সপ্তাহ গেল, জিপি-রবির অডিটের রিভিউ কদ্দুর

Evaly in News page (Banner-2)

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তিন সপ্তাহের এক সপ্তাহ ফুরালেও অডিট রিভিউয়ের আলোচনায় বসতে না পেরে কিছুটা অস্থির হয়ে উঠেছে দুই অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি।

অপারেটর দুটির কাছে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা দাবির অডিট রিভিউয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে বিটিআরসি, টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা ছিল তাদের।

১৮ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের উদ্যোগে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক হতে এই আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তে জিপি-রবি আশা করেছিল দ্রুতই তাদের ‍উপর আরোপিত এনওসি বন্ধসহ লাইসেন্স বাতিলে কারণ দর্শানোর নোটিশ তুলে নেবে বিটিআরসি।

অপারেটরদের কথা, দ্রুত এসব তুলে গঠনমূলক সমাধান প্রক্রিয়ায় গতি সঞ্চার করা হবে। আর এর পরই  আইনগত পদক্ষেপগুলো স্থগিত করার ব্যবস্থা নেবে তারা।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘এনওসি ও কারণ দর্শানোর নোটিশ তুলে দেয়া হবে কিসের উপরে। ওটা তো তাদের উপরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তো কোনো ডেভলমেন্ট হতে হবে যে ওমুক দিন টাকা দেবো অথবা এটাওটা করবো। আমরা তাদের দিক হতেও তেমন কেনো কিছু এখনও পাইনি। আর এগুলো তুলে দেয়ার কোনো ইস্ট্রাকশন এখনও পাইনি।’

‘আসলে পুরো বিষয়টা তাদের। এই ৪ অক্টোবর কারণ দর্শানোর নোটিশের মেয়াদ শেষ হবে। নিয়মমাফিক ৫ তারিখেই অ্যাকশনে যাওয়ার সুযোগ আছে। সেখানে হয়তো অ্যাকশনে যাবো না, যেহেতু অর্থমন্ত্রী তিন সপ্তাহের সময় দিয়েছেন। সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।’ বলছিলেন মন্ত্রী ।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় যদি বলে এভাবে সমাধান করতে হবে তাহলে সেভাবে সমাধানের দিকে যাওয়া হবে। বিটিআরসি তো ততক্ষণ পর্যন্ত কিছুই করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো ডিরেকশন না দেবে।’

মোস্তাফা জব্বার জানান, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের টাকা, সরকারি রাজস্বের টাকা, এই রাজস্বের উপর যে সুদ সেটির টাকা-এইসবগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার কর্তৃপক্ষ অর্থ মন্ত্রণালয়। আমাদের যদি বলা হয় এক টাকা মওকুফ করেন, আমরা তা করার ক্ষমতা রাখি না।’

‘শুরু হতেই সে কথাটি বলা হয়েছে, কিছু পেইমেন্ট দেয়া হোক। তারপর আলোচনার জন্য বসতে চাইলে আলোচনা বসবে। এখন কেউ যদি ট্যাক্স আপিল করে, যে ক্লেইম করা হয় তার ১০ শতাংশ দিয়ে আপিল করে, একইভাবে ঋণ খেলাপি হলে ১০ শতাংশ পরিশোধ করে আপিল করে যে কিস্তি করে দেয়া হোক। তাদের টেলিকম ডিভিশন হতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, আলোচনায় বলা হয়েছে, সমস্ত দিক হতে বলা হয়েছে, টাকা দাও আলোচনায় বসো।’ উল্লেখ করেন তিনি।

অপারেটররা বলে থাকে কোন গ্রাউন্ডে তারা এই টাকা দেবে, এই জিজ্ঞাসার কথা উল্লেখ করলে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার টাকা পাবে এটি তো অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই, এখানে বিতর্ক করার কোনো সুযোগ নেই। তারা তো সব সময় পাওনা পরিশোধ করেই। তারা ১০ শতাংশ দিক। আর তাদের ৯০ শতাংশ কমে যাবে এমন প্রত্যাশাও তো ঠিক না।’

‘এরমধ্যে অর্থমন্ত্রী তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, সেখানে আমি নিজে ছিলাম। তারা আলোচনায় বসতে রাজি  হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ বলছিলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা মাননীয় অর্থমন্ত্রীর  দিকে তাকিয়ে আছি। যে কারণে ওই দিনই প্রেস কনফারেন্স করার কথা ছিল সেটি না করে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে একমত হয়েছি। তিনি তিন সপ্তাহ সময় দিয়েছেন, এর মধ্যে যদি অপারেটররা কিছু করে অথবা অর্থমন্ত্রী কোনো ডিরেকশন সেট করেন তাহলে তা হবে। আমরা নতুন কোনো কিছু নেইনি। অর্থমন্ত্রীর দেয়া সময়ের মধ্যে কোনো ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে না।

‘আর অর্থমন্ত্রী লিখিত বা মৌখিকও আমাদের কিছু করতে বলেননি।’ উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

গ্রামীণফোন লিখিত বিবৃতিতে জানায়, লাইসেন্স বাতিল সংক্রান্ত কারণ দর্শানো নোটিশ, এনওসি ও ইন্টিমিশন এর উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উঠানোর বিষয়ে গ্রামীণফোন বিটিআরসির কাছ থেকে এখনও কোনো নিদের্শনা পায়নি। যদিও গত ১৮ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন একটি গঠনমূলক আলোচনা ও অপারেটরদের ব্যবসায়িক পরিবেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আগের সকল নিষেধাজ্ঞা আর বলবৎ থাকবে না।  বিরোধপূর্ণ অডিটকে কেন্দ্র করে বিটিআরসি তাদের সকল নিষেধাজ্ঞা শীঘ্রই তুলে নিয়ে গঠনমূলক সমাধান প্রক্রিয়ায় গতি সঞ্চার করতে সহায়তা করবে।

মামলার বিষয়ে গ্রামীণফোনের দেয়া বক্তব্যে বলা হয়, অমীমাংসিত অডিট বিষয়ে একটি সুষ্ঠ সমাধান প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে বিটিআরসি যখনই লাইসেন্স সংক্রান্ত কারণ দর্শানো নোটিশসহ আরোপিত অন্যান্য নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেবে, গ্রামীণফোন তখনই আইনগত পদক্ষেপগুলো স্থগিত করার ব্যবস্থা নেবে।

রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলছেন, নিরীক্ষা আপত্তি নিয়ে উদ্ভুত জটিলতা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে সে জন্য অর্থমন্ত্রী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, এনবিআর এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে তারা ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, তারা এ বিষয়ে দ্রুত বিটিআরসির পরবর্তী পদক্ষেপ ও নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন। যেখানে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে নিরীক্ষা নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে।

এর আগে অডিট দাবি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা মতদ্বৈততায় অপারেটর দুটির এনওসি বন্ধসহ লাইসেন্স বাতিলে কারণ দর্শানোর নোটিশ পর্যন্ত দিয়ে ফেলে বিটিআরসি। এমনকি প্রশাসক বসিয়ে পাওনা আদায়ে চিন্তাভাবনা করছিল নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।  অন্যদিকে লাইসেন্স বাতিলে কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়ে আদালতে চলে যায় জিপি-রবি।

এরপর ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এই রিভিউ হবে। এটি করতে দু’তিন সপ্তাহ লাগতে পারে। তবে এটি কীভাবে করা হবে সেটি ঠিক হয়নি।

এখানে দুই পক্ষকেই ছাড় দিয়ে এগিয়ে আসতে হবে, তখন উল্লেখ করেন তিনি।

পাওনা আদায়ে এনওসি বন্ধসহ যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল এবং অপারেটর দুটির আদালতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখন কী হবে এমন প্রশ্নে আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেছিলেন, আর কোনো বিরোধ নয়। মামলা প্রত্যাহার করবে অপারেটর ‍দুটি। আমরা সবকিছু ভুলে যাবো এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।

সেখানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছিলেন, ব্যবসার সুস্থ পরিবেশ যেন বিঘ্নিত না হয় তা তারা চান। আবার জাতীয় অর্থ, জাতীয় রাজস্ব এ বিষয়টিও উপেক্ষা করার মতো বিষয় নয়। এখানে কোনো পক্ষ হারতেও চাই না, কোনো পক্ষকে হারাতেও চাই না।

ওই বৈঠকে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি উপস্থিত ছিলেন।

পুনঃনিরীক্ষার পর বিটিআরসি গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে। একই সঙ্গে রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি তাদের।

আর এই পাওনা আদায়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে গ্রামীণফোন ও রবিকে নোটিশ দেয় বিটিআরসি। এতে ৩০ দিনের মধ্যে তার কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়।

এর আগে ৪ জুলাই গ্রামীণফোনের মোট ব্যবহার করা ব্যান্ডউইথের ৩০ শতাংশ এবং রবির ব্যবহৃত ব্যান্ডউইথের ১৫ শতাংশের ওপর ক্যাপিং আরোপ করে কমিশন।

তবে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার সীমিত করায় সেটি গ্রাহকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে – বিবেচনায় আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে পরে দুই অপারেটরের এনওসি বন্ধ করে দেয়া হয়।

তবে অপারেটর দুটি এই পাওনাকে ‘ বিতর্কিত নিরীক্ষা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে’ করা হচ্ছে বলে আসছে।

তারা এ সমস্যার সমাধান বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি অথবা  আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে করতে চায় বলে বলে আসছিল।

এডি/২০১৯/সেপ্টেম্বর২৪/২২০০

*

*

আরও পড়ুন