থ্রিডি প্রিন্টারে ভেসে এলো মমির কণ্ঠ

মমির প্রতিকী ছবি। ছবি : সিবিসি নিউজ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: মিশরের ফারাও সভ্যতার একটি মমির গলার স্বর পুনরুদ্ধার করে বেশ সাড়া ফেলেছেন একদল গবেষক।

মেডিক্যাল স্ক্যানার, থ্রিডি প্রিন্টার ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা তিন হাজার বছর পুরোনো একটি মমির যেন ঘুম ভাঙালেন।

বিভিন্ন প্রযুক্তির সহায়তায় মমির কণ্ঠস্বর কেমন হতে পারে তা নির্ণয় করেছেন তারা। এমনকি একটি ধ্বনির অডিও রেকর্ডিংও বের করেছেন তারা।

Techshohor Youtube

নেচার ডটকমে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে এমনটি উঠে আসে।

যে মমিটির কণ্ঠস্বর পুনরুদ্ধারের দাবি করা হয়েছে তার নাম নাসিমন। খ্রিষ্টপূর্ব ১১০০ সালে তিনি মারা যান বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। তিনি পেশায় ফারাও সাম্রাজ্যের একজন পূজারি ছিলেন।

তার কণ্ঠস্বর যে এমনই ছিল সেটির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, তিন হাজার বছর ধরে তার শরীরের অনেক অংশ বিশেষ করে জিহ্বার একটি বড় অংশ ও থোরাক্স বিলীন হয়েছে।

তাই জার্মানভিত্তিক নাক, কান ও বুক বিশেষজ্ঞ রুডলফ হাজেন বিষয়টিতে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, থোরাক্স ছাড়া বর্তমান সময়ে জীবিত মানুষকেও তার স্বাভাবিক স্বর ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গবেষকরাও বিষয়টিকে অস্বীকার করছেন না। লন্ডনের রয়্যাল হলোয়ে কলেজের গবেষক ডেভিড এম. হাওয়ার্ড, যিনি এই গবেষণা দলের সদস্য, তার মতে, মমিটির বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ধ্বনি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। তবে তিনি এও বলেন, তার জিহ্বার বর্তমান যে অবস্থা তাতে প্রকৃত স্বর উদ্ধার করাটা কঠিন।

তার আশা, গবেষণা চলতে থাকলে একদিন হয়তো হুবহু স্বর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

এদিকে, গবেষক দলের আরেক সদস্য বিষয়টিকে দেখছেন অন্যভাবে। জন সোফিল্ড নামে ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্কের এই গবেষক মনে করেন, এই ধরনের পদ্ধতিতে স্বর পুনরুদ্ধার ঐতিহ্যকে জাগিয়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমানে পর্যটকরা সবকিছু ইতিহাসের চোখ দিয়ে দেখে। এ প্রযুক্তি পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে নতুন মাত্রা দেবে।

এমআর/আরআর/ জানুয়ারি ২৬/২০২০/১০৪০

*

*

আরও পড়ুন