বিরোধ-বিবাদেই যেন বছর গেলো টেলিকমের

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : টেলিকম খাতে বছরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো জিপি-রবির সঙ্গে বিটিআরসির অডিট আপত্তির পাওনা দাবি আদায়ের বিরোধ।

যার নীচে চাপা পড়ে গেছে খাতটির অন্যান্য ইস্যু ও অর্জন, স্মৃতিচারণে মনে হবে যেন বিরোধ-বিবাদেই গেছে ২০১৯।

বছরের পর বছর ধরে অডিট করা নিয়ে নানা জটিলতা, আইন-আদালতের পর শেষ পর্যন্ত তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে করানো অডিটে বিটিআরসি ২০১৯ সালে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ও রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে।

মূল ঘটনা শুরু হয় ২০১৯ সালের এপ্রিলের শুরুতে পাওনা দাবি পরিশোধে অপারেটর দুটিকে বিটিআরসি চিঠি দেয়ার পর।

এরপর নানা দেন-দরবার, অপারেটর দুটির ব্যাখা, আলোচনার পর কোনো পথ না বের হলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে শুরু করে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

৪ জুলাই গ্রামীণফোনের জন্য বরাদ্দ ব্যান্ডইউথ ক্যাপাসিটি ৩০ শতাংশ এবং রবির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ব্লক করে দেয় বিটিআরসি।

তবে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার সীমিত করায় সেটি গ্রাহকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে – বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে এনওসি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। ২২ জুলাই অপারেটর দুটিকে দেয়া হয় এই নির্দেশনা।

আর এনওসি বন্ধের ফলে অপারেটর দুটির সব প্যাকেজ অনুমোদন বন্ধ হয়ে যায়। নতুন যন্ত্রপাতি আমদানি বন্ধ, নেটওয়ার্ক বিস্তারের অনুমোদনও বন্ধ হয়ে যায় এমনকি ব্যাংক লোন বা কোনো ক্ষেত্রে অন্য কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করাও।

এতেও দাবি আদায় না করতে পেরে ৫ সেপ্টেম্বর লাইসেন্স (টুজি-থ্রিজি) কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে ১ মাসের সময় দিয়ে দুই অপারেটরকে শোকজ নোটিশ দেয় বিটিআরসি।

এরপর অক্টোবরের মাঝামাঝিতে সিদ্ধান্ত হয় অপারেটর দুটিতে প্রশাসক বসানোর।

বিটিআরসির এসব পদক্ষেপের বিপরীতে বসে থাকে না অপারেটর দুটিও। তারা অবশ্য  এই পাওনাকে অযৌক্তিক বলে আসছে শুরু হতেই।

ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি ব্লকের পর সংবাদ সম্মেলনে আসে জিপি। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিটিআরসির পাওনা দাবির বিষয়টি সুরাহা করতে আরবিট্রেশন বা সালিশের প্রস্তাব রাখে।

কোনো সংবাদ সম্মেলন না করলেও রবিও এই আরবিট্রেশন বা সালিশ চায় বলে জানায়।

এরপর যখন এনওসি বন্ধ হলো আবারও সংবাদ সম্মেলনে আসে জিপি। এবার বিটিআরসির এই উদ্যোগকে জবরদস্তি উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানায় তারা।

এখানেও রবি কোনো সংবাদ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা না করলেও বিষয়টিতে বিবৃতি দিয়ে বলে জানায় এটি সমস্যা সমাধানে সহায়ক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। তারা বলে আলোচানার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে না বের করতে।

এই অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে আদালতে চলে যায় তারা।

এবার লাইসেন্স বাতিলের কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেয় দুই অপারেটর।

৩ অক্টোবর বিটিআরসিকে দেয়া ওই নোটিশে তারা বলে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন তাই এই বিষয়ে বিটিআরসি এমন কারণ দর্শানো নোটিশ দিতে পারে না। টেলিযোগাযোগ আইনের ২৬ ধারা বাদ দিয়ে ৪৬ ধারায় চলে গেছে বিটিআরসি। এখানে অন্য লাইসেন্সিংয়ের মতো আচরণ তাদের সঙ্গে করা হয়নি বলে উল্লেখ করে অপারেটর দুটি।

এসবের মধ্যে সমস্যা সমাধানে প্রথমে অর্থমন্ত্রী এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা আলাদা পদক্ষেপ নেন। কিন্তু তাতেও সমস্যার সুরাহা হয়নি। বিষয়টি গড়ায় আইন-আদালতে।

এদিকে বিষয়টি এতটাই বড় হয়ে যায়, অডিট আপত্তির পাওনা নিয়ে আরবিট্রেশনের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ পর্যন্ত দিয় গ্রামীণফোনের মূল কোম্পানি টেলিনর।

এছাড়া বিনিয়োগকারীরা আন্তর্জাতিক আদালতে বিষয়টি নিয়ে যেতে পারে এমন কথা জানায় অপারেটর দুটি।

তবে এখন পর্যন্ত আপিল বিভাগ মোট পাওনা দাবি হতে গ্রামীণফোনকে দুই হাজার কোটি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে আদেশ দিয়েছেন। আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময় তিন মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করতে পারলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে বিটিআরসি।

আর রবির বিষয়টি এখনও আদালতের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

এডি/২০১৯/২৮ডিসেম্বর/১৭০০

*

*

আরও পড়ুন