লাইসেন্স বাতিলের শোকজের জবাবে আইন-আদালত দেখাল জিপি-রবি

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিটিআরসির লাইসেন্স বাতিলের শোকজের জবাব দিয়েছে গ্রামীনফোন ও রবি ।

সেখানে প্রথমটিতে আদালত ও দ্বিতীয়টিতে আইনের রেফারেন্স দিয়েছে তারা ।

সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা পাওনা দাবি আদায়ে ৫ সেপ্টেম্বর  লাইসেন্স (টুজি-থ্রিজি) কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে ১ মাসের সময় দিয়ে দুই অপারেটরকে শোকজ নোটিশ দিয়েছিল বিটিআরসি।

৩ অক্টোবর বিটিআরসিকে এই নোটিশের জবাব দেয় জিপি-রবি।

প্রথম যে কারণ ব্যাখ্যা করেছে অপারেটর দুটি সেখানে বলা হয়েছে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন তাই এই বিষয়ে বিটিআরসি এমন কারণ দর্শানো নোটিশ দিতে পারে না।

আর দ্বিতীয়টিতে বলা হয়েছে, টেলিযোগাযোগ আইনের ২৬ ধারা বাদ দিয়ে ৪৬ ধারায় চলে গেছে বিটিআরসি।

২৬ ধারা অনুযায়ী পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি (পিডিআর) অ্যাক্টে পাওনা আদায়ে মামলা করতে পারতো বিটিআরসি । সেটি না করে ৪৬ ধারায় লাইসেন্স বাতিলের মতো পদক্ষেপে চলে গেছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

এখানে অন্য লাইসেন্সিংয়ের মতো আচরণ তাদের সঙ্গে করা হয়নি বলে বলছে অপারেটর দুটি।

রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম টেকশহরডটকমকে বলেছেন, ‘বিতর্কিত নিরীক্ষা আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি আমাদের কাছে যে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে তার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। কারণ এ লিগ্যাল নোটিশ জারির আগেই আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলা বিচারাধীন আছে। আর বিচারাধীন কোনো বিষয়ের ওপর কোনো মন্তব্য আমাদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। তবে এ বিষয়ে আমরা আগে যা বলেছি নতুন করে তার ওপর কিছু বলার নেই।’

গ্রামীণফোন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘লাইসেন্স বাতিল সংক্রান্ত বিটিআরসির ভিত্তিহীন শোকজ নোটিশটি যেহেতু তুলে নেওয়া হয়নি, সেহেতু গ্রামীণফোন তাদের প্রত্যুত্তর দাখিল করেছে।

বিটিআরসির দেয়া ওই শোকজ নোটিশের বিষয়ে বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন ৫ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১ এর ৪৬(২) ধারা মোতাবেক মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির টুজি ও থ্রিজির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবেনা, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তার কারণ দর্শানোর জন্য বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ উল্লেখিত দুই অপারেটরকে দেয়া হয়েছে।

পুনঃনিরীক্ষার পর বিটিআরসি গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে। একই সঙ্গে রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি তাদের।

এর আগে ৪ জুলাই পাওনা আদায়ে গ্রামীণফোনের মোট ব্যবহার করা ব্যান্ডউইথের ৩০ শতাংশ এবং রবির ব্যবহৃত ব্যান্ডউইথের ১৫ শতাংশের ওপর ক্যাপিং আরোপ করে কমিশন।

তবে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার সীমিত করায় সেটি গ্রাহকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে – বিবেচনায় আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে এনওসি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়।

বিষয়টি নিয়ে জটিলতার মধ্যে ১৮ সেপ্টেম্বর হঠাৎ-ই বিষয়টির দায়িত্ব নেন  অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের  এবং দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এর সুরাহা করার কথা জানান।

ইতোমধ্যে দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের ওপরেও আরও একাধিক বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এই সময়ে কোনো সমাধান না হওয়ায় অপারেটররা এখন অস্থির হয়ে উঠেছেন।

এডি/২০১৯/অক্টোবর০৬/১৮০০

আরও পড়ুন –

জিপি-রবির অডিট রিভিউয়ের তৃতীয় বৈঠকেও মেলেনি সুরাহার খোঁজ 

জিপি-রবির টুজি থ্রিজি লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ

*

*

আরও পড়ুন