Techno Header Top

জিপিকে ২০০০ কোটি টাকা দিতে আদালতের নির্দেশ

GP-BTRC-TechShohor
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আগামী তিন মাসের মধ্যে এ পরিমাণ টাকা দিতে না পারলে বিটিআরসি অপারেটরটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

আপিল বিভাগ রোববার গ্রামীণফোনকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দাবি করা ১২ হাজার ৫৯৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকার মধ্যে দুই  হাজার কোটি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে এ আদেশ দিয়েছেন।

আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করতে পারলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে বিটিআরসি।

বিটিআরসির আইনজীবী ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই রাকিব জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে এর আগে হাইকোর্ট প্রশাসক নিয়োগ ও টাকা দেওয়ার বিষয়ে যে আদেশ দিয়েছেন তা স্থগিত হয়ে যাবে। তখন বিটিআরসি চাইলে গ্রামীনফোনে প্রশাসক নিয়োগসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এদিকে গ্রামীণফোনের আইনজীবী ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী জানিয়েছেন, তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করবেন।

এর আগে আপিল বিভাগ গ্রামীণফোনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তারা এখন বিটিআরসিকে কতো টাকা দিতে চায়। তখন অপারেটরটি ২০০ কোটি টাকা দিতে চাওয়ার কথা আদালতকে জানিয়েছিল।

অর্থমন্ত্রী ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকে যে প্রস্তাব এসেছিল সে অনুযায়ী গ্রামীণফোন ওই টাকা দিতে চায় বলে আদালতে জানিয়েছিলেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ গত সপ্তাহে তখন কোনো রায় না দিয়ে এ বিষয়ে আদেশের জন্য রোববার দিন ধার্য করেন।

গ্রামীণফোনের জন্ম থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অডিট করে বিটিআরসি। বেসরকারি অডিটদের করা ওই নিরীক্ষায় অপারেটরটির কাছে ১২ হাজার ৫৯৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা কমিশনের পাওনা বলে উঠে আসে।

চলতি বছর ওই টাকা দাবি করে কমিশন গ্রামীণফোনকে চিঠি দেয়।

এদিকে গ্রামীণফোন শুরু থেকেই এই দাবিকে অযৌক্তি বললেও সম্প্রতি তারা বলছেন, তাদের কাছ থেকে জাের করে টাকা নিতে চাইছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

পর্যায়ক্রমে দেশের আদালতে যাওয়ার পাশাপাশি অপারেটরটি তাদের বিনিয়োগকারীদরে মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানিতে যাওয়ার বিষয়ে একটি নোটিসও সরকারকে পাঠায়।

অপারেটরটি এক বিবৃতিতে বলেছে, বিষয়টি নিয়ে তারা বিস্তারিত মন্তব্য করার জন্য আদালতের লিখিত আদেশের জন্য অপেক্ষা করছে।

তারা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরীক্ষা সংক্রান্ত বিরোধ সমাধানের বিষয়ে তারা গ্রামীণফোনের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করতে চায়। বিটিআরসির ওপর হাইকোর্টের দেয়া নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে এবং ত্রুটিপূর্ণ অডিট রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বিটিআরসি গ্রামীণফোনের ওপর কোনো প্রকার পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।

গ্রামীণফোন আশা করছে, আদালতের ওপর আস্থা রেখে বিটিআরসি হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে এবং গ্রামীণফোনকে পরিকল্পিত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও গ্রাহকদের সেবা প্রদানে বাধা প্রদান করবে না।

গ্রামীণফোনের সঙ্গে আরেক মোবাইল ফোন অপারেটর রবি’র কাছেও বিটিআরসি ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা অডিট বাবদ দাবি করেছে। তারাও হাইকোর্টে রিট করে। আদালত আগে গ্রামীণফোনের রিটের সুরাহার কথা জানিয়েছেন।

টাকা দাবি করার পর থেকে নানা পদক্ষেপ নিয়ে আসছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। এর মধ্যে ব্যন্ডউইথ কমিয়ে দেওয়া এবং ২২ জুলাই থেকে অপারেটর দুটি যাতে আর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন সেবা নিয়ে আসতে না পারে সে জন্য তাদের সব অনুমোদন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অডিট সংক্রান্ত এ সমস্যা সমাধানে প্রথমে অর্থমন্ত্রী এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা আলাদা পদক্ষেপ নিলেও তাতে সমস্যার সুরাহা হয়নি।

জেডএ/আরআর/নভেম্বর ২৪/২০১৯/১০.১৫

আরও পড়ুন –

২০০ কোটি টাকা দিতে চায় গ্রামীণফোন 

জিপি-রবিতে প্রশাসক বসানোর অনুমোদন 

বিটিআরসির পাওনা টাকা জনগণের বলতে নারাজ জিপি

*

*

আরও পড়ুন