ফাইভজির রোডম্যাপ : ২০২১ সালে চালু ২০২৬ নাগাদ সারাদেশে

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ২০২১ সালের শুরুতে ঢাকায় ফাইভজি চালু করে ওই বছরেই সব বিভাগীয় শহরগুলোতে সেবা সম্প্রসারণ করতে চায় সরকার।

এরপর ২০২৩ সালের মধ্যে সব জেলা শহর এবং  ২০২৬ সালের মধ্যে সব উপজেলা, গ্রোথ সেন্টার বা বড় হাটবাজার, বিশ্বরোড ও রেলে ফাইভজি সেবা দেয়া হবে ।

ফাইভজি নিয়ে সরকারের খসড়া রোডম্যাপে এসব লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। আর এই লক্ষ্য ধরেই বিস্তারিত রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছে সরকার।

বুধবার ফাইভজি ইন বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনারে এই খসড়া রোডম্যাপের এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়, ২০২০ বছরের প্রথম প্রান্তিকে ফাইভজি নীতিমালা চূড়ান্ত হবে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে সরকারের অনুমোদন এবং তৃতীয় প্রান্তিকে অপারেটরগুলোকে স্পেকট্রাম দেওয়া হবে । চতুর্থ প্রান্তিকের মধ্যে দেওয়া হবে লাইসেন্স।

এখানে অবশ্য এখনও স্পেকট্রামের মূল্য নিয়ে কিছুই আসেনি।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন,  ফাইভজি কেবল কথা বলার, ইন্টারনেটে ব্রাউজ করার প্রযুক্তি না, জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ছোট্ট ঢেউ না। ফাইভজি চালু হলে দেশের জনগণ, শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কতভাবে কোন কোন স্তরে তা ব্যবহার করবে সেটি এখনই ধারণা করা যায় না।

থ্রিজিতে কথা বলা যায় না, ফোরজির স্পিড মেলে না, টুজি ঠিকমতো কাজ করে না, নেটওয়ার্ক আসে না মানুষের এমন অনেক অভিযোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবাদাতাদের যে গুণগত মানের সেবা দেওয়া উচিত ছিল সে মানের সেবা দিতে এখনও সক্ষমতা দেখা যাচ্ছে না। এসব নিয়ে মানুষের অনেক অসন্তুষ্টি রয়েছে। একজন মন্ত্রী পর্যন্ত সংসদে দাঁড়িয়ে অপারেটরদের সমালোচনা করেছেন।

সবাই বলছে, টুজি, থ্রিজি, ফোরজির নেটওয়ার্ক এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি সেখানে ফাইভজি কেনো ?

‘এটি স্পষ্ট করা দরকার, ফাইভজি ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশনের মহাসড়ক।  টুজি, থ্রিজি, ফোরজির কোয়ালিটি অব সার্ভিস কতোটা উন্নত করতে পারবো, তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাইভজির মহাসড়ক যথাসময়ে নির্মাণ করতে পারব কিনা’ বলছিলেন মন্ত্রী।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ফাইভজির চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। জনগণ-ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে একেকটি বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করতে হবে। গাইডলাইন তৈরি করতে হবে সবার মতামত নিয়ে যেন কোথাও কোনো সমস্যা না হয় ।

সেমিনারে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, ফাইভজি হলো মেশিনের সঙ্গে মেশিনের সংযোগ যার পেছনের থাকবে মানুষ। এখনও এই মেশিন সঙ্গে মেশিনের সংযোগ হচ্ছে কিন্তু ফাইভজি চালু হলে সেটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যাবে। যেখানে ফাইভজি একজন ব্যক্তিকেই একটি ইন্ড্রাস্ট্রি হিসেবে তৈরি করতে পারে।

সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মো. আমিনুল হাসান, গ্রামীণফোনের এন্টারপ্রাইজ বিজনেসের জেনারেল ম্যানেজার রেদোয়ান হাসান খান, এরিকসন বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার আব্দুস সালাম, হুয়াওয়ে বাংলাদেশের সিটিও জেরি ওয়াং সু।

আর ফাইভজির রোডম্যাপ ও স্পেকট্রাম নিয়ে উপস্থাপনা দেন বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল আলম।

এডি/২০১৯/অক্টো১৬/১৬৪০

আরও পড়ুন –

ফাইভজি, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে প্রাধান্য দিচ্ছি : জব্বার 

বাংলাদেশের সামনে ফাইভজির চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি

*

*

আরও পড়ুন