Header Top

'ওয়ান আইডিয়া, ওয়ান মিলিয়ন ডলার'

দেশের স্টার্টআপসহ নানা বিষয়ে টেকশহরের সঙ্গে আলোচনায় সোনিয়া বশির কবীর। ছবি : টেকশহর
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সিলিকন ভ্যালিতে একটা সময় একটি আইডিয়া দিলে এক মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতো বলে জানিয়েছেন সোনিয়া বশির কবীর। 

‘সিলিকন ভ্যালিতে কিন্তু বিনিয়োগকারীরা বসেছিল, ওয়ান আইডিয়া, ওয়ান মিলিয়ন ডলার। আমি যখন সিলিকন ভ্যালিতে ছিলাম তখন আইডিয়া ইজ ওয়ান মিলিয়ন ডলার’। 

টেকশহরডটকমের অতিথি হয়ে এসে এসবিকে ফাউন্ডেশন ও এসবিকে টেক ভেঞ্চারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সোনিয়া বশির কবীর এসব কথা জানান।

সোনিয়া বশির কবীর বলেন, আমি দীর্ঘ ১৫ বছর কাজ করেছি সিলিকন ভ্যালিতে। সেখানে দেখেছি, শিখেছি। সেখান থেকেই আমি মনে করেছি আমার দেশের মানুষকে প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে হবে। সেটাকেই আমি প্যাশন হিসেবে নিয়েছি।   

প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফটের পাঁচ দেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন সোনিয়া বশির কবীর। সম্প্রতি তি মাইক্রোসফট থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মাইক্রোসফট ছাড়ার মূল কারণ নিজের প্যাশনকে গুরুত্ব দেওয়া। আমার প্যাশন হচ্ছে তরুণদের সঙ্গে কাজ করা, নারীদের সঙ্গে কাজ করা প্রযুক্তি নিয়ে। আর সে কারণেই মাইক্রোসফট ছাড়া।

বর্তমানে সোনিয়া বশির কবীর ২৭টি স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেছেন। যার মধ্যে ১৩টিতে তিনি সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ১৪টিতে অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর হিসেবে কাজ করছেন তিনি। 

বর্তমানে তিনি এসবিকে ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠান করে সবগুলো স্টার্টআপকে একটি ছাতার নিচে এনেছেন। যাতে এগুলো নিয়ে কাজ করা আরও সহজ হয় বলেও জানান। 

বর্তমানে এসবিকে ফাউন্ডেশন সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) ও ইয়াং বাংলার সঙ্গে দেশের ৬৪ জেলায় টেকহাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রযুক্তি সেবা ও ই-কমার্সের পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে বলেও জানান। এসব হাবের মাধ্যমেও উদ্যোক্তা তৈরি করার কথা জানান তিনি। 

সম্প্রতি সোনিয়া বশির কবীর জাতীয় দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর আইসিটি অ্যাওয়ার্ডে ‘আইসিটি পারসন অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পেয়েছেন। 

তিনি এখন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করছেন। সোনিয়া বলেন, এখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গবেষণা ও উন্নয়ন বাড়ানোর জন্য কাজ করছি। এটা করা গেলে শিক্ষার সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির যোগসূত্র করা সহজ হবে বলে।

‘সিলিকন ভ্যালিতে কিন্তু বিনিয়োগকারীরা বসেছিল, ওয়ান আইডিয়া, ওয়ান মিলিয়ন ডলার। আমি যখন সিলিকন ভ্যালিতে ছিলাম তখন আইডিয়া ইজ ওয়ান মিলিয়ন ডলার’। 

আমাদের দেশে কিন্তু লোকাল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড এটা এখনো এস্টাবিলিশ হয় নাই। লোকাল কারো কাছে যদি যাই ভাই এই স্টার্টআপকে টাকা দেন, আমি যদি নিজে যাই তখন বিশ্বাস করে। কিন্তু অন্য কেউ গেলে সেটা দেবে না। তারা বলবে, এরা টাকা নিযে কি করবে তার তো ঠিক নাই। 

সিলিকন ভ্যালিতে সিড ফান্ডিং এক মিলিয়ন ডলার থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। বাংলাদেশে স্টার্টআপের ক্ষেত্রে কিন্তু ১০ কোটি টাকা জোগাড় করা কঠিন না। কিন্তু যখন ৩০ কোটি, ৫০ কোটি টাকা জোগাড় করতে যাওয়া হয় তখন কিন্তু পারে না। এজন্য আমি চাই, এসবিকে টেক ভেঞ্চার থেকে যেহেতু পেরেছি, তাই ডিপ ফান্ডিং করে অল্প করে টাকা দশ জনকে না দিয়ে এক জনকে দিয়ে তাকে এস্টাবিলিশ করা।

এছাড়াও এর মাধ্যমে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের এদেশের স্টার্টআপের উপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করা। 

এসব ছাড়াও সোনিয়া বশির কবীর দেশের স্টার্টআপ সংস্কৃতি, বিভিন্ন স্টার্টআপ প্রতিযোগিতাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। 

বিস্তারিত আলোচনা শুনতে পাবেন নিচের ভিডিওতে। টেকশহরের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে সঙ্গে থাকুন আরও আলোচনা পেতে ও আগের আলোচনা দেখতে। 

ইএইচ/ ডিসে ২৩/ ২০১৯/ ২০০০ 

*

*

আরও পড়ুন