আবার এসএমপিতে আটকাচ্ছে জিপি

GP-BTRC-TechShohor
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিপুল বকেয়া নিয়ে বিটিআরসির সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে থাকা গ্রামীণফোন এবার এসএমপির খড়গে পড়তে যাচ্ছে।

কেননা এসএমপি নিয়ে আদালতের নির্দেশনা নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষেই যাচ্ছে।  

আগামী কিছুদিনের মধ্যে আবারও সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার বা এসএমপি’র বাধার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে গ্রামীণফোন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রামীণফোনকে এসএমপি বা একচেটিয়া অপারেটর হিসেবে ঘোষণার পর মে মাসে চারটি বিধিনিষেধ দিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

বিধিনিষেধের বিষয়ে কিছু না বললেও নির্দেশনা জারির প্রক্রিয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে যায় দেশ সেরা অপারেটরটি।

রোববার উচ্চ আদালত আইনগত সেই প্রক্রিয়া শেষ করেছে। আদালত এ প্রক্রিয়ায় দুটি সংশোধনীসহ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আবারো নির্দেশনা জারি করতে বলেছেন।

হাইকোর্টে বিচারপতি ফারহা মাহবুবের একক বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদেশের লিখিত কপি পেলে কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রামীণফোন এসএমপি’র বিষয়ে কড়া নির্দেশনা পেয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন, বিটিআরসি’র আইনজীবী ব্যারিস্টার রেজা-ই রাকিব।

আইনজীবী রাকিব জানান, বিটিআরসি গ্রামীণফোনকে যে প্রক্রিয়ায় এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করেছে সেটির সঙ্গে আদালত একমত হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ওপর যে চারটি বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল সেগুলোও আগের মতোই রাখতে বলেছে।

তবে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারির প্রক্রিয়াগত বিষয়ে কিছুটা সংশোধনী দিয়েছেন আদালত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সেক্ষেত্রে গ্রামীণফোনকে ১৫ দিনের সময় দিয়ে বিটিআরসি নতুন করে নির্দেশনা জারি করবে। পরে অপারেটরটির জবাব পাওয়ার পর সেটির ভিত্তিতে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

গত মে মাসে এ বিষয়ে বিটিআসি যে চারটি বিধিনিষেধ ঠিক করেছিল তার মধ্যে গ্রামীণফোনের জন্য সর্বনিম্ন কলরেট ৫ পয়সা বাড়িয়ে সর্বনিন্ম ৫০ পয়সা করতে বলা হয়েছে। যদিও অন্য সব অপারেটরের জন্য সর্বনিন্ম কল রেট প্রতি মিনিটে ৪৫ পয়সা। ভ্যাটসহ যেটি ৫৪ পয়সার মতো পড়ে।

গ্রামীণফোনের খরচ ৫ পয়সা বেশি হওয়ায় তা ভ্যাটসহ ৬১ পয়সার কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়াবে।

দ্বিতীয় বাধা হিসেবে গ্রামীণফোনের আন্তঃসংযোগ চার্জ ৫ পয়সা বাড়িয়ে ১৫ পয়সা করতে বলা হয়েছে। এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে কল গেলে সেটির জন্য কল গ্রহণকারী  অপারেটরে কল এখন প্রতি মিনিটের জন্য ১০ পয়সা করে পায়।

এসএমপি চালু হলে গ্রামীণফোন অন্য অপারেটর থেকে কল আসলে প্রতি মিনিটের জন্য ১০ পয়সা করে পেলেও তাদের কল অন্য অপারেটরে গেলে ১৫ পয়সা করে প্রদান করবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্রামীণফোন অনেক বড় অপারেটর হওয়ায় তারা অন্যদের কাছ থেকে অনেক বেশি কল পায়। ফলে এখান থেকে তাদের আয় বছরে ৭০০ কোটি টাকার ওপরে।

বিটিআরসি গ্রামীণফোনের এই আয় সীমিত করতে এবং ছোট অপারেটরকে খানিকটা বাড়তি সুবিধা দিতে এই বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলছে।

তৃতীয় বিধিনিষেধ হিসেবে রাখা হয়েছে, মোবাইল নাম্বার পোর্টাবিলিটির লকিং পরিয়ড কমিয়ে ৩০ দিনে আনা। বর্তমান নিয়মে এক অপারেটর থেকে এমএনপি ব্যবহার করে অন্য অপারেটরে গেলে অন্তত ৯০ দিন সেখানে থাকতে হয়। তবে কেউ এসএমপি অপারেটর বলে জিপির নেটওয়ার্কে কেউ গেলে তার লকিং পরিয়িড হবে ৩০ দিন।

তাছাড়া বিভিন্ন প্যাকেজ, সার্ভিস, অফার অনুমোদনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে গ্রামীণফোনের ওপর। বিটিআরসি গ্রামীণফোনের সব প্যাকেজ অনুমোদন নাও করতে পারে।

বিটিআরসি’র নিয়ম অনুসারে কোনো অপারেটরের গ্রাহক বা আয় বাজারের ৪০ শতাংশের ওপরে হলেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাকে এসএমপি বা একচেটিয়া অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে দিতে পারবে।

চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারিতে গ্রামীণফোনকে এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি চারটি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

কিন্তু বিষয়টি নিয়ে গ্রামীণফোন আদালতে গেলে বিটিআরসিকে এর কারণ জানাতে বলে। এরপর ১৯ মার্চ আগের বিধিনিষেধ বাতিল করে কমিশন।

বিধিনিষেধ সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে প্রক্রিয়াটি নতুন করে শুরু করে কমিশন।

এসএমপি ঘোষিত অপারেটরের জন্য সব মিলে ২০টি বিধিনিষেধের একটি তালিকাও করেছে বিটিআরসি, যা সময় সময়ে তারা জারি করবে।

শেষ পর্যন্ত এটি নিয়েও আদালতে যায় গ্রামীণফোন। এবারও আদালত কিছু সংশোধনী দিয়ে আগেরগুলোই বহাল রাখে। এ কারণে এবার আর বিটিআরসিকে নতুন করে কিছু শুরু করতে হবে না বলে জানান ব্যারিস্টার রাকিব।

জেডএ/আরআর/ ১৬ ডিসেম্বর/০১.০৩

আরও পড়ুন –

এসএমপির নতুন বিধিনিষেধে জিপির কলরেট বাড়ছে 

এসএমপিতে ভয় না পেলেও দুশ্চিন্তায় জিপি

*

*

আরও পড়ুন