শুরু হচ্ছে ভবিষ্যত প্রযুক্তির হ্যাকাথন, বিজয়ীদের মিলবে বিনিয়োগ

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এবার হ্যাকাথনের মাধ্যমে ১০ টি আইডিয়া খুঁজে সেগুলোকে সফল স্টার্টআপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে সরকার।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের আইডিয়া প্রকল্পের উদ্যোগে শুরু হতে যাওয়া এই হ্যাকাথনের নাম ‘ন্যাশনাল হ্যাকাথন অন ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিস’।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ব্লকচেইন, বিগডেটা, রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং, সাইবার সিকিউরিটি, ইন্টারনেট অব থিংকস প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের ১০টি জনগুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যার সমাধান করতে হবে এই হ্যাকাথনের মাধ্যমে।

আর এই হ্যাকাথনে সেরা ১০ বিজয়ী দলের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো পরিণত ও প্রতিষ্ঠিত করতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

দলগুলোকে খ্যাতনামা তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেক মাহিন্দ্রার মেকারস ল্যাবে এক মাসের জন্য গবেষণা ও প্রযুক্তি সহয়তাসহ মেন্টরিং ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

উদ্ভাবনগুলো পরিণত হলে টেক মাহিন্দ্রা তাদের আওতাভুক্ত মার্কেটিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচারণা করে এগুলোকে গ্রোথ পর্যায়ে নিয়ে আসতে কাজ করবে।

এছাড়া দলগুলোকে স্টার্টআপ বাংলাদেশ বা আইডিয়া প্রকল্পের মেন্টরিং ও গ্রুমিং করা হবে সবসময়। সনদ, ক্রেস্ট এগুলো তো থাকছেই।

আইডিয়া প্রকল্পের সিনিয়র কনসালটেন্ট, রিসার্স অ্যান্ড ইনোভেশন স্পেশালিস্ট আরএইচএম আলাওল কবির টেকশহরডটকমকে জানান, এটি বিশেষ একটি হ্যাকাথন। কারণ এই হ্যাকাথনের মাধ্যমে উঠে আসা সেরা উদ্যোগগুলোর প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নেবে সরকারের আইডিয়া প্রকল্প। এছাড়া বিজয়ীরা পাবে আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ।

‘অন্যদিকে ভবিষ্যতে আধিপত্য বিস্তার করতে যাওয়া প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে নিজেদের সমস্যার সমাধান করা যায় সেখানেও হাতেকলমে অভিজ্ঞতা হবে’ বলছিলেন তিনি।

আবেদন করা যাবে যেভাবে :

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে  http://www.startupbangladesh.gov.bd/ ওয়েবসাইটে গেলেই এই হ্যাকাথনের একটি পেইজ দেখা যাবে। এতে ‘অ্যাপ্লাই নাউ’ এ ক্লিক করে আবেদন করতে হবে।

এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরিশালে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত। এসব এলকায় ক্যাম্পেইনে এসে স্পট রেজিস্ট্রেশন করেও হ্যাকাথনে আবেদন করা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ক্যাম্পেইনগুলোর তারিখ ও ঠিকানা উল্লেখিত স্টার্টআপ বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে ।

এছাড়া হ্যাকাথনের ১০টি জনগুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যার বিষয়ে এই ওয়েবসাইটের হ্যাকথনের পেইজে পাওয়া যাবে।

আবেদন ও হ্যাকাথনের সময়সীমা :

হ্যাকাথনে অংশ নিতে আবেদন করতে হবে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে। হ্যাকাথন অনুষ্ঠিত হবে ফেব্রয়ারির ২৮ ও ২৯ তারিখ ঢাকায়। কোথায় হবে অংশগ্রহণকারীদের জানিয়ে দেবে আয়োজকরা।

কীভাবে হবে বাছাই :

প্রতিটি দলের প্রাথমিক আবেদনের সাথে পাওয়া প্রকল্পের ভিডিও লিংক, প্রেজেন্টেশন এবং প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরণী ইত্যাদি বিবেচনা করে হ্যাকাথনের চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকল্পগুলো নির্বাচন করা হবে।

এভাবে প্রাথমিক আবেদনের পর শর্ট লিস্ট করা হবে। নির্বাচিতদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করবেন।

চূড়ান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়াটি হ্যাকাথনের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি করবে। প্রায় ২৫ জন অভিজ্ঞ মেন্টরের সমন্বয়ে গঠিত এই হ্যাকাথনের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি।

সারাদেশ হতে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ ক্যাটাগরিতে আনুমানিক ১০ টি করে মোট ৫০ টি দল কে চূড়ান্ত হ্যাকাথনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। তবে মানসম্পন্ন প্রকল্প আসলে ১২০ টি পর্যন্ত প্রকল্প নেয়া হতে পারে।

প্রতিটি চ্যালেঞ্জ বা ক্যাটাগরি হতে ১টি করে প্রকল্প বিজয়ী হবে।

যেভাবে এই হ্যাকাথন :

২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর নয়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে টেক মাহিন্দ্রার সঙ্গে এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে স্টার্টআপ বাংলাদেশ।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং টেক মাহিন্দ্রার প্রেসিডেন্ট, কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ও বিজনেস হেড এপিএসি সুজিত বক্সী পরস্পরের মধ্যে ওই চুক্তি বিনিময় করেন।

ওই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা টেক মাহিন্দ্রা হতে বিনিয়োগ, গবেষণাসহ বিভিন্ন এই সুযোগ-সুবিধা পেতে যাচ্ছেন।

যেখানে সমঝোতা হয়েছিল এআই, ফাইভজি, ব্লকচেইন, আইওটি, বিগ ডেটা ও সাইবার সিকিউরিটির মতো বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করা হবে। টেক মাহিন্দ্রার গবেষণা প্রতিষ্ঠান মেকারস ল্যাবে কাজ করার সুযোগ মিলবে বাংলাদেশীদের।

আর এই চুক্তির তিন মাসের মাথায় প্রথম এই উদ্যোগ দৃশ্যমান হলো।

এডি/২০২০/ডিসে০৭/১৯০০

*

*

আরও পড়ুন