শুধু ইন্টারনেটের জন্য

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কঙ্গোর রাজধানী কিনসাসায় মাসিক আয়ের ২৬ শতাংশ খরচ হয় মোবাইল ইন্টারনেটের পেছনে। এই খরচের কারণে প্রায়ই বিপদে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।

সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র বনহিউর মালেঙ্গা যেমন গত মাসে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না, থিসিস তৈরির জন্য অনলাইনে কাজ করতে ২৪ ঘণ্টা মেয়াদি ইন্টারনেট প্যাক কিনবেন নাকি না খেয়ে থাকবেন। পরে তিনি না খেয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের মনকে প্রবোধ দেন এই বলে যে এক দিন বা এক রাত না খেলে কেউ মরে যায় না। ইন্টারনেট কেনায় সে রাতে তাকে খালি পেটেই ঘুমাতে হয়।

মালেঙ্গার ভাগ্য তাও ভালো বলতে হয়। কিনসাসা পূর্ব দিকে অবস্থিত বুকাভু শহরে এরিক কাসিঙ্গা নামের এক ব্যক্তির জীবনে ইন্টারনেট নিয়ে ঘটেছে হৃদয় বিদারক এক ঘটনা।

কয়েক বছর আগে তিনি স্থানীয় সাইবার ক্যাফেতে বসে নেদারল্যান্ডের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করছিলেন।

ইন্টারনেটের গতি এতোটাই কম ছিলো যে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করতে এক ঘণ্টার বদলে তার সময় লেগে যায় ৩ ঘণ্টা। তার সঙ্গে যে টাকা ছিলো তা দিয়ে শুধু এক ঘণ্টার খরচ মেটানো সম্ভব ছিলো।

সময় বেশি লাগায় খরচ বেড়েছে, বাড়তি টাকা তার সঙ্গে নেই বিষয়টি সাইবার ক্যাফের ম্যানেজারকে বলে কোনো লাভ হয়নি। টাকা পরে শোধ দেওয়ার কথা বলেও রেহাই পাননি। ম্যানেজার উচ্চস্বরে তাকে বলতে থাকেন, গরিব মানুষের জন্য ইন্টারনেট নয়।

এরপরে পায়ে থাকা নতুন জুতা ম্যানেজারের কাছে জমা দিয়ে সেখান থেকে বিদায় নেন কাসিঙ্গা। বাড়ি যান খালি পায়ে হেঁটে।

পরে ওই আবেদনপত্রের বিষয়ে আর কোনো খোঁজ নেননি তিনি। জুতা ফিরিয়ে আনতে ম্যানেজারকে টাকা দিতে গিয়ে শোনেন তা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনায় মানসিক আঘাত পান কাসিঙ্গা। এখন তিনি কঙ্গোরই একটি সংস্থায় চাকরি করেন।

তার মতে, শুধু ইন্টারনেটের জন্য কারও সঙ্গে এরকম ঘটনা ঘটা উচিত না।

ইন্টারনেট যখন বিলাস পণ্য

কঙ্গো খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। এই খনিজ পদার্থ দিয়েই স্মার্টফোন তৈরি হয়। কিন্তু তাতে সাধারণ জনগণ কোনো সুবিধা পায় না। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়াই তাদের জন্য কঠিন।

২০১৬ সালে ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসংঘ। কিন্তু কঙ্গোতে ইন্টারনেটকে বিলাস পণ্য হিসেবে ধরা হয়।

দেশটির টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেশন অথোরিটির হিসাবে মাত্র ১৭ শতাংশ জনগণ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।

কেন লাগামহীন খরচ?

ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম কতো হওয়া উচিত তা টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিটির পরিচালনা খরচ ও সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যার উপর নির্ভর করে। পরিচালনা খরচ ও সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যার হিসাব করে ভয়েস কলের খরচ কেমন হবে তা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেট ডেটার ক্ষেত্রে এমন কোনো হিসাব করেনি টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিগুলো। এ কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাও লাগাম টেনে ধরতে পারে না।

কোনো বিধি-নিষেধ না থাকায় ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিগুলো।

প্রতিযোগিতার অভাব ও ট্যাক্সের বোঝাও বিশাল সমস্যা। টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিগুলোকে জাতীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয় পর্যায় ট্যাক্স দিতে হয়। এই ট্যাক্সের বোঝা তারা চাপিয়েছে জনগণের উপর।

বিবিসি অবলম্বনে এজেড/ নভেম্বর ২৪/২০১৯/১৩৫৫

*

*

আরও পড়ুন