রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ দিয়েছে জিপির মূল কোম্পানি টেলিনর

গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয় জিপি হাউজ। ছবি : টেকশহর
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অডিট আপত্তির পাওনা নিয়ে আরবিট্রেশনের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ দিয়েছে গ্রামীণফোনের মূল কোম্পানি টেলিনর।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের আইনি সংস্থার মাধ্যমে এ উকিল নোটিশ দেয় টেলিনর । বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে টেলিকম সাংবাদিকদের সংগঠন টিআরএনবির এক সভায় এ তথ্য জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

টিআরএনবির সভাপতি মুজিব মাসুদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল আনোয়ার খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় সংগঠনটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মন্ত্রী বলেন, সিঙ্গাপুরের আইনি সংস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া এ উকিল নোটিশ গ্রহণযোগ্য না।

‘বাংলাদেশে ব্যবসা করবে আবার তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ দেবে, আরবিট্রেশনের জন্য চাপ দেবে, এটা এত সহজে গ্রহণ করার মত অবস্থা না। যে নোটিস দেওয়া হয়েছে, সেটি নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত অবহিত রয়েছে’ বলছিলেন মন্ত্রী।

এই উকিল নোটিশ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, আদালতে মামলা চলাকালীন অবস্থায় আরবিট্রেশন করার ‍সুযোগ নাই। আদালত যদি হুকুম দেয় তাহলে করতে পারব। আর যে দেশে বিজনেস করে সেখানকার আইন আদালত অমান্য করে দুনিয়ার কোনো জায়গায় গিয়ে অন্য বিচার পাওয়ার সম্ভবনা নেই।

বিষয়টি নিয়ে টেলিনর গ্রুপের এশিয়া রিজিয়নের কমিউনিকেশন্স পরিচালক ক্যাথরিন স্ট্যাং লন্ড জানান, প্রক্রিয়াটিতে গ্রামীণফোন কোনো পক্ষ নয় । বাংলাদেশে নিজেদের সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা টেলিনর গ্রপের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ । অডিট আপত্তির বিষয়টি স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি করার উদ্দেশ্যে একটি গঠনমূলক সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আলোচনার আহবান জানাতেই এই নোটিশ প্রদান করে টেলিনর।

‘দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির মধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টি রয়েছে। টেলিনর গ্রপ বিশ্বাস করেএকটি স্বচ্ছ ও গঠনমূলক সমাধান নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ এবং অপারেটর এক যোগে কাজ করতে সম্মত হওয়াই এই অডিট বিরোধ নিষ্পত্তির সর্বোত্তম পন্থা’ উল্লেখ করেন স্ট্যাং লন্ড।

এর আগে গত ২৪ নভেম্বর আপিল বিভাগ গ্রামীণফোনকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দাবি করা ১২ হাজার ৫৯৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকার মধ্যে দুই  হাজার কোটি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে এ আদেশ দিয়েছেন।

আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময় তিন মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করতে পারলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে বিটিআরসি।

গ্রামীণফোনের জন্ম থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অডিট করে বিটিআরসি। বেসরকারি অডিটদের করা ওই নিরীক্ষায় অপারেটরটির কাছে ১২ হাজার ৫৯৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা কমিশনের পাওনা বলে উঠে আসে।

চলতি বছর ওই টাকা দাবি করে কমিশন গ্রামীণফোনকে চিঠি দেয়।

এদিকে গ্রামীণফোন শুরু থেকেই এই দাবিকে অযৌক্তিক বললেও সম্প্রতি তারা বলছেন, তাদের কাছ থেকে জাের করে টাকা নিতে চাইছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

পর্যায়ক্রমে দেশের আদালতে যাওয়ার পাশাপাশি অপারেটরটি তাদের বিনিয়োগকারীদরে মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানিতে যাওয়ার বিষয়ে একটি নোটিসও সরকারকে পাঠায়।

অন্যদিকে  টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসি অপারেটরটির এই বক্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলছে।

এসবের আগে টাকা দাবি করার পর থেকে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। এর মধ্যে ব্যন্ডউইথ কমিয়ে দেওয়া এবং ২২ জুলাই থেকে অপারেটর দুটি যাতে আর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন সেবা নিয়ে আসতে না পারে সে জন্য তাদের সব অনুমোদন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অডিট সংক্রান্ত এ সমস্যা সমাধানে প্রথমে অর্থমন্ত্রী এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা আলাদা পদক্ষেপ নিলেও তাতে সমস্যার সুরাহা হয়নি।

এডি/এজে/ ২০১৯/১৩৫২

*

*

আরও পড়ুন