vivo Y16 Project

রোবটিক্স পড়বে স্কুলের শিক্ষার্থীরা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: রোবটিক্সকে স্কুলের পাঠ্য কার্যক্রমের অংশ করতে উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শুরুতে ঢাকাসহ বড় কিছু শহরের হাতে গোনা কয়েকটি স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে এটি পড়ানো হবে। পরে সেই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় পর্যায়ে চালুর সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানা গেছে।

আগামী বছরেই চালু হবে পরীক্ষামূলক এই শিক্ষা কার্যক্রম-এমনটাই জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আর এক্ষেত্রে সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগিতা নেবে ।

Techshohor Youtube

সরকারের পরিকল্পনা অনুসারে ষষ্ঠ থেকে অস্টম শ্রেণীতে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের সঙ্গে রোবটিক্স পড়ানো হবে। পাঠ্য ঠিক করার জন্যে এর মধ্যে কয়েকটি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আলোচনা করেছে সরকার।

তবে এর মধ্য থেকে চাইনিজ প্রতিষ্ঠান ইবিটেক রোবটিক্স (UBTECH Robotics)এর সঙ্গে সরকারের ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই প্রতিষ্ঠানটি ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষাদানের পাঠ্য তৈরিতে সে সব দেশের সরকারকে সহযোগিতা করেছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র।

নওফেল গণমাধ্যমকে বলেন, রোবটিক্স ছাড়া যে সামনের দিনে অর্থনীতি অচল হয়ে পড়বে সেটি বুঝতে আর কারো বাকি নেই। সে কারণেই বিষয়টি বাচ্চাদের পড়াশোনার মধ্যে নিয়ে আসতে চান বলেও নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

‘পরীক্ষা সফল হলে ২০২১ সালের পাঠ্যক্রমে রোবটিক্সকে অন্তর্ভূক্ত করতে চেষ্টা করবো। আলাদা বিষয় না হলেও অন্তত যাতে আইসিটির একটি বড় অংশ হিসেবে স্কুলে এটি পড়ানো হয় তার চেষ্টা থাকবে’ বলছিলেন নওফেল।

তিনি বলেন, রোবটিক্স বিষয়ে বাংলাদেশ খুবই পিছিয়ে পড়া অবস্থায় রয়েছে। সেক্ষেত্রে মাধ্যমিকে চালু করা হলেও আসলে মালয়েশিয়া বা ভিয়েতনামে যেটি প্রথমিক পর্যায়ে পড়ানো হয় সেটিই বাংলাদেশে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ানো হবে।

সরকার পরিকল্পনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রোবটিক্স ল্যাব প্রতিষ্ঠা করে সেখানে স্পন্সর করার বিষয়টিও রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক, বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের সভাপতি লাফিফা জামাল টেকশহরডটকমকে বলেন, রোবটিক্সকে পাঠ্য হিসেবে স্কুলে পড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার যা ইতিবাচক। আমাদের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে। আমরা পাঠ্যসূচি নির্ধারণে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবার ক্ষেত্রে হয়তো সহায়তা করবো।

তিনি বলেন, আমার মনে হয় রোবটিক্সকে পাঠ্য হিসেবে একেবারে সব ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। কারণ এটার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত। বিশেষ করে রোবটিক্স জানতে হলে তাকে প্রোগ্রামিং জানা বাধ্যতামূলক।

রোবটিক্সকে পাঠ্য হিসেবে পড়ানোর জন্য অবশ্যই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আগে নিতে হবে। সে জন্য প্রথমেই পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত না করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাব তৈরি করে তার অধীনে আগে আগ্রহ তৈরির কাজ করতে পারলে এটা আরও ফলপ্রসূ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন লাফিফা জামাল।

তার ভাষ্য, রোবটিক্স নিয়ে পড়ানোর জন্য ল্যাব থাকতে হবে, বিভিন্ন ধরনের টুল, কিট থাকতে হবে। সেসব তৈরির কাজ আগে করতে হবে তবেই এর সফলতা আশা করা যাবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ রোবটিক্সে খুব একটা ভালো কখনোই করেনি। তবে গত বছর রোবটিক্স অফিম্পিয়াডে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে একটি স্বর্ণপদকসহ আরও কিছু পদক অর্জন করে বাংলাদেশ।

এছাড়াও দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পয়াডে অংশ নিতে ইতোধ্যে দেশে দ্বিতীয় রোবট অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখান থেকে দল নির্বাচন করে ২১তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে পাঠানো হবে।

এর মধ্যে গত শুক্রবার ও শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক রোবট ডি চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে একটি স্বর্ণ, একটি ব্রোঞ্জ ও চারটি টেকনিক্যাল পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশ। পুরস্কার জেতা তিন অংশগ্রহণকারীর একজন অষ্টম শ্রেণী ও দুজন সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

জেডএ/ইএইচ/এডি/ অক্টো ০২/ ২০১৯/

আরও পড়ুন –

রোবট ডি চ্যালেঞ্জে আরও পুরস্কার জিতলো বাংলাদেশ

রোবট ডি চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয়

রোবট নিয়ে কাজ করলো গ্রামের স্কুল শিক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রথম স্বর্ণ

*

*

আরও পড়ুন

vivo Y16 Project