ই-পাসপোর্টের যুগ শুরু

ই-পাসপোর্ট সেবার উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : ফেইসবুক থেকে নেওয়া
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে বহুল প্রতীক্ষিত ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট সেবার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) প্রধানমন্ত্রী ই-পাসপোর্ট ও এর স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষে জাতির জন্য ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার ব্যবস্থা উপহার হিসেবে ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের ফলে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। আমরা যে পাসপোর্ট দিতে যাচ্ছি সেটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট। এখানে এমবেডেড ইলেক্ট্রনিক চিপ থাকবে, যিনি পাসপোর্ট গ্রহণ করবেন তার ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও চোখের কর্নিয়া থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে যে একটা সমস্যা ছিল পাসপোর্ট নিয়ে একসময় গলা কাটা পাসপোর্টও প্রচলিত ছিল আমাদের দেশে। সেটা আর কখনো হবে না। এখন আর মানুষ ধোকায় পড়বে না, এখন স্বচ্ছতার সাথে চলবে এবং ই-গেইট থাকবে সেখানে সব সুবিধা থাকবে। একটা আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন পদ্ধতি আমরা ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছি।

দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বপ্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই ই-পাসপোর্ট প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত রোববার ই-পাসপোর্টের জন্য ইমিগ্রেশন এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর ছবি তুলে নিয়ে যান। কারণ, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতিকে ই-পাসপোর্ট দেবার মাধ্যমেই এই কার্যক্রমের শুরু হলো।

প্রাথমিকভাবে রাজধানীর উত্তরা, আগারগাঁও ও যাত্রাবাড়ি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে ই-পাসপোর্ট সেবা শুরু হবে।

পর্যায়ক্রমে দেশের ৭২টি আঞ্চলিক ও বিভাগীয় অফিস এবং ৮০টি বিদেশি মিশনে চালু করা হবে এই ই-পাসপোর্ট সেবা।

বাংলাদেশে জার্মান সংস্থা ভেরিডোস জিএমবিএইচ ই-পাসপোর্ট এবং ই-গেইট এর কাজ করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে ৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা।

৪৮ ও ৬৪ পাতার হবে এই ই-পাসপোর্ট। মেয়াদ হবে ৫ ও ১০ বছর।

পাঁচ বছর মেয়াদী ৪৮ পৃষ্ঠার সাধারণ পাসপোর্ট মিলবে ১৫ দিনে। এর ফি সাড়ে ৩ হাজার টাকা। জরুরি সাতদিনে পেতে চাইলে লাগবে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। খুব জরুরি  মাত্র দুইদিনে চাইলে ফি সাড়ে ৭ হাজার টাকা।

আর ১০ বছর মেয়াদী এই ই-পাসপোর্টে উপরের তিন ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে ৫ হাজার, ৭ হাজার ও ৯ হাজার টাকা লাগবে ।

এছাড়া পাঁচ বছর মেয়াদী ৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট করতে তিন ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে সাড়ে ৫ হাজার, সাড়ে ৭ হাজার ও সাড়ে ১০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে।

এটি ১০ বছর মেয়াদের ক্ষেত্রে খরচ হবে যথাক্রমে ৭ হাজার, ৯ হাজার ও ১২ হাজার টাকা।

এই পাসপোর্ট পেতে অনলাইনে  অথবা পিডিএফ ফরম ডাউনলোড করে পূরণ করে আবেদন যাবে। লাগবে না কোনো ছবি আর কোনো কাগজপত্রের সত্যায়ন।

ই-পাসপোর্টে কাগজের সঙ্গে স্মার্টকার্ড প্রযুক্তিতে মাইক্রোপ্রসেসর চিপ এবং অ্যান্টেনা বসানো থাকবে। এর প্রতিটি পাতায় খুব সুক্ষ্ম ডিজাইনের জটিলসব জলছাপ থাকে।

এখনকার পাসপোর্টের শুরুতে ব্যক্তির তথ্যসম্বলিত যে দুটি পাতা দেয়া হয়, ই-পাসপোর্টে  তা থাকবে না ৷ এর বদলে সেখানে বসবে পালিমারের তৈরি একটি কার্ড৷ যেখানে থাকা একটি চিপের মধ্যে থাকবে পাসপোর্ট মালিকের সব তথ্য।

এমআরপি হতে ই-পাসপোর্টে তথ্য ধারণের ক্ষেত্রে ব্যাপক পাথর্ক্য রয়েছে। ফলে একদম  নিরাপদভাবে এই পাসপোর্টধারীর পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। তথ্যগুলো জালিয়াতির সম্ভাবনা এতে একদম ক্ষীণ, তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত হয়, পরিচয় জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিরাপত্তার সঙ্গে সীমান্তে প্রবেশ ও গমনে স্বয়ংক্রিয় সুবিধার পাসপোর্ট ই-পাসপোর্ট

বিশ্বের ১১৯তম দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালু করলো বাংলাদেশ।

ইএইচ/ জানু ২২/ ২০২০/ ১৪৩০

*

*

আরও পড়ুন