Techno Header Top

গাড়ি চুরি রোধে অ্যান্টি হ্যাকিং ডিভাইস

কার ডিভাইস-টেক শহর
Evaly in News page (Banner-2)

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চালানো সহজ করতে গুগল ও অ্যাপলের মতো কোম্পানিগুলো গাড়িতে যেমন একদিকে স্মার্ট ডিভাইস যোগ করছে, তেমনি বিভিন্ন শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙ্গে গাড়ির ওপর ডিজিটাল আক্রমণের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। আধুনিক গাড়িগুলোতে ইন্টারনেটসহ নানা স্মার্ট ফিচার থাকায় তা হ্যাক করে হ্যাকাররা হাতিয়ে নিচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এতদিন স্মার্ট এসব গাড়ি সুরক্ষার উল্লেখযোগ্য তেমন পদক্ষেপ নেওয়া না হলেও সম্প্রতি একটি সমাধান পাওয়া গেছে।

দুই মার্কিন গবেষক একটি অ্যান্টি হ্যাকিং ডিভাইস তৈরি করেছেন। ডিভাইসটির দাম পড়বে ১৫০ ডলার। এর দুটি অংশ- একটি মাইক্রোকন্ট্রোলার ও একটি সাধারণ বোর্ড। গাড়ি বা যানবাহনের ড্যাশবোর্ডের নিচে বিশেষ একটি পোর্টের সাথে এটি যোগ করতে হবে।

প্রতিদিন ড্রাইভ করার সময় এটি গাড়ি চালনা সম্পর্কিত নানা তথ্য মনে রাখে। এরপর চালনায় কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে এটি তা শনাক্ত করতে পারে। যেমন, গাড়ি পার্ক করা অবস্থা থেকে হঠাৎ গতি বেড়ে ৮০ মাইলের বেশি হয়ে গেলে এটি একটি অস্বাভাবিকতা, যা সাধারণ গাড়ি চালক করবেন না।

car device-techshohor

 

অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করার পর ডিভাইসটি গাড়িকে ‘লিম্প মোড’ এ নিয়ে যাবে। এতে গাড়ির সব নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাবে এবং পাওয়ার স্টিয়ারিং, লেন অ্যাসিস্ট এর মতো কিছু অংশ ফাংশন বন্ধ হয়ে যাবে।

ডিভাইসটি রিস্টার্ট দেওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা ঠিক হবে না। এটি যদি কোনোভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, মূল গাড়িচালক সহজেই রিস্টার্ট দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

আর হ্যাকিং বা চোরের কবলে পড়লে যেহেতু তারা ডিভাইসের অস্তিত্ব জানে না, তাই গাড়ি নিয়ে পালানো বা অন্য কোনো ক্ষতি করা দুরুহ হয়ে যাবে।

চার্লি মিলার ও ক্রিস ভ্যালাসেক নামের দুই গবেষক গত বছর ফোর্ড এস্কেপ ও টয়োটা প্রায়াস মডেলের দুটি গাড়ি হ্যাক করেন শুধু ল্যাপটপ থেকে প্রয়োজনীয় কমান্ড পাঠিয়ে। তারা গাড়ির ব্রেক ও স্টিয়ারিং অকেজো করে দেন।

মার্কিন সামরিক গবেষণা সংস্থা ডারপার অধীনে গাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার জন্য এটি করা হয়।

তবে প্রায় এক বছর গবেষণার পর এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা বের করতে পেরেছেন বলে দাবি করছেন দুই গবেষক। আগামী মাসে লাসভেগাসের সিকিউরিটি কনফারেন্সে তারা এমন একটি ডিভাইসের প্রোটোটাইপ উন্মোচন করবেন, যা গাড়ির সিস্টেমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করবে।

মিলার এ বিষয়ে বলেন, ‘এ ধরনের আক্রমণ খুবই বিপজ্জনক। এদের প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। সমস্যাটার সমাধান করতে গিয়েই আমরা ডিভাইসটি তৈরি করি।’

মিলার সোশ্যাল নেওয়ার্ক টুইটারের নিরাপত্তা গবেষক হিসেবেও কাজ করেছেন।

তবে এখন পর্যন্ত এর ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার হার নেই বললেই চলে—জানিয়েছেন দুই গবেষক। গাড়িচালক কিভাবে প্রতিদিন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করেন তা একবার ডিভাইস রেকর্ড করার এতে তেমন ভিন্নতা দেখা যায় না, তাই ব্যতিক্রম শনাক্ত করাও সহজ বলে তারা জানান।

ভবিষ্যতের গাড়ি চুরি রোধে এই প্রযুক্তি খুবই কার্যকর হতে পারে বলে বিশ্বের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলো মনে করছে।
এরই মধ্যে তারা মিলার ও ভ্যালাসেকের সাথে যোগাযোগ করেছে। তবে এই মুহূর্তে প্রযুক্তিটি বাজারজাত করার ইচ্ছা নেই বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। তারা একে আরও পরিপূর্ণ ও কার্যকরী ডিভাইসে পরিণত করার জন্য গবেষণা চালিয়ে যেতে চান।

মিলার আরও বলেন, ‘একটি ই-মেইল বা ক্রেডিট কার্ড হ্যাক হওয়ার চেয়ে গাড়ি হ্যাক হওয়া অনেক ভয়াবহ ব্যাপার। গাড়ির সিস্টেম ফেল করলে কারও মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।’

*

*

আরও পড়ুন