চেন্নাই টু অ্যালফাবেট 'সুন্দর পথ'

pichai-techshohor
গুগলের এক ইভেন্টে অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই। ছবি : ইন্টারনেট
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ ও সার্গেই ব্রিন যখন সুন্দর পিচাইকে অ্যালফাবেটের সিইও হওয়ার প্রস্তাব দেন তখন তিনি বেশ অবাক হয়েছিলেন।

গুগল পণ্য তৈরি নিয়েই তিনি সব সময় ব্যস্ত ছিলেন। সামনে কী অপেক্ষা করছে তা তিনি ভাবতেও পারেননি। অ্যালফাবেটের সিইও হওয়ার আকাঙ্ক্ষাও কখনো ছিলো না বলে জানিয়েছেন সুন্দর পিচাই।

গুগলের মতো বিশাল একটি প্রযুক্তি কোম্পানিকে নেতৃত্বদানে সফল হওয়ার কারণেই হয়তো গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ ও সার্গেই ব্রিন তার উপর ভরসা রেখেছেন। নিজেদের পদ ছেড়ে সুন্দর পিচাইয়ের কাঁধে তুলে দিয়েছেন বিশাল দায়িত্ব।

ভারতের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া সুন্দর পিচাই যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম লাভজনক কোম্পানির সিইও হতে যে ধাপগুলো পার হয়েছেন তা নিয়েই সাজানো হলো এবারের ফিচার।

অ্যালফাবেট

৩ ডিসেম্বর এক যৌথ বিবৃতিতে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন সার্গেই ব্রিন ও  সিইও ল্যারি পেইজ ছিলেন। অ্যালফাবেটের নতুন সিইও হিসেবে তারা ঘোষণা করেন গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইয়ের নাম।

গুগলের সিইও

গুগলেই তার ১৫ বছরের বেশি কেটেছে। টেক জায়ান্টটির সিইওর পদ পেয়েছেন চার বছর আগে। দিনটি ছিলো ২০১৫ সালের ১০ আগস্ট। গুগলের সিইও হওয়ার এক বছরে আগেই তিনি মাইক্রোসফটের সিইও হতে পারতেন। কারণ সফট জায়ান্ট মাইক্রোসফটের সিইও হিসেবে সুন্দর পিচাইয়ের নামও সুপারিশ করা হয়েছিল। পরে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয় সত্য নাদেলাকে।

গুগলে চাকরি

 সুন্দর পিচাই গুগলে যোগ দেন ২০০৪ সালে। যেদিন ভাইস প্রেসিডেন্ট অব প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট পদে পরীক্ষা দিয়েছিলেন সেদিনই জিমেইল চালু করে গুগল। তাই জিমেইল সম্পর্কে তার ধারণা কী তা জানতে চাওয়া হয়।

উত্তরে পিচাই জানান, তিনি কখনও জিমেইল ব্যবহার করেননি। একারণে বলতে পারবেন না এটা কেমন। এরপরের ধাপের ইন্টারভিউতেও তাকে জিজ্ঞেস করা হয় জিমেইল দেখেছেন কিনা। উত্তরে তিনি ‘না’ বললে তাকে জিমেইল খুলে দেখানো হয়। এরপরেই তিনি জিমেইলের ব্যাপারে কথা বলতে শুরু করেন।

গুগলে তার অর্জন

সার্চ, ম্যাপস,গুগল প্লাস, ব্যবসা, বিজ্ঞাপন ও অবকাঠামো নিয়ে কাজ করার ফলে গুগলের প্রতিটি সেক্টর সম্পর্কেই সুন্দর পিচাইয়ের অভিজ্ঞতা আছে। চার বছর আগে যখন সিইও হন তখন গুগলের আয় ছিলো ৭৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এখন গুগলের আয় ১৩৬ বিলিয়ন ডলার। পিচাইয়ের আমলে গুগলের মূলধন বেড়েছে ৪৩৭ বিলিয়ন ডলার। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হবে গুগল।

প্রথম চাকরি

তিনি ক্যারিয়ার শুরু করেন অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস নামে একটি প্রযুক্তি কোম্পানিতে। এরপরে তিনি চাকরি করেন ম্যাকেন্সি অ্যান্ড কোম্পানিতে।

লেখাপড়া

প্রযুক্তি ভালবাসতেন বলেই তিনি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশুনা করেন। তিনি ব্যাচেলর ডিগ্রি নেন ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) থেকে। এরপর এমএস করতে চলে যান আমেরিকায়। সেখানে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তিনি ম্যাটেরিয়াল সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপরে এমএস ডিগ্রি নেন। পরে তিনি ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে এমবিএ ডিগ্রি নেন।

বেড়ে ওঠা

চেন্নাইয়ের অশোক নগরে দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটে তিনি বড় হয়েছেন। মুখস্থ করার বা পড়া মনে রাখার অসাধারণ ক্ষমতা থাকায় ছোটবেলাতেই তার নাম ডাক ছড়িয়ে পড়েছিলো। টেলিফোনে ডায়াল করা প্রতিটি নম্বর তার মনে থাকতো। যদিও টেলিফোন কেনার জন্য তাদেরকে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। আইআইটিতে পড়াকালীন কালেভদ্রে তিনি কম্পিউটার ধরার সুযোগ পেয়েছেন। নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তিনি কম্পিউটার কেনেন যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসার পর।

জন্ম

*

*

আরও পড়ুন