটি থেকে গণিতের উপর ডিগ্রি নেন। পরে তিনি ভর্তি হন কারনেগি মেলোন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স বিভাগে। সেখানে শিক্ষক হিসেবেই শুরু করেন ক্যারিয়ার।

শিক্ষার্থী সার্ভিন হ্যাকারকে নিয়ে তিনি ডুয়োলিঙ্গো অ্যাপ তৈরির কাজ শুরু করেন ২০০৯ সালে। অ্যাপটি উন্মোচন করেন ২০১২ সালে। সেসময় ভাষা নিয়ে টেড টকে একটি বক্তৃতা দেন। এতে রাতারাতি ২ কোটি লোকের কাছে তার অ্যাপটি পরিচিতি পায়। এখন পর্যন্ত অ্যাপটির প্রচারণা বাড়াতে কোনো ব্যবসায়িক কৌশল তিনি হাতে নেননি। তবু মুখে মুখে অ্যাপটির কথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যায়। বর্তমানে ডুয়োলিঙ্গোর বার্ষিক আয় ৯০ মিলিয়ন ডলার। ১৫ মিলিয়ন ডলার আসে অ্যাপটির ফ্রি সংস্করণে প্রচারিত বিজ্ঞাপন থেকে। বাকি ৭৫ মিলিয়ন আসে বিজ্ঞাপন বিহীন প্রিমিয়াম সংস্করণ থেকে।

এছাড়াও, গুগলের কাছে ইএসপি গেইম ও রিক্যাপচার স্বত্ব বিক্রি করে তিনি আয় করেছেন কয়েক মিলিয়ন ডলার।

এক্সট্রা সেন্সরি পারসেপশন (ইএসপি) হলো একটি অনলাইন গেইম। গেইমটিতে দুজন মানুষ একটি ছবি বর্ণনা করতে গিয়ে একই শব্দ বেছে নিলে পয়েন্ট পায়। এভাবে কে কোনো কোন শব্দ বেছে নেবে তা অনুমানের ভিত্তিতে এগিয়ে যায় গেইম। ২০০৬ সাল থেকে গুগল তার উদ্ভাবিত গেইমের প্রযুক্তি ইমেজ সার্চ সফটওয়্যারে ব্যবহার করছে।

আর গুগল ব্যবহারকারী মাত্রই রিক্যাপচার নাম জানেন। গুগলের সরবরাহকৃত লিঙ্কে বট বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রবেশ করছে তা নির্ধারণ করতে ব্যবহারকারীকে দেখানো কয়েকটি বর্ণ ও সংখ্যা দেখিয়ে তা টাইপ করতে বলা হয়। এতে ব্যবহারকারী যে আসলেই মানুষ সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারে গুগল। ২০০৯ সালে কয়েক কোটি ডলারে লুইস ভন আনের কাছ থেকে রিক্যাপচা কিনে নেয় গুগল।

বিবিসি অবলম্বনে এজেড/ জানুয়ারি ২৭/২০২০/১৬২০

আরও পড়ুন –

অ্যাপ থেকে আয় আসে যেভাবে 

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি ও বেশি আয়ের ৬ বাধা 

আয়কর জানাবে অ্যাপ 

ইংরেজি শব্দ শেখার দেশি অ্যাপ

*

*

আরও পড়ুন