উদ্যোক্তা হতে ঝুঁকি নিতে হবে : পলক

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : উদ্যোক্তা হতে তরুণদের ঝুঁকি নেবার কথা বলেছেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

তিনি বলেন, আমাদের স্থানীয় বাজার বিশাল বড়। এই বাজারে নিজেদের সফলতার পরিমাণও বাড়বে। আমাদের স্থানীয় যেসব সমস্যা রয়েছে এর সবগুলোর প্রযুক্তিগত সম্ভাবনার পণ্যগুলো উদ্ভাবকরা নিয়ে আসবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এটুআই আয়োজিত ‘উদ্ভাবকের খোঁজে সিজন ২’ এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জুনাইদ আহমেদ পলক।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবেই আমরা বাংলাদেশীরা ঝুঁকি নিতে পছন্দ করি। সেটা যদি বলি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সবকিছুতেই আমরা ঝুঁকি নিতে পছন্দ করি। সেগুলোতে সফলও হই।

পলক বলেন, ২০০৮ সালে যখন সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ সরকার তখন উদ্ভাবকের খোঁজে বা এমন কোনো উদ্ভাবন খোঁজা হয়নি। কিন্তু যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন শুরু হলো তখন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এমন উদ্ভাবন খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, তরুণদের সামনে স্বপ্ন পূরণের ঠিকানা ছিল তিনবেলা খেয়ে পরে একটা চাকরি করে বেঁচে থাকা। যখন থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা করা হলো, তখন থেকেই আমরা কিভাবে দেশের উদ্ভাবন দিয়ে দেশের চাহিদা মেটানো যায় তার জন্য কাজ করতে থাকলাম আমরা। তরুণদের উৎসাহ দেওয়া হলো।

গ্র্যান্ড ফিনালে থেকে যেসব উদ্ভাবন উঠে এসেছে তাদের সফল করতে সব ধরনের সহায়তার কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন বা এটুআই আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।  

তিনি বলেন, যেসব উদ্ভাবন আজ দেখেছি এগুলোকে সফল ব্যবসায়িক উদ্যোগ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।

উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করার ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে টাকাগুলো কিভাবে উদ্ভাবকের খোঁজে সিজন ২ এর প্রতিযোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে তার দায়িত্ব দেওয়া হয় এটুআইকে।

গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে আটটি উদ্ভাবন বিচারকদের সামনে তুলে ধরা হয়।

পরে আটটি উদ্ভাবনকেই উদ্যোগ এগিয়ে নিতে সিড ফান্ড বা প্রাথমিক বিনিয়োগ দেওয়া হয়।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে চাহিদা সম্পন্ন ও ব্যবসাসফল বিবেচনায় ‘স্মার্ট হোয়াইট কেন’ এর জন্য আহসান হাবিবকে দেওয়া হয় ২০ লাখ টাকার বিনিয়োগ চেক। এছাড়াও তাকে আরও ৫ লাখ টাকা দেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের আইডিয়া প্রকল্প থেকে।

ফ্রি ফল উদ্যোগের জন্য ইমতিয়াজ উদ্দিনকে দেওয়া হয় ২০ লাখ টাকার সিড মানি।

ইউপিক্স পণ্যের জন্য নওশীন জাহান ও তার দল পায় ১০ লাখ টাকার বিনিয়োগ। জুট সাইকেল উদ্ভাবনে আবু নোমান সৈকতকে ১০ লাখ টাকার বিনিয়োগ দেওয়া হয়। ‘রিফাইন্স টিক পোর্টেবল ফিল্টার’ উদ্ভাবনের জন্য রাকিন হাসান প্রত্যয়, মোস্তাফিজুর রহমান পান দশ লাখ টাকা।

আরাফ ইশরাককে তার উদ্ভাবন ‘কসমিস আর্টিফিসিয়াল ইন্টেজেন্ট রোবট’ উদ্ভাবনের জন্য ৫ লাখ টাকার সিড মানি দেওয়া হয়।

টিউব ইন এমব্যাঙ্কমেন্ট উদ্ভাবনের জন্য তৌহিদুল ইসলামকে ৫ লাখ টাকা। ‘টেক্সট অ্যান্ড ভয়েজ টু ব্রেইল ট্রান্সলেটর’ উদ্ভাবনে ফাল্গুন সেন ও অপু পান ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এনএম জিয়াউল আলম, এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইসর আনীর চৌধুরী, প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, ইউএনডিপির বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জীসহ আরও অনেকে।

ইএইচ/ সে ০৩/ ২০১৯/ ১৯৩৫

*

*

আরও পড়ুন