আগেই ডিভাইসের তথ্য ফাঁসে ব্যর্থতার ঝুঁকি বাড়ে

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রযুক্তি পণ্য আনার ক্ষেত্রে বিশেষ করে স্মার্টফোনের বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সব পণ্য।

কিন্তু পণ্যগুলো উন্মোচনের আগেই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে তার সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য। কখনও দুর্ঘটনাবশত ফাঁস হচ্ছে ,আবার কখনও পরিকল্পনা করে বা আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানই ফাঁস করছে তার তথ্য। এতে গোপন তথ্য আর থাকছে না গোপনে। এই ফাঁস হওয়া তথ্য আসন্ন পণ্যগুলোর উপর তৈরি করছে চাপ। 

বেপোরোয়া এখন তথ্য ফাঁস

চলতি মাসেই গুগল উন্মোচন করেছে তাদের পিক্সেল ৪ সিরিজের স্মার্টফোন। কিন্তু আগেই ফাঁস হয়েছে ফোনগুলো সম্পর্কে নানা তথ্য। প্রথমে দুর্ঘটনাক্রমে ফাঁস হলেও পরে তা অফিশিয়ালি ফাঁস করে গুগল। সেই ফাঁস করার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের সুনাম ধরে রাখা।  

এখন অনেক প্রতিষ্ঠান পণ্যের তথ্য ফাঁস পছন্দ করে। সংবাদ মাধ্যম ও প্রকাশনাও তা পছন্দ করে। কিন্তু এই ফাঁস হওয়ার ব্যাপারটি অর্থনীতির দিক থেকে ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। যা অর্থনীতির জন্যও খারাপ বলে বলছেন অর্থনীতিবিদরা। 

চাপে পড়ে প্রতিষ্ঠান

পণ্য উন্মোচনের আগেই সে সম্পর্কে তথ্য ফাঁসের ফলে চাপে পড়ে প্রতিষ্ঠান। তাই অনেক প্রতিষ্ঠান চেষ্টা করে সেই ফাঁস হওয়া বিষয়গুলো যখন গ্রাহকরা খুব বেশি করে নিয়ে নেয় তখন তাদের পণ্য সেই অনুযায়ী তৈরি করতে। 

কিছু কোম্পানি মনে করে, প্রাথমিক ঘোষণার মাধ্যমে ফাঁসগুলোর তথ্য রিসপ্লেসমেন্ট করা উচিত। সম্প্রতি মাইক্রোসফট সারফেস ডুয়ো নিয়ে একটি ঘটনা সামনে এসেছে। 

প্রতিষ্ঠানটি একটি টুইন ফোনের ফোল্ডেবল ট্যাবলেট তৈরি শুরু করেছে। যা বাজারে ছাড়তে আরও অন্তত বছর খানেক সময় লাগবে। কিন্তু এরই মধ্যে ফাঁস হয়েছে তার অসমর্থিত সব তথ্য। ফলে মাইক্রোসফট কিছুটা চাপে পড়েছে। 

ব্যর্থ হবার ঝুঁকি বেশি

আগেই পণ্য সম্পর্কে নানা কথা এবং নানা ধরনের ঘোষণা তার জন্য বুমেরাং হতে পারে। যা প্রতিষ্ঠানের জন্য খারাপ দিক। যদি কোনো পণ্য রিলিজ করতে অনেক বেশি সময় নেয়া হয় তখন তা উন্মোচন ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

উদাহরণস্বরূপ অ্যাপলের এয়ারপাওয়ার ওয়্যারলেস চার্জিং প্যাডের কথা বলা যায়। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এক টিজারের মাধ্যমে এয়ারপাওয়ার আনার ঘোষণা দিয়েছিলো অ্যাপল। তখন জানানো হয়েছিলো, ২০১৮ সালে ডিভাইসটি বাজারে আসবে। কিন্তু সে বছর এয়ারপাওয়ার আনেনি অ্যাপল। চলতি বছরের মার্চে এয়ারপাওয়ার প্রকল্পে ইতি টানার ঘোষণা দেয় অ্যাপল। কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন করা যায়নি বলেই এয়ারপাওয়ার আনার সিদ্ধান্ত বাতিল করে অ্যাপল।

একই অবস্থা রেড হাইড্রোজেন২ স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেও ঘটেছে।

এই উভয় ক্ষেত্রেই প্রারম্ভিক টিজার এবং প্রাক-উদ্দীপনামূলক ঘোষণাগুলো দিয়ে হাইপ তৈরির আকাঙ্ক্ষা কোনো কিছুর চেয়ে কম অর্জন করেছিল। শুরুতে তৈরি হওয়া কোনো হাইপ ও আগ্রহ শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস এবং সন্দেহের দিকে ঝুঁকে পড়ে। দুটি ক্ষেত্রেই, অ্যাপল এবং রেড কিছু না বললেই ভালো করতো।

সমাধান কী

ফাঁস সমস্যার কোনো সমাধান আছে কী? আসলে এটি যত সমাধান করে-তত বেশি বা আরও বেশি সমস্যা তৈরি করে।  তাই চলতি বছরে অনেক প্রতিষ্ঠান সতর্ক থেকে তাদের ডিভাইসের জন্য অগ্রিম ব্রিফিং না রাখার ক্ষেত্রে মত দিয়েছে।

পিএন /ইএইচ/ অক্টো২৮/ ২০১৯/ ১৬০০

*

*

আরও পড়ুন