খরচ বাড়ছে রবি গ্রাহকের, নেটওয়ার্ক নিয়ে শঙ্কা

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পাওনা দাবি আদায়ে এনওসি বন্ধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপে গ্রাহকের খরচ বেশ বাড়ছে বলে জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি।

রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলছেন, অডিট আপত্তির বিষয়টি সুরাহা না হয়ে নানা বিধিনিষেধ আরোপের মধ্যে যেভাবে এই অমীমাংসিত পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হচ্ছে তাতে টেলিকম সেবা ব্যয়বহুল হয়েছে।

মঙ্গলবার গুলশানে রবির প্রধান কার্যালয়ে টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘রবি খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। ডেটা-কল সব সেবায় বেড়েছে। যখন ক্যাপাসিটি বাড়াতে দেয়া হচ্ছে না তখন রবির কী করার আছে ?’

‘ক্যাপাসিটি কমে গেলে কী ঘটবে ? রবির তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব দেখলেই বিষয়টি বোঝা যাবে। খরচ ইতোমধ্যে ৭ হতে ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে’ উল্লেখ করেন তিনি। 

‘ভ্যাট-এসডিসহ যত ইমপ্যাক্ট আছে সব এখন গ্রাহকের উপর। অন্য সময় তারা এটি নিজেরা ভর্তুকি দিয়েছেন। কিন্তু এবার এসবের কারণে সেটি করা যায়নি’ বলছিলেন রবি সিইও।

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অনেক বড় ভোগান্তির মধ্যে পড়ছে গ্রাহকরা। এখনও বোঝা যাচ্ছে না, এটা এতো খারাপ এখনও হয়নি। আগের কিছু রিসোর্স দিয়ে বিষয়টি এখন পর্যন্ত কাভার করা গেছে কিন্ত এটা তো দীর্ঘ সময় চালানো যাবে না’

‘আর তিনমাস যদি এভাবে চলে তাহলে এমন পর্যায়ে যাবে, যে দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে বলা মুশকিল’ আশংকার কথা বলছিলেন তিনি। 

বিষয়টি আরও ব্যাখ্যা করে বলছিলেন রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম।

টেকশহরডটকমকে তিনি বলেন, এটা ডিমান্ড সাপ্লাইয়ের বিষয়। যেমনটা সাপ্লাইয়ের ঘাটতির কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। 

তিনি জানান, ইতোমধ্যে নেটওয়ার্ক আপগ্রেটেশন ও মেরামতের সঙ্গে যুক্ত ভেন্ডররা তাদের সতর্ক করেছেন, যে এভাবে চললে শিগগিরই নেটওয়ার্ক খুব ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পড়বে। 

‘ এখন উদ্ভুত পরিস্থিতি যত চলতে থাকবে গ্রাহকের উপর বাড়তি দামের বোঝা চাপতে থাকবে’ উল্লেখ করেন তিনি।

তাহলে গ্রাহক কোথায় যাবে ? এমন প্রশ্নে সাহেদ আলম উদাহরণ হিসেবে বলেন, গ্রাহক সংখ্যায় শীর্ষ অন্য বড় অপারেটরেরও একই অবস্থা। আর অন্য দুটির ক্ষেত্রে কাভারেজ সক্ষমতাও বিষয়ও আছে। এই অবস্থায় গ্রাহকের গন্তব্য বাছাই করা বেশ কঠিন হবে।

‘গ্রাহক চলে যাক এটা কোনোভাবেই কেউ চায় না বরং গ্রাহককে ধরে রাখার জন্য যতকিছু করার প্রয়োজন হয় তাই করা হয়। কিন্তু আমাদের বাধ্য করা হচ্ছে খরচ বাড়ানো জন্য। এটি ওই ডিমান্ড সাপ্লাইয়ের মতো’ বলছিলেন রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার।

অপারেটরটি বলছে, মোবাইল সেবায় প্রতিদিনই নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। এনওসি বন্ধ করে দেয়ায় নেটওয়ার্ক পরিচালনায় ব্যবহার করা প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার কেনা যাচ্ছে না। এতে নেটওয়ার্ক আপগ্রেডেশন হচ্ছে না। নতুন যন্ত্রপাতি আমদানি বন্ধ, নেটওয়ার্ক বিস্তারের অনুমোদনও বন্ধ হয়ে গেছে। 

বছরের পর বছর ধরে অডিট করা নিয়ে নানা জটিলতা, আইন-আদালতের পর শেষ পর্যন্ত তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে করানো অডিটে বিটিআরসি গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে। একই সঙ্গে রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটির।

আর এই দাবি আদায়ে ব্যান্ডইউথ ক্যাপাসিটি ব্লক, এনওসি বন্ধ, লাইসেন্স বাতিলে কারণ দর্শানো নোটিশের মতো ব্যবস্থা নেয় বিটিআরসি।

এরপর অপারেটর দুটির মামলা-মকদ্দমাসহ নানা ইস্যুতে আরও জটিলতার মধ্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের উদ্যোগেও কোনো সুরাহা না হলে সবশেষে জিপি-রবিতে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নেয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের মধ্যে আবার গ্রামীণফোন হাইকোর্টে যায় যেখানে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির অডিট আপত্তির দাবি আদায়ে দুই মাসের স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে বিটিআরসির আবেদন করলে দাবির অর্ধেক অর্থ পরিশোধ করতে বলেন আদালত। তবে শেষ পর্যন্ত আদালত জানতে চেয়েছেন, গ্রামীণফোন কত টাকা দিতে পারবে। এদিকে রবিও অপেক্ষায় আছে আদালতের আদেশের।

আদালতের সবশেষ শুনানীর আগে এর মাঝখানে আবার নতুন করে আলোচনা শুরু হয় গত ২১ অক্টোবর।

ওইদিন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসি ও জিপি-রবির শীর্ষ কর্মকর্তারা এই বিরোধ নিস্পত্তিতে আলোচনা শুরু করেন।

যেখানে এই আলোচনার লক্ষ্য ছিল দ্রুত একটি সুরাহায় পৌঁছানো। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সব পক্ষের আলোচনা শোনেন এবং নির্দেশনা দেন যেন বিষয়টি দ্রুত মিটমাট করে ফেলা হয়।

এর পরদিন সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ওই আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সব ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে, শিগগিরই ভাল ফলাফল জানবেন সবাই। আমরা এ বিষয়ে এখুনি কিছু বলছি না।

আর সবশেষ ৩১ অক্টোবর সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে  অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা করা যায়নি। এটি এখন আদালতের মাধ্যমে সুরাহা হবে। 

তবে এই মঙ্গলবারও রবির সিইও বলেন, তারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এর সুরাহা চাইছেন। 

এডি/২০১৯/নভে০৫/১৯৩০

আরও পড়ুন – 

আলোচনা ভেস্তে গেছে, জিপি-রবিকে দায়ী করলেন অর্থমন্ত্রী 

জিপি-রবিতে প্রশাসক বসানোর অনুমোদন 

লাইসেন্স বাতিলের শোকজের জবাবে আইন-আদালত দেখাল জিপি-রবি

*

*

আরও পড়ুন