লিব্রা দিয়ে নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনছে ফেইসবুক?

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভার্চুয়াল মুদ্রা লিব্রা আনার অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক মাধ্যম জায়ান্ট ফেইসবুক।

আগামী বছরের শুরুতেই ফেইসবুক তাদের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা চালু করতে কাজও করছে। সেই কাজের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে আরও অন্তত ২৭টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে লিব্রা অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেছে।

অ্যাসোসিয়েশনে সদস্য হিসেবে মাস্টারকার্ড, ভিসার মতো জনপ্রিয় সব প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

তবে এতোকিছুর পরও ফেইসবুকের সেই ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা নিয়ে ইতোমধ্যে একটা সংশয় দেখা দিয়েছে। অনেক প্রযুক্তি বিশ্লেষক অবশ্য ফেইসবুকের এই ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থাকে সোজা চোখে দেখতে পারছেন না। বরং এর মাধ্যমে ফেইসবুকের বড় একটা পতন হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা, কেন্দ্রিয় ব্যাংকের প্রধানরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

libra-facebook-techshohor

দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এক বক্তব্যে যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর মার্ক কার্নেল বলেছেন, ফেইসবুক যদি ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করে তবে সেটি মানি লন্ডারিংয়ের সীমা ছাড়াতে পারে। তাই আগে থেকেই বিষয়টি নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে।

তার কথার সঙ্গে একমত পোষন করে যুক্তরাজ্যের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জে পাওয়েল বলেছেন, ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি কতটা সুফল আনবে সেটি বলা খুব মুশকিল। তবে সেটি মুদ্রা ব্যবস্থাতে বিশৃঙ্খলা যে আনবে না তা বলা যাচ্ছে না।

মাসিক ২৩৭ কোটি ব্যবহারকারীর মাধ্যমটির অধীনে অবশ্য আরও কিছু বড় মাধ্যম রয়েছে ফেইসবুকের। হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার এবং ইনস্টাগ্রামের ব্যবহারকারীও কম নয়। ফলে বাজারের বড় অংশই ফেইসবুকের দখলে।

ফেইসবুক তাই সবগুলো বিষয় নিয়েই আগাচ্ছে বলে বিভিন্ন সময় খবর বেরিয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনাতে ফেইসবুকের গ্রহণযোগ্যতাও কমেছে। মাধ্যমটিতে ভুয়া খবর ছড়ানো বন্ধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এটি নিয়ে তো একটা চাপ আছেই, তারওপর আবার কদিন পর পর বিভিন্ন দেশে তাদের ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনায় বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে মাধ্যমটি।

বড় ধরনের বেশ কিছু জরিমানাও গুনতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। ফলে কিছুটা হলেও সেদিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে নেই ফেইসবুক।

এখন ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা লিব্রা চালু করার পর সেটির মডেল কি হবে সে সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু বলেনি ফেইসবুক। তাই বিষয়টি নিয়ে এখনি সরাসরি কোনো ধারণা করা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক ইউরোপে এক সাক্ষাৎকারে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ফেইসবুকের ক্রিপ্টোকারেন্সি আনার ঘটনা তাকে অবাক করেছে।

তিনি বলেছেন, অ্যাপল কখনো ক্রিপ্টোকারেন্সি আনবে না বা সেজন্য আলাদাভাবে কোনো শাখা করে কাজও করবে না। আমার মনে হয় মুদ্রা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখার ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত।

তার ভাষ্য, যদি মুদ্রা ব্যবস্থা বা অর্থ ব্যবস্থা রাষ্ট্রের হাত থেকে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে যায় তবে তার ফল শুভ হবে না। এটি ফেইসবুক হয়তো এখনো বুঝতে পারছে না। তাই তিনি অনেকটা সরাসরিই ফেইসবুকের ডিজিটাল মুদ্রা লিব্রা আনার বিপক্ষে কথা বলেন।

এর আগে মার্কিন এক সিনেটর দেশটির নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকাকে বলেছেন, ফেইসবুকের লিব্রা প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হিসেবে দেখা দিতে পারে। এটি আনা কতটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে সেটি ফেইসবুককে সময় থাকতেই ভাবতে হবে।

অবশ্য এমন কিছুটা আঁচ করতে পেরেই সেই লিব্রা অ্যাসোসিয়েশন থেকে বের হয়ে যাবার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে বৈশ্বিক অর্থ লেনদেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল। পেপ্যাল গত শুক্রবার ফেইসবুকের ডিজিটাল মুদ্রা লিব্রার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বের হয়ে যাবার কথা জানিয়েছে।

কারণ হিসেবে অবশ্য পেপ্যালের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা সেখানে থাকাটা খুব একটা সমীচীন মনে করছেন না। সেক্ষেত্রে নিজেদের ওপর বিভিন্ন দেশের রেগুলেটরদের চাপ রয়েছে বলেও জানিয়েছে অ্যাপল।

গত মাসের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বক্তব্যে ফেইসবুকের ডিজিটাল মুদ্রা লিব্রা আনার সমালোচনা করে বলেছেন, মার্ক জাকারবার্গ এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ব্যবস্থাকে ছোট করেছেন।

যুক্তরাজ্যের টেলিগ্রাফ অবশ্য ফেইসবুকের ডিজিটাল কারেন্সি নিয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, অনেকটা আনার আগেই বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে ফেইসবুকের ডিজিটাল মুদ্রা লিব্রা। বিষয়টি নিয়ে ফেইসবুক লিব্রার প্রধান ডেভিড মার্কাস মিথ্যাচার করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

একতিছুর পর এখন আসলে সময়ের অপেক্ষা করতে হবে। ফেইসবুকের লিব্রা বা ডিজিটাল মুদ্রা বাজারে আসে কিনা, আসলেও সেটার গ্রহণযোগ্যতা কিংবা বিভিন্ন দেশের মুদ্রানীতির সঙ্গে সেটি যাবে কিনা, কিংবা কোন কোন দেশ সেটি সাদরে গ্রহণ করে কিনা সেটিও দেখতে হবে।

তবে বেশিরভাগ প্রযুক্তি বিশ্লেষক লিব্রার মাধ্যমে ফেইসবুক পতনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও মতামত দিচ্ছেন।

ইএইচ/ অক্টো ০৬/ ২০১৯ /২২০০

*

*

আরও পড়ুন