আলোচনা ভেস্তে গেছে, জিপি-রবিকে দায়ী করলেন অর্থমন্ত্রী

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : জিপি-রবির কাছে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা পাওনা দাবির বিরোধ সুরাহার আলোচনা ভেস্তে গেছে।

বুধবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল জানান, ‘এটি আদালতে না গিয়ে বাইরে সমাধান হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। আমরা সরকারি মনোভাব না দেখিয়ে আন্তরিকভাবে এগিয়ে গিয়েছিলাম। অনেক দিন অপেক্ষা করা হয়েছে, টাকা দেবে টাকা দেবে, তারা দেয়নি। যদি টাকা কিছু দিত, তাহলে বোঝা যেতো আন্তরিকতা আছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের সময় দিয়েছিলাম এবং তারা আমাদের সঙ্গে চুক্তিও করল যে তারা কমপ্লায়েন্সে নেবে কি না, তারা কমপ্লায়েন্স নিতে পারেনি, তাদের আবার বোর্ড মিটিং করতে হবে, সে কারণে হয়নি।’

‘আর এর আগেই তাদের কোর্ট কেইস হয়ে গেছে। কোনো মামলা হয়ে গেলে এসবের বিষয়ে আমরাও নিষ্পত্তি করতে বা সুরাহা করতে পারব না, কোর্টের মাধ্যমে সুরাহা হতে হবে’ বলছিলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন,‘আমাদের ক্লেইম একটা অ্যামাউন্ট, তাদের আরেকটি অ্যামাউন্ট, ডিফারেন্স কিন্তু হিউজ। তারা চায় কোর্টের মাধ্যমে হয়ে গেলে সুরাহা হয়। আমরাও মনে করি, কোর্টের মাধ্যমে হয়ে গেলে ভালো যদি হয় তাহলে সবার জন্য ভালো।’

পাওনা নিয়ে এই বিরোধ নিরসনে নিজের উদ্যোগ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ প্রাপ্তি হলো চেষ্টা করেছি। আমার করণীয় আমি করেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয়নি।’

(ফাইল ছবি, বিরোধ সুরাহায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের উদ্যোগের সংবাদ সম্মেলন)

বছরের পর বছর ধরে অডিট করা নিয়ে নানা জটিলতা, আইন-আদালতের পর শেষ পর্যন্ত তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে করানো অডিটে বিটিআরসি গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে। একই সঙ্গে রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটির।

আর এই দাবি আদায়ে ব্যান্ডইউথ ক্যাপাসিটি ব্লক, এনওসি বন্ধ, লাইসেন্স বাতিলে কারণ দর্শানো নোটিশের মতো ব্যবস্থা নেয় বিটিআরসি।

এরপর অপারেটর দুটির মামলা-মকদ্দমাসহ নানা ইস্যুতে আরও জটিলতার মধ্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের উদ্যোগেও কোনো সুরাহা না হলে সবশেষে জিপি-রবিতে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নেয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের মধ্যে আবার গ্রামীণফোন হাইকোর্টে যায় যেখানে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির অডিট আপত্তির দাবি আদায়ে দুই মাসের স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট। রবিও অপেক্ষায় আছে আদালতের আদেশের।

এমন পর্যায় হতে আবার নতুন করে আলোচনা শুরু হয় গত ২১ অক্টোবর।

ওইদিন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসি ও জিপি-রবির শীর্ষ কর্মকর্তারা এই বিরোধ নিস্পত্তিতে আলোচনা শুরু করেন।

যেখানে এই আলোচনার লক্ষ্য ছিল দ্রুত একটি সুরাহায় পৌঁছানো। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সব পক্ষের আলোচনা শোনেন এবং নির্দেশনা দেন যেন বিষয়টি দ্রুত মিটমাট করে ফেলা হয়।

এর পরদিন সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ওই আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সব ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে, শিগগিরই ভাল ফলাফল জানবেন সবাই। আমরা এ বিষয়ে এখুনি কিছু বলছি না।

এডি/২০১৯/অক্টো৩০/২১৩০

আরও পড়ুন –

জিপি-রবির ‘পাওনা’ বিরোধে নতুন মোড়, ফের আলোচনা 

জিপি-রবিতে প্রশাসক বসানোর অনুমোদন

*

*

আরও পড়ুন