বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে সব টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ও ৩০টি বেসরকারি টেলিভিশনের আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু হয়েছে।

বুধবার সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এই সম্প্রচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলোর সম্প্রচারের ক্ষেত্রে অনেক বাধাই দূর হয়ে যাবে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আর পরনির্ভরশীলতা থাকবে না, অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। নিজের পায়ে আত্মমর্যাদার সঙ্গে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়েছে।

‘বিদেশী স্যাটেলাইট ভাড়া করে যে টাকা খরচ হতে সেটা বেঁচে গেছে। অনেক টাকা বেঁচে যাচ্ছে। টাকা পাঠানো ঝামেলাও ছিল, কবে আবার কে কোন মামলায় পড়ে যান তার দুশ্চিন্তা ছিল। এখন সে দুশ্চিন্তাও দূর হয়ে গেলো’ বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন এই স্যাটেলাইটের কারণে টেলিযোগাযোগ শিল্পে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, টেলিযোগাযোগ সেবার মান বৃদ্ধি করবে। এর মাধ্যমে টেলিমেডিসিনের সুযোগ বাড়বে।  একেবারে দূর্গম, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ, চর বা হাওর অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসার সুযোগ পাবে,পরামর্শ নিতে পারবে। এটা বিরাট একটি সহযোগিতা হবে ।

‘স্যাটেলাইটের মাধ্যমে একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ই-এডুকেশন সিস্টেম চালু করতে পারবো। ছেলেমেয়েরা অনেক উন্নত শিক্ষা সেখানে বসে নিতে পারবে। এছাড়া ৪০টি দ্বীপে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি নেটওয়ার্ক স্থাপন প্র্রকল্প নেয়া হয়েছে। এটি খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে’ বক্তব্যে জানান প্রধানমন্ত্রী।

ডাক ও টেলিয়োগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স-এর চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর আজ পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্রটি-বিচ্যুতি, সামান্যতম সমস্যাও সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

‘শঙ্কা ছিল স্যাটেলাইট বানিয়ে দিচ্ছে ফ্রান্স, উৎক্ষেপণ করে দিয়েছে আমেরিকা কিন্তু এটি চালাবে কে ? বিস্ময়কর হচ্ছে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা এখন এই স্যাটেলাইট দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছে’ জানান তিনি।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে যেভাবে সফলতার সঙ্গে আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে, সেভাবে দুই’য়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। পৃথিবীতে কেবলমাত্র ফাইভজি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, স্ট্যান্ডার্ড কী হবে তা নির্ধারণ করা হচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ ফাইভজির জন্য রোডম্যাপ তৈরি করছে।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ আজ স্যাটেলাইট ক্লাবের ৫৭তম গর্বিত সদস্য। পৃথিবীর অনেক দেশে এই স্যাটেলাইট ক্লাবের সদস্য নয়।

আজ হতে সব টেলিভিশন চ্যানেল বিদেশী কোনো স্যাটেলাইটের সেবা না নিয়ে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ব্যবহার করে সম্প্রচার করবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, দেশের সবগুলো টিভি চ্যানেলের সম্প্রচারে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সাড়ে ৫টি হতে ৬টি ট্রান্সপন্ডার লাগবে। বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানি আকাশ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৬টি ট্রান্সপন্ডার ভাড়া নিয়েছে। টেলিভিশন ছাড়াও ব্যাংকিং সেক্টর হতে অন্যান্য সেক্টরেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ট্রান্সপন্ডার ব্যবহার করা যাবে।

অনুষ্ঠানে সবগুলো টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) চুক্তিপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন কোম্পানির চেয়ারম্যান ড. শাজাহান মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রী তা অঞ্জন চৌধুরীর কাছে দেন।

আর এর মাধ্যমে বুধবার হতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক সেবাও শুরু হলো।

এর আগে ১৯ মে বিসিএসসিএলের সঙ্গে ছয়টি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল – সময় টিভি, যমুনা টিভি, দীপ্ত টিভি, বিজয় বাংলা, বাংলা টিভি ও মাই টিভি আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করছে।

তা ছাড়া বিটিভির চারটি চ্যানেলও একইভাবে এই স্যাটেলাইট দিয়ে সংবাদ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।

সবগুলো টিভি চ্যানেল মিলে প্রায় সাড়ে পাঁচ ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটি ব্যবহার করবে। এ ছাড়া এর আগে বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানি ডাইরেক্ট টু হোম বা ডিটিএইচ স্যাটেলাইট টিভিতে অনুষ্ঠান সম্প্রচারে ছয়টি ট্রান্সপন্ডার ভাড়া নিয়েছে। তাদের ব্র্যান্ড আকাশ সেবা দেওয়াও শুরু করেছে।

সব মিলে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর ক্ষমতা ৪০ ট্রান্সপন্ডারের।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চাম্পিয়নশিপ সরাসরি সম্প্রচার করা হয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে। দেশের একমাত্র স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সেটিই ছিল প্রথম টেলিভিশন সম্প্রচার।

পরে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুবাইতে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের সম্প্রচারসহ আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন।

স্যাটেলাইট কোম্পানি বলছে, অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেই আট বছরের মধ্যে স্যাটেলাইট উক্ষেপণের খরচ হওয়া দুই হাজার সাতশো কোটি টাকা উঠে আসবে।

২০১৮ সালের ১২ মে বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উক্ষেপণ করা হয় দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট।

উৎক্ষেপণের ৬ মাস পর ৯ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ফরাসি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্যালেস অ্যালেনিয়ার কাছ থেকে এর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব বুঝে পায় বাংলাদেশ।

এখন গাজীপুরের তেলিপাড়া ও রাঙামাটির বেতবুনিয়া থেকে দেশের প্রকৌশলীরা নিয়ন্ত্রণ করছে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট।

দেশের উপকূলীয় দ্বীপ ও দুর্গম অঞ্চলগুলোতে টেলিযোগাযোগ সেবা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ও সাইবার নিরাপত্তায় নিজস্ব স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বলা হচ্ছে।

এডি/ অক্টো০২/ ২০১৯/১৩৩০

*

*

আরও পড়ুন