আখেরে ক্ষতিকর ডার্ক মোড!

Evaly in News page (Banner-2)

প্রজ্ঞা নিবেদিতা, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আধুনিক যুগে ব্যবহারকারীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফিচার হলো ডার্ক মোড।

অ্যাপ্লিকেশন থেকে অপারেটিং সিস্টেম, অ্যাপল থেকে গুগল, স্মার্টফোন থেকে ল্যাপটপ পর্যন্ত, বর্তমানে যে সমস্ত পণ্য ব্যবহার করা হচ্ছে তার বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর ইন্টারফেইসে এক রকম ডার্ক মোড দেওয়া হচ্ছে। যেগুলোতে ফিচারটি নেই সেসব প্রতিষ্ঠান চেষ্টা করছে তা দেবার জন্য।

ইউটিউব, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জারসহ অনেক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপে এই ডার্ক মোড ফিচারটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইদানিং ফেইসবুকও ডার্ক মোড আনার দারপ্রান্তে, পরীক্ষামূলক চালুও করেছে।

এটি এমন একটি ফিচার যা স্ক্রিনের খালি অংশগুলো কালো করে দেয়। সাধারণত স্ক্রিনের খালি অংশ সাদা থাকে। ডার্ক মোডের ফলে এ অংশগুলো কালো হয়ে যায়।

আগে এমন অনেক হোম কম্পিউটারে মনোক্রোম সিআরটি মনিটর ব্যবহার করা হতো। সেগুলোতে ডার্ক স্ক্রিনে সবুজ রঙের টেক্সট দেখাতো।

আশির দশকে জেরক্স এবং সিপিটি কর্পোরেশনের মতো কোম্পানিগুলো যখন ওয়ার্ড প্রসেসিং মেশিন তৈরি করেছিল তখন সেগুলোর কালো টেক্সটসহ একটি সাদা পর্দা ছিল। যা দেখতে কাগজে কালো কালি চেহারা প্রতিলিপির মতো।

গত কয়েক দশকে বিভিন্ন ডিভাইসে ডার্ক মোড আনার জন্য কাজ করছিলেন ডেভেলপাররা। যা অনেকটা এগিয়েছে।

ডার্ক মোডের অতি পরিচিত এবং বৈজ্ঞানিক সুবিধা হলো, এটি ওএলইডি বা অ্যামোলেড ডিসপ্লের মাধ্যমে ডিভাইসটির শক্তি সাশ্রয় করে। ওএলইডি প্যানেলগুলিতে প্রতিটি পিক্সেল আলাদাভাবে উজ্জ্বল দেখায়। যখন ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা হয়ে যায় তখন সব পিক্সেলগুলো চালু হয়। সেই সঙ্গে ডিসপ্লেটির পাওয়ার বেড়ে যায়। আবার যখন পিক্সেলগুলি কালো বা ধূসর হয় অর্থাৎ ডার্ক মোডে থাকে তখন ডিসপ্লের পাওয়ার স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। ফলে ব্যাটারির স্থায়ীত্ব বা শক্তি ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ে।

অনেকেই অবশ্য মনে করেন, সব ডিভাইসেই ডার্ক মোড ব্যাটারি সাশ্রয় করে। কিন্তু ধারণাটিকে ভুল বলছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, স্মার্টফোন ছাড়া অন্য ডিভাইসে এমন ব্যাটারি সাশ্রয়ের কোনো প্রমাণ তারা পাননি।

চক্ষু বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে কালো টেক্সট চোখের জন্য খুবই ভালো। কারণ, সাদা রঙটি টেক্সটির অক্ষরগুলির সমস্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে প্রতিফলিত করে। আইরিস আরও আলো শোষনের জন্য প্রশস্ত করা প্রয়োজন হয় না। সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে কালো লেখা দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই তার প্রতি মনোযোগ দেয়া সম্ভব।

ব্যবহারকারীরা যখন ডার্ক স্ক্রিনে কোনো টেক্সট দেখেন তখন এর লেখাগুলো কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে লাল রঙের বলে মনে হয়। এটিকে হ্যালেশন এফেক্ট বলা হয়।

অবশ্যই মনে রাখতে হবে, চোখ পেশী নিয়ে গঠিত। কিছু পড়ার চেষ্টা করার জন্য এর উপর যত বেশি চাপ দেয়া হবে ততই এটি জীর্ণ হয়ে যাবে। ডার্ক ব্যাকগ্রাউন্ডে হালকা টেক্সট পড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করলে জোর দেয়া যাবে না।

আমেরিকান চক্ষুবিজ্ঞান একাডেমির চিকিৎসকদের মতে, নীল আলোতে একটি স্বাস্থ্যকর এক্সপোজার মানসিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে এবং শিশুদের মধ্যে দূরের দৃষ্টি কমিয়ে দিতে পারে।

ডার্ক থিম রাতের জন্য উপযোগী। এটি কোনো টেক্সট ভালোভাবে পড়তে সাহায্য করে। পাশাপাশি চোখকে ডিজিটাল স্ট্রেনথ থেকে বাঁচায়।

দিনের বেলা আপনার ঘুমের সময় ঘরে সূর্যের আলো পড়লে আপনি কি তখন জানালার পর্দা টানেন? কেন টানেন? কারণ আপনার আইরিসটি যে পরিমাণ আলো নিতে হবে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো ডিভাইসে ডার্ক মোডে কিছু দেখলে চোখ কম আলোতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। তখন যদি কোনো উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে তাকানো হয় তখন খুব অস্বস্তি লাগে। যা চোখের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

সাধারণত যখন চারপাশে অন্ধকার থাকে তখন রাতে স্ক্রিনের ঝলকানি কেটে ফেলা উপকারী হতে পারে। এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণও নেই যে ডিভাইসগুলি থেকে নীল আলো চোখের ক্ষতি করে এবং ডার্ক মোড চোখের জন্য উপকারী।

গবেষকরা মনে করেন, যে লোকেরা দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন দেখার পরেও যে অস্বস্তি বোধ করে তা উজ্জ্বলতার চেয়ে কম ঝলকানোর কারণে হয়।

পিএন/ ইএইচ/ অক্টো ২৭/ ২০১৯/ ১৭২৪

আরও পড়ুন –

ফেইসবুকের ওয়েবসাইটেও আসছে ডার্ক মোড 

ডার্ক মোড ব্যাটারি বাঁচায়

*

*

আরও পড়ুন