আত্মহত্যা প্রতিরোধে কি করছে সামাজিক মাধ্যম?

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায় বন্ধুদের হাস্যজ্জল মুখ এবং প্রাণবন্ত সব পোস্ট। কিন্তু কখনো কী ভেবে দেখেছেন, এর পেছনে থাকতে পারে একরাশ হতাশা?

সে কারণেই আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিতে পারে এমন ছবি সরিয়ে দিচ্ছে সামাজিক মাধ্যম সাইট ইনস্টাগ্রাম।

কিশোরী মলি রাসেলের মৃত্যু

Techshohor Youtube

১৪ বছরের মার্কিন কিশোরী মলি রাসেলের আত্মহত্যার পর সমালোচনার সূত্র ধরে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মলি রাসেল প্লাটফর্মে গ্রাফিক কনটেন্ট দেখার পরে ২০১৭ সালে আত্মহত্যা করে।

মলির বাবা আয়ান রাসেল বিশ্বাস করেন ইনস্টাগ্রাম তার মেয়ের মৃত্যুর জন্য আংশিক দায়ী।

জানা গেছে, টানা মোবাইল হাতে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতে থাকা মলি হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। পরে জানা যায়, ইনস্টাগ্রামে মানসিক অবসাদ, আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া ছবি নিয়মিত দেখতো কিশোরীটি।

দায়িত্বের অভাব

ইনস্টাগ্রামের নতুন ঘোষণাটির পরে রাসেল সিলিকন ভ্যালিতে গিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, বড় প্ল্যাটফর্মগুলি সত্যিই এটি নিয়ে তেমন কিছু করছে বলে মনে হয় না।

তার সফরের সময়, ফ্লোরিডা ভিত্তিক ইন্টারনেট সুরক্ষা প্রচারক এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ফ্রি হেস তাকে ইনস্টাগ্রামে এখনও কনটেন্টগুলো রয়েছে বলে দেখিয়েছেন। এর ভেতরে রয়েছে গ্রাফিক ফটোগ্রাফ, আত্মক্ষতির ভিডিও এবং আত্মহত্যা করার পক্ষে কার্টুন।

ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেসি বলেছেন, পুরোপুরি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এটি আমাদের শেষ পদক্ষেপ হবে না।

জুন মাসের দিকে একটি সম্মেলনে মলির বাবা রাসেল বলেছেন, এটা স্বীকার করতেই হবে যে প্রযুক্তি কোম্পানি অনেক ভালো কাজ করে। তবে দুঃখের বিষয় তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো লোকেরা অপরের ক্ষতি করতে ব্যবহার করে। কোম্পানিগুলো তা প্রতিরোধের জন্য যথেষ্ট কাজ করেনি।

সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলির রয়েছে দায়িত্বের অভাব। তাই এখনও পর্যন্ত তারা যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে জানান তিনি।

ইনস্টাগ্রামের প্রতিক্রিয়া

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তারা ২০১৫ সালের প্রথম প্রান্তিকের থেকে আত্মহত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত সব কনটেন্ট মুছে ফেলার পরিমাণ দ্বিগুণ করেছে।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে, এটি ৮ লাখ ৩৪ হাজার কনটেন্ট অপসারণ করেছে, যার মধ্যে ৭৭ শতাংশই ব্যবহারকারীরা রিপোর্ট করেনি।

আরও অনেক স্পষ্টভাবে কাজ করার এখনও বাকি আছে বলে জানিয়েছে ইনস্টাগ্রাম।

পিএন/ ইএইচ/ অক্টো ২৮/ ২০১৯/

*

*

আরও পড়ুন