Techno Header Top

এখনও আলোচনার আশায় গ্রামীণফোন

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা পাওনা দাবির বিষয়টি এখনও আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করতে চায় গ্রামীণফোন।

সোমবার ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মত বিনিময়ে গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি বলছেন, বিষয়টি তারা এখনও আলোচনার মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে সুরাহা করতে চান।

উদ্ভুত পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের কাছে ভাল বার্তা দিচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা এখন উৎকন্ঠা নিয়ে প্রশ্ন রাখছেন যে ওখানে কী হচ্ছে ?

শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার প্রশ্নে গ্রামীণফোন সিইও বলছেন, ‘বিনিয়োগকারীদের আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমরা কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট, আমরা এখানেই বিষয়টির সুরাহা করতে চাই। এটি আলোচনার মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে সমাধান করতে চাই। শেয়ার হোল্ডাররা রয়েছেন, আন্তর্জাতিক আদালতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত তারা নেবেন।’

পাওনা দাবি আদায়ে বিটিআরসির প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য খুব ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কোনো চাপের মধ্যে থাকতে চাই না, গ্লোবালি ফ্রন্ট পেইজের স্টোরি হতে চাই না যা এই দেশের জন্য এবং দেশের গ্রাহকের জন্য ভাল হবে না।

আলোচনায় সমাধান চাইলে গ্রামীণফোন কেন আদালতে গেল, এমন প্রশ্নে অপারেটরটির ডেপুটি সিইও এবং সিএমও ইয়াসির আজমান বলেন, অক্টোবরের ১৭ তারিখে আদালতে গিয়েছেন তারা। কিন্তু ১৫ এবং ১৬ অক্টোবর বিটিআরসি প্রশাসক বসাতে তৈরি হয়েছে এবং অনুমোদন নিয়ে নিয়েছে এমন খবর গণমাধ্যমে জেনে তারা বাধ্য হয়েছেন কোর্টে গিয়ে এটি বন্ধ করতে।

‘শেয়ার হোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কোর্টে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম’ বলছিলেন তিনি।

ইয়াসির আজমান বলেন, ‘আমরা এখনও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যদি আমরা টেবিলে আসি, আমাদের এমওইউ ডিসকাশন, ট্রান্সপারেন্ট সলিউশনে যদি আসি তাহলে আমাদের যত কেইস আছে তা সাসপেন্ড করা হবে। কারণ ফাইট করে বন্ধুত্বপূর্ণ কোনো সমাধান হবে না।’

আদালতের রায়ের বিষয়ে প্রেক্ষাপট তুলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা আছে বাংলাদেশের কোর্ট সিস্টেমের উপরে। এটা আমরা চাই এখানে যে জাজমেন্ট দেয়া হবে তা ফেয়ার হবে এবং আমরা টেবিলে ফেরত আসবো। কিন্তু যেই জাজমেন্ট আসবে সেটার উপর বেইজ করে যদি চেইঞ্জ করতে হয় তাহলে চেইঞ্জ করতে বাধ্য হবো । এখন আমরা মনে করি, টেবিলে ফেরত আসবো।’

মত বিনিময় সভায় এই ইস্যুতে আরও বক্তব্য রাখেন অপারেটরটির ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত।

বছরের পর বছর ধরে অডিট করা নিয়ে নানা জটিলতা, আইন-আদালতের পর শেষ পর্যন্ত তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে করানো অডিটে বিটিআরসি গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে। একই সঙ্গে রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটির।

আর এই দাবি আদায়ে ব্যান্ডইউথ ক্যাপাসিটি ব্লক, এনওসি বন্ধ, লাইসেন্স বাতিলে কারণ দর্শানো নোটিশের মতো ব্যবস্থা নেয় বিটিআরসি।

এরপর অপারেটর দুটির মামলা-মকদ্দমাসহ নানা ইস্যুতে আরও জটিলতার মধ্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের উদ্যোগেও কোনো সুরাহা না হলে সবশেষে জিপি-রবিতে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নেয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের মধ্যে আবার গ্রামীণফোন হাইকোর্টে যায় যেখানে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির অডিট আপত্তির দাবি আদায়ে দুই মাসের স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে বিটিআরসির আবেদন করলে দাবির অর্ধেক অর্থ পরিশোধ করতে বলেন আদালত। তবে শেষ পর্যন্ত আদালত জানতে চেয়েছেন, গ্রামীণফোন কত টাকা দিতে পারবে। এদিকে রবিও অপেক্ষায় আছে আদালতের আদেশের।

আদালতের সবশেষ শুনানির আগে এর মাঝখানে আবার নতুন করে আলোচনা শুরু হয় গত ২১ অক্টোবর।

ওইদিন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসি ও জিপি-রবির শীর্ষ কর্মকর্তারা এই বিরোধ নিস্পত্তিতে আলোচনা শুরু করেন।

যেখানে এই আলোচনার লক্ষ্য ছিল দ্রুত একটি সুরাহায় পৌঁছানো। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সব পক্ষের আলোচনা শোনেন এবং নির্দেশনা দেন যেন বিষয়টি দ্রুত মিটমাট করে ফেলা হয়।

এর পরদিন সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ওই আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সব ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে, শিগগিরই ভাল ফলাফল জানবেন সবাই। আমরা এ বিষয়ে এখুনি কিছু বলছি না।

আর সবশেষ ৩১ অক্টোবর সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে  অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা করা যায়নি। এটি এখন আদালতের মাধ্যমে সুরাহা হবে।

তবে দুই আপারেটর এখনও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে চাইছে।

এডি/২০১৯/১৬০০/ নভে ১১

*

*

আরও পড়ুন