কালো তালিকার কারখানার পোশাক অ্যামাজনে

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন ডটকমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বিক্রি করা নিয়ে একটি সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। 

মূলত বেশ কিছু দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের কিছু পোশাক কারখানাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। সেসব কারখানা থেকে অন্য সব ব্র্যান্ড পোশাক কেনা বাদ দিলেও সেগুলো থেকে পোশাক নিয়ে তা নিজেদের ওয়েবসাইটে বিক্রি করছে অ্যামাজন।  

বাংলাদেশে যেসব কারখানায় এসব পোশাক তৈরি হয় সেগুলোর মান উন্নয়ন না করে, এমনকি কর্মীদের কতটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করতে হয় তা জেনেও না জানার ভান করে শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স জায়ান্টটি।

এমন কারখানায় তৈরি পোশাক বিক্রি করাকে ‘কষ্টকর’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়েছে, অ্যামাজন বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানার অবস্থা ও সেখানকার শ্রমিকদের অবস্থার সবকিছু জেনেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তাদের প্লাটফর্ম ব্যবহার করে বড় ধরনের ব্যবসা করার সুযোগ দিচ্ছে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের অনুশোচনায়ও প্রকাশ করছে না। 

চাইলে এইচঅ্যান্ডএম, গ্যাপ, বেনটনসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পোশাক কারখানার মান উন্নয়ন করতে বাধ্য করতে পারে। কিন্তু সেসব প্রতিষ্ঠানও স্বল্পমূল্যে পোশাক পাওয়ার আশায় তা করছে না বলেও উল্লেখ করা হয়।  

অ্যামাজনে যতোটা তৈরি পোশাক বিক্রি করা হয় তার দুই তৃতীয়াংশই  বিক্রি করে রিটেইলার িসেলাররা। আর কিছু পোশাক অ্যামাজন সরাসরি নিজেরাই বিক্রি করে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে ঢাকার অদূরে সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসে ১১০০ পোশাক শ্রমিক নিহত হন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের বাংলাদেশী সরবরাহকারীদের কারখানার একটি ন্যূনতম স্ট্যান্ডার্ড বেঁধে দেয়।

তখন থেকে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সংগঠন একটি অ্যাকোর্ড ও অন্যটি অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের পোশাক কারখানার মান উন্নয়নে কাজ শুরু করে। সেখানে অবশ্য অ্যামাজনও যোগ দেয়। কিন্তু ২০১৮ সালে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি ঘটেনি। 

এই সময়ের মধ্যে অনেক নামীদামী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের তাদের কারখানার মান উন্নয়ন করতে বলে, যারা করেনি তাদের কাছ থেকে পণ্য নেওয়া বন্ধও করে দিয়েছিল। 

জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরপরও অ্যামাজন বাংলাদেশ থেকে পণ্য নেওয়া থামিয়ে দেয়নি। বরং অন্যরা যখন তাদের দাবি আদায়ে বিশেষ করে কারখানার মান ও শ্রমিকদের মান উন্নয়নে সরব ছিল তখন অনেকটাই নিরব ভূমিকা রেখেছে অ্যামাজন। 

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, তারা অ্যামাজনে একটি ৪.৯৯ ডলারের পোশাক বিক্রি করতে দেখেছে যেটা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের একটি কারখানায়। সেই কারখানাতে শ্রমিকদের কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। জারজীর্ণ সেই কারখানায় নেই কোনো ফায়ার অ্যালার্ম, কোনো ডোর বেল নেই। এমনকি সেই কারখানায় শ্রমিকদের কাজে প্রবেশ করার পর মূল যে ফটক সেটি বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ। ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেও সহজেই কেউ বের হতে পারবেন না। 

সেই কারখানার এক কর্মী নাসরিন বেগম যার বয়স মাত্র ১৮। তিনি বলেন, তাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। তার মতো আরও ৩০০ শ্রমিক সেখানে কাজ করেন। একইভাবে তাদের সেখানে কাজ করতে হয়। যতক্ষণ মালিকদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হবে সেদিন ততক্ষণ পর্যন্ত কাজ করতে হয় বলে জানান তিনি। 

অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজস এমন কিছু পোশাক কারখানায় তৈরি পোশাকের সন্ধান তাদের সাইটে পেয়ে ন্যূনতম নিরাপত্তা বিধান করতে বলেছিল তার বিক্রেতাকে। কিন্তু সেগুলো তারা আমলে নেয়নি বলেও জানানো হয়। 

জার্নালের ওই প্রতিবেদনে অ্যামাজনে এমন পোশাক বিক্রিকে বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক কিছু সংগঠনও নেতিবাচক ভাবেই দেখছে। 

জার্নালটি এবিষয়ে প্রতিবেদনের পাশাপাশি একটি প্রামাণ্যচিত্রও তৈরি করেছে এবং তা প্রকাশ করেছে। 

ইএইচ/ অক্টো ২৫/ ২০১৯/ ১৬০০

*

*

আরও পড়ুন