টাওয়ার শেয়ারিংয়ের বৈঠক থেকে জিপির ওয়াকআউট

Evaly in News page (Banner-2)

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিটিআরসির উদ্যোগে টাওয়ার শেয়ারিং কোম্পানি এবং মোবাইল অপারেটরের মধ্যে চুক্তি করে দেয়ার বৈঠক হতে ওয়াকআউট করেছে গ্রামীণফোন।

দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট বা এসএলএ এর।

টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দেওয়ার প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও এখনও টাওয়ার কোম্পানিগুলো ব্যবসা শুরু করতে না পারার অন্যতম কারণ এই সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট বা এসএলএ।

এ পর্যায়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন দুই পক্ষের কথা শুনে একটি এসএলএ করে দেওয়া দায়িত্ব নেয়।

রোববার বিটিআরসির ডাকা ওই বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করে গ্রামীণফোন। এমনকি সোমবারও একই বৈঠক চললেও গ্রামীণফোনের কেউ আর সে বৈঠকে অংশ নেয়নি।

বিটিআরসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত রোববারে বৈঠকে গ্রামীণফোনের পক্ষে অংশ নেন অপারেটরটির চিফ টেকনোলজি অফিসার রাদে কোভাসেভিচ ও চিফ প্রকিউরমেন্ট অফিসার আল-আমিন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রামীণফোন বিটিআরসির এসএলএ গঠনের আইনগত অধিকার নেই জানিয়ে প্রতিবাদ করে।

সেখানে আলোচনার শুরু থেকেই জিপি এগ্রেসিভ আচরণ করে আসছিল, তাতে করে আলোচনা এক পর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্ট হয় এবং গ্রামীণফোন ওয়াকআউট করে’  বলছিলেন তারা।

বৈঠকে গ্রামীণফোন প্রতিনিধিদের আইনের ধারা পড়ে শোনানো হয়, তবে তাতেও তারা সন্তুষ্ট না হলে এর প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। বৈঠকের এক পর্যায়ে তারা সবার সামনেই উঠে চলে আসেন বলে জানান বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তারা।

তারা বলেন, বিটিআরসির ডাকা বৈঠকে সব পক্ষের লোকরাই ছিল। কিন্তু এমনভাবে বৈঠক স্থল ত্যাগ করা উদ্ধত্যতের পর্যায়েই পড়ে।

জিপির প্রতিনিধিরা চলে যাওয়ার পর তাদের অনুপস্থিতেই বৈঠক চলেছে-যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে বিটিআরসির এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পরেও যখন সুরাহা হচ্ছিল না তখন টেলিযোযোগ খাতের ভালোর জন্যে তারা এই আলোচনার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কিন্তু এমন আচরণের মাধ্যমে গ্রামীণফোন কী প্রমাণ করলো ?

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকের সভাপতিত্বে এই বৈঠক শুরু হয়। কিছুক্ষণ অংশ নিয়ে তিনি আরেকটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চলে যান।

বৈঠকে মোবাইল ফোন অপারেটরদের পক্ষে থেকে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম এবং বাংলালিংকের চিফ রেগ্যুলেটরি অফিসার তৈমুর রহমান অংশ নেন ।

অন্যদিকে টাওয়ার শেয়ারিং কোম্পানির পক্ষে ইডটকোর সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের ডিরেক্টর সিরাজুস সালেহীন, সামিট টাওয়ার্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ আল ইসলাম এবং কীর্তনখোলা টাওয়ার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালামন করিমন বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে বিটিআরসির বিভিন্ন বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ছাড়াও ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের কমিশনার রেজাউল কাদের এবং সিস্টেসম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের কমিশনার মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ অংশ নেন।

এর আগে সমস্যা সমাধানের জন্যে বিটিআরসি এমএসএলএ তৈরি করে সেটি মোবাইল ফোন অপারেটর এবং টাওয়ার শেয়ারিং কোম্পানিগুলোর মতামতের জন্যে পাঠায়। কিন্তু সেখানেও সমাধান না হওয়াতেই রোববার সব পক্ষকে নিয়ে বসেছিল তারা।

২০১৮ সালে ১ নভেম্বর বিটিআরসি চারটি টাওয়ার কোম্পানিকে দেশে টেলিযোগাযোগ সেবার টাওয়ার ব্যবসার জন্যে লাইসেন্স দিলেও তিনটি কোম্পানিকে ব্যবসার জন্যে আগ্রহী দেখা যাচ্ছে।

আইজেডএস/এডি/২০১৯/অক্টো০৭/১৬০০

*

*

আরও পড়ুন