২০০ কোটি টাকা দিতে চায় গ্রামীণফোন

grameen-phone-startup-techshohor
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) ২০০ কোটি টাকা দিতে চায় বলে আপিল বিভাগকে জানিয়েছে গ্রামীণফোন। 

অর্থমন্ত্রী ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকে যে প্রস্তাবনা সে  অনুযায়ী ওই টাকা দিতে চায় বলে জানায় অপারেটরটি। 

গ্রামীণফোনের আইনজীবী শেখ ফজলে নূর তাপস বিটিআরসির দাবি ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মধ্যে অপারেটরটি ২০০ কোটি টাকা দিতে রাজি বলে জানান। 

অন্যদিকে বিটিআরসির পক্ষের আইনজীবী এর বিরোধীতা করেন। বিটিআরসির আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে গ্রামীণফোনের কাছ থেকে বিটিআরসির পাওনা আদায়ের ওপর হাইকোর্টের দেয়া নিষেধাজ্ঞা স্থগিত চান। 

পরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ কোনো রায় না দিয়ে এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী সোমবার দিন ধার্য করেন।

বৃহস্পতিবার গ্রামীণফোনের পক্ষে আদালতে আইনজীবী ছিলেন এএম আমিন উদ্দিন, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, মেহেদী হাসান চৌধুরী, শরীফ ভূঁইয়া ও তানিম হোসেইন শাওন। অন্যদিকে বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।

বিটিআরসি অধিকতর নিরীক্ষার পর গ্রাহক সেরা অপারেটরটির কাছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা পাবে বলে দাবি করে আসছে। এ নিয়ে নানান পর্যায়ে আলোচনা হলেও সুরাহা হয়নি।

বিটিআরসি বকেয়া না পেয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে অপারেটরটির এনওসি বন্ধ রেখেছে।

মামলা-মকদ্দমাসহ নানা ইস্যুতে আরও জটিলতার মধ্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এটি সুরাহার উদ্যোগ নিয়ে গ্রামীণফোন ও রবির সঙ্গে বিটিআরসির পাওয়া দাবি নিয়ে গত ৩ অক্টোবর বৈঠক হয়। এরপর নানা উদ্যোগেও কোনো সুরাহা না হলে সবশেষে জিপি-রবিতে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নেয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের মধ্যে আবার গ্রামীণফোন হাইকোর্টে যায় যেখানে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির অডিট আপত্তির দাবি আদায়ে দুই মাসের স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে বিটিআরসির আবেদন করলে দাবির অর্ধেক অর্থ পরিশোধ করতে বলেন আদালত। শেষ পর্যন্ত আদালত জানতে চান, গ্রামীণফোন কত টাকা দিতে পারবে। এজন্য আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুই সপ্তাহ সময় পায় গ্রামীণফোন।

এক বিবৃতিতে গ্রামীণফোন জানায়, মহামান্য আপিল বিভাগ আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন। এর ফলে বিটিআরসির উপর মহামান্য হাইকোর্টের দেয়া নিষেধজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। তারা আশা করছে, আদালতের উপর আস্থা রেখে বিটিআরসি হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে।

গ্রামীণফোন জানায়, বিটিআরসির অডিট সঠিক নয়, তাই এই অডিটের ভিত্তিতে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা বন্ধ করা উচিত। অপারেটরটি আশা করছে, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকদের সেবা প্রদানে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে খুব শিগগিরই বিটিআরসি গ্রামীণফোনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।

অপারেটরটি বলছে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থাপিত অডিট সমাধানের বিষয়ে তাদের আগ্রহ পর্নুব্যক্ত করেছে। গত ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বচ্ছ ও গঠনমূলক সমাধানের প্রক্রিয়ার কথা তারা আদালতে উপস্থাপন করেছে। এই বৈঠকে তাদের উপর বিটিআরসির আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার শর্তসাপেক্ষে প্রস্তাবিত একটি সমন্বয়যোগ্য অর্থ জমা দেয়ার কথা গ্রামীণফোন আদালতে তুলে ধরেছে।

ইএইচ/ নভে১৪/ ২০১৯/ ১৬২০

*

*

আরও পড়ুন