বিটিআরসির পাওনা টাকা জনগণের বলতে নারাজ জিপি

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিটিআরসির পাওনা সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকাকে ‘পাবলিক মানি’ মানতে আপত্তি জিপির।

সোমবার ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মত বিনিময়ে এ বিষয়ে বেশ আপত্তির কথা জানায় অপারেটরটি। সভায় গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি উপস্থিত ছিলেন।

এই পাওনা দাবির টাকাকে বারবার জনগণের টাকা হিসেবে উপস্থাপন করাতে উষ্মা প্রকাশ করে গ্রামীণফোনের (জিপি) ডেপুটি সিইও এবং সিএমও ইয়াসির আজমান বলেন, ‘গত ২২ বছরে অপারেটরটি ৭৩ হাজার কোটি টাকার বেশি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া মোট আয়ের এটি ৫৪ শতাংশ।’

‘এখন বলা হচ্ছে আমরা পাবলিক মানি দিচ্ছি না। আমরা মনে করি এটা ভুল। বিটিআরসি যে অডিট করেছে সেটা ইলিগ্যাল। এখানে যে অ্যামাউন্টটি বলা হয় ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা, এর কোনো লিগ্যাল ব্যাসিস নেই। এটিকে আমরা পাবলিক মানি বলতে পারি না।’ বলছিলেন তিনি।

অপারেটরটির ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত বলেন, এই যে সাড়ে ১২ হাজার কোটি অডিট আপত্তি তা নিয়ে দুই পক্ষের ঐক্যমত নেই। এখানে অডিট প্রক্রিয়া, প্রিন্সিপাল অনেক কিছু ঠিক নেই। তাই এটি পাবলিক মানি হতে পারে না।

‘যখন এই পাওনা দাবির টাকার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হবে তখন ওই প্রেক্ষাপটে তা পাবলিক মানি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে’ বলছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, রেভিনিউ শেয়ারিং ফি , কর্পোরেট ট্যাক্স, জিনিসপত্র আমদানিতে ডিউটি দিচ্ছি-এগুলো পাবলিকের টাকা। এগুলো নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।

হোসেন সাদাত বলেন, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে গ্রামীণফোন ৬১৩৮ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে। এগুলো পাবিলিকের টাকা। এটি গ্রামীণফোনের আয়ের ৫৭ শতাংশ।

এদিকে অডিট আপত্তির পাওনা দাবির ‘বিরোধে’ ৪৮০ কোটি বিনিয়োগের টাকা গ্রামীণফোন আর পাচ্ছে না।

এই টাকা চলতি বছরের প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের অংশ ছিল।

অপারেটরটির এই কর্মকর্তা বলেন, বছরের শেষ সময়ে বিটিআরসির  বিধিনিষেধ আরোপে এই বিনিয়োগ এখন পাওয়ার আর সম্ভাবনা নেই তাদের।

বছরের পর বছর ধরে অডিট করা নিয়ে নানা জটিলতা, আইন-আদালতের পর শেষ পর্যন্ত তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে করানো অডিটে বিটিআরসি গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে। একই সঙ্গে রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটির।

কিন্তু অডিট দাবি নিয়ে মতদ্বৈততা চলছে দীর্ঘসময় ধরে। বারবার উদ্যোগের পরও আলোচনার মাধ্যমে এই পাওনা দাবির বিষয়ের সুরাহা না হওয়ায় এটি এখন আদালতে গড়িয়েছে।

এডি/২০১৯/নভে১১/১৯০০

*

*

আরও পড়ুন