ই-নামজারিতে সেবা পেয়েছে কোটি মানুষ : ভূমি মন্ত্রী

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে গত জুলাই থেকে শুরু হয়েছে ই-নামজারি কার্যক্রম। ভূমিমন্ত্রণালয়ের অধীনে এই কাজে কোটির বেশি নাগরিককে সেবা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

তিনি বলেন, চলতি জুলাই থেকে সারাদেশে ই-নামজারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বর্তমানে ৪৮৫টি উপজেলা ভূমি অফিস ও সার্কেল অফিসে এবং ৩৬১৭টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ই-নামজারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়েছে। ই-নামজারি কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১ কোটির অধিক নাগরিককে সেবা প্রদান করা হয়েছে।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর দেশে প্রায় ৪২ লাখ ভূমি রেজিস্ট্রেশন হয় এবং উত্তরাধিকার সূত্রে আরও ২০ থেকে ২৫ লাখ নামজারির ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। কিন্তু মালিকানা হালনাগাদ হয় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ। প্রচলিত পদ্ধতিতে, প্রায় ৩০ লাখ ভূমি হস্তান্তর নামজারি রেকর্ড হালনাগাদেরর বাইরে থেকে যায়।

ই-নামজারির মাধ্যমে জনগণ সহজেই এখন সহজে, দ্রুততম সময়ে ও নির্ভুলভাবে অনলাইনে নামজারি করতে পারছেন বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

ভূমি মন্ত্রণালয় এবং এটুআইয়ের যৌথ আয়োজনে সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ই-নামজারির সক্ষমতা মূল্যায়নে গবেষণালব্ধ ফলাফল’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন ব্রডব্যান্ড চালু না হলে পুরোপুরি ই-নামজারির সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সৌর বিদ্যুৎ সংযোগের কথাও চিন্তা করা হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রকৃত লক্ষ্য পূরণে ভূমিমন্ত্রী সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের কর্মকাণ্ডের রেটিং সিস্টেম করা গেলে আরও ভালো ভাবে সেবা দেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, দেশে ডিজিটাল পরিষেবা বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা বিদ্যুত সংযোগ নিশ্চিতকরণে, ইন্টারনেট সংযোগ বৃদ্ধি করাতে, সফটওয়্যার সিস্টেমের সল্যুশন উন্নয়নে ও ক্যাপাসিটি ডেভলপমেন্ট আধুনিকায়নে কাজ করছি।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলে ইউনিভার্সিটি’র একটি গবেষক টিম ই-নামজারি সেবা প্রদান বিষয়ে একটি গবেষণালব্ধ ফল তুলে ধরেন।

গবেষকরা তাদের গবেষণায় ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময়ে প্রদত্ত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নামজারি সেবা ও ই-নামজারি সেবা প্রদানের বিষয়ে ১৫৫টি উপজেলায় প্রদত্ত নামজারি সেবা প্রদানের বিষয়ে গবেষণা করেছেন।

ফলাফলে দেখা গেছে-ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সেবা প্রদানের হার ই-নামজারির মাধ্যমে নামজারি সেবা প্রদানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৪৫ দিনের ক্ষেত্রে ৩৬ শতাংশ সেবা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমান ২৮ দিনের ক্ষেত্রে নামজারি সেবা প্রদানের হার ২০ শতাংশ সেবা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নামজারি সেবা প্রদানের সময়সীমা ৪৫ দিন থেকে বর্তমানে ২৮ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ই-নামজারি পদ্ধতিতে সেবা গ্রহণে, সনাতন পদ্ধতির চেয়ে উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা প্রার্থীদের যাবার হার ১৭ শতাংশ কম এবং ভূমি অফিসে সময় ব্যয় করার হার ৭ শতাংশ কম।

ভূমি মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে মনিটরিং ও বহুমাত্রিক বিশ্লেষণের জন্য ডেটা প্রস্তুত করতে পারছে। ভূমি তথ্য ও সেবা কাঠামোতে যুক্ত থাকায় অন্যান্য ভূমি সেবার সঙ্গে আন্তঃসংযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

একই সঙ্গে, উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে সম্পত্তির হিসাব করা যাচ্ছে। ই-নামজারির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘরে বসে অথবা নিকটস্থ ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে নামজারির নতুন এই পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে জনগণের সময়, খরচ ও ভোগান্তি বহুগুণে কমে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান উম্মুল হাছনা ও এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আবদুল মান্নান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টারের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ইমরান মতিন, কান্ট্রি ইকোনমিস্ট ফারিয়া নাইম, ইয়েলে ইউনিভার্সিটি’র পিএইচডি গবেষক মার্টিন মাটসন এবং ভূমি মন্ত্রণালয় ও এটুআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ইএইচ/সেপ্টে ১৬/ ২০১৯/ ২০৩০

*

*

আরও পড়ুন