Techno Header Top

জাপানিদের একাকিত্বে সঙ্গ দিচ্ছে রোবট

অতীতের কথা মনে রাখতে পারে জাপানি রোবট এরিকা। ছবি : জাপান টুডে
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মানুষ নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করতে পারে না। তাই তারা সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করে।

কিন্তু জাপানে এই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। দিন যত যাচ্ছে জাপানিরা তত একাকীত্বে ভুগছে। সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করতে তারা কোনো সঙ্গী খুঁজে পাচ্ছে না। এর জন্য তাদের স্বভাবও কিছুটা দায়ী। প্রকৃতিগতভাবেই তারা বেশ চাপা স্বভাবের। এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ৫ জনে ১ জন কখনও বিয়ে করেন না কারণ তারা ‘ডেট’ করার সুযোগ পান না। ফলে দেশটির প্রায় ১৪ শতাংশ মানুষ একা থাকেন। শেষ বয়সে ঘরের ভেতরে মৃত্যু হলে কেউ টেরও পায় না। এসব সংকটের কারণেই জাপানে রোবটের চাহিদা বাড়ছে। এই রোবট কাজ করার জন্য নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক কষ্ট লাঘবের জন্য বানানো হয়।

জাপানীদের তৈরি ‘সঙ্গী রোবট’ নিয়েই বিস্তারিত থাকছে এবারের প্রতিবেদনে।

কিরোবো মিনি

জাপানি অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান টয়োটার তৈরি রোবটটিকে যাত্রা সঙ্গী হিসেবে সঙ্গ দেবে। গাড়ির পাশাপাশি বাড়ির ভেতরেও রোবটটি ব্যবহার করা যাবে। কিরোবো মিনির ভয়েস ও স্পিচ রিকগনিশন, ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং ও ফেশিয়াল রিকগনিশনের ক্ষমতা আছে। ১ কেজি ওজনের রোবটটিকে কোলে তুলে নেওয়া মাত্র তা কাঁপবে। এটি মানুষের আবেগ অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারবে। রোবটটিকে ছোট বাচ্চাদের মতো করেও বসিয়ে রাখা যাবে।

লোভোট

বিড়ালের মতো ছোট আকারের রোবটটি ২০১৯ সালের কনজিউমার ইলেক্ট্রনিক শোতে সেরার খেতাব অর্জন করে। তেমন কিছু করতে না পারলেও শুধু কথা বলার কারণেই রোবটটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চাইলে রোবটটিকে জড়িয়ে ধরা যায়, বাচ্চাদের মতো কোলেও নেওয়া যায়।

রোবোটিক্স ভেঞ্চার কোম্পানি গ্রোভ এক্স ইনক এটি তৈরি করেছে। এর মাথার একটি থার্মোগ্রাফিক ক্যামেরা থাকায় বেবি মনিটর হিসেবেও রোবটটি ব্যবহার করা যায়। লোভোটকে আশেপাশের মানুষের গতি ট্র্যাক করতে দেয়। এতে ৫০টি স্পর্শকাতর সেন্সর আছে। এর চোখে আছে এলসিডি ডিসপ্লে।

এরিকা 
সুন্দরী  এই রোবটের সঙ্গে মন খুলে কথা বলা যাবে। কারণ এটি চিন্তা-ভাবনা করে বিস্তারিতভাবে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। আগের কথাও মনে রাখতে পারে।

ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স ল্যাবরেটরির পরিচালক হিরোশি ইশিগুরো রোবটটি ২০১৫ সালে তৈরি করেছেন। টিভিতে নিউজের হেডলাইন পড়ে ইতোমধ্যেই হিউম্যানয়েড রোবটটি পরিচিত হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে হয়তো রোবটটি আরও সাবলীলভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবে।

রোবিয়ার
ভালুকের মতো দেখতে রোবটটি রোগীকে বিছানা থেকে হুইলচেয়ারে বসাতে পারে, দাঁড়ও করাতে পারে। ১৪০ কেজি ওজনের রোবটটির প্রধান কাজই বৃদ্ধ বা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তা করা। রিকেন  ও সুমিটোমো রিকো কোম্পানির বিজ্ঞানীরা এই নার্সিং কেয়ার রোবট তৈরি করেছেন।

প্যারো 

বেবি সিল রোবট আকারের রোবটটি মানসিক শান্তি প্রদানের জন্য তৈরি করা হয়েছে। স্পর্শ করলেই এটি লেজ নাড়িয়ে ও চোখ পিটপিট করে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। পোষা প্রাণীগুলোর মতো, মানুষের মন থেকে প্যারো হতাশা ও উদ্বেগ দূর করতে ভূমিকা রাখে।

১৯৯৩ সালে জাপানের ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম রিসার্চ ইন্সটিটিউটের তাকানোরি শিবাতা প্যারো রোবটটি ডিজাইন করেছিলেন। জনসম্মুখে রোবটটি প্রদর্শন করা হয় ২০০১ সালে।

জাপানটুডে অবলম্বনে পিএন/ এজেড/ ডিসেম্বর ২৩/২০১৯/১৫৫০

*

*

আরও পড়ুন