আলিবাবার নাগাল পেতে ছুটছে পিনদওদও

china-techshohor

আনিকা জীনাত, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ই-কমার্স ব্যবসা কিভাবে তা চালাতে হয় তা সবচেয়ে ভালো জানে চীনা ব্যবসায়ীরা।

পণ্য বিক্রি হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি তারা মোটেও ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেয় না। ক্রেতাকে তার পছন্দ অনুযায়ী পণ্য দেখালে বিক্রি যে হবেই তা ভালো করেই জানে তারা। এ কারণে তারা খুবই অদ্ভুত এক ব্যবসায়িক কৌশল মেনে চলে।

যেমন ১০০ টাকা আয় করে পুরো টাকাই তারা পণ্যের প্রচারণা চালাতে নয়তো প্রযুক্তির সহায়তায় পণ্যের বিক্রি বাড়াতে খরচ করে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করে মাত্র চার বছরেই চীনের ই-কমার্স জায়ান্টে পরিণত হয়েছে পিনদওদও নামের একটি কোম্পানি। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটি প্রতিষ্ঠা করেন চীনের বিলিয়নিয়র ব্যবসায়ী কলিন হুয়াং।

প্রতি মাসে অ্যাপটির সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৬৬ মিলিয়ন (৩৬ কোটি ৬০ লাখ)। ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিচারে তারা ই-কমার্স সাইট জে.ডি ডটকমকে পেছনে ফেলেছে। এখন তাদের সামনে কেবল আছে আলিবাবা।

সাংহাইভিত্তিক পিনদওদওয়ের বাজার মূল্য এখন ৪০ বিলিয়ন ডলার (৪ হাজার কোটি ডলার)। চীনের শীর্ষ পাঁচ ইন্টারনেট কোম্পানির তালিকায়ও নাম আছে তাদের।

পিনদওদওয়ের মোবাইল অ্যাপ থেকে প্রায়ই কেনাকাটা করেন লি সুঝি। পেশায় তিনি বেবি সিটার। তিনি জানান, অ্যাপটিতে এতো বেশি অফারের ছড়াছড়ি যে তিনি পারলে তার সব টাকাই এখানে খরচ করে ফেলেন। অ্যাপটি ব্যবহারের ব্যাপারের আরও সতর্ক হতে হবে বলে মনে করেন তিনি। যারা অন্যান্য ই-কমার্স সাইটের চেয়ে কমে সস্তায় পণ্য কিনতে চান তারাই মূলত পিনদওদওয়ের গ্রাহক। এই গ্রাহকদের বিশাল একটি অংশ চীনের গ্রামাঞ্চলে থাকে। চীনের বড় বড় শহরের বাসিন্দারা সাধারণত নামী দামি ব্র্যান্ডের পণ্য কিনতে আগ্রহী থাকেন। তাই তাদের কথা মাথায় রেখে প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়নি।

মজার ব্যাপার হলো, গ্রাহককে পণ্য দেখিয়ে আকৃষ্ট করতে সার্চ বার অপশনটি একটু আড়ালে রেখেছে তারা। সার্চ করে গ্রাহকরা নির্দিষ্ট একটি পণ্য কিনবেন তা তারা চায় না বরং বিভিন্ন পণ্য দেখতে শুধু ব্রাউজ করে গেলেই তারা খুশি। কারণ তারা জানে, বেশি পণ্য দেখাতে পারলে বিক্রির সম্ভাবনাও বেশি।

 তাই গ্রাহকদেরকে পছন্দসই পণ্য দেখাতে তারা অ্যালগরিদম ব্যবহার করে।এই কৌশলে ব্যবসা হু হু করে বাড়লেও লাভের মুখ দেখা এখনও বাকি আছে কোম্পানিটির। প্রচারণায় তারা প্রচুর খরচ করছে। প্রথম ছয় মাসে যা আয় করেছে তার প্রায় পুরোটাই বিক্রি বাড়াতে ও প্রচারণা চালাতে তারা ব্যয় করেছে।

২০২০ সালের আগে তারা লাভের মুখ দেখবে না বলে জানিয়েছেন একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের লজিস্টিক আইটি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাথি রবারসন। তিনি বলেন, আলিবাবা ও জেডি ডটকমের সঙ্গে পাল্লা দিতে তারা এই কৌশলেই ব্যবসা পরিচালনা করবে।

এজেড/ সেপ্টেম্বর ১৬/২০১৯/১১২৫

আরও পড়ুন –

এক ঘণ্টায় আলিবাবার বিক্রি ১০০০ কোটি ডলার

আলিবাবার অত্যাধুনিক সুপার মার্কেট ‘হিমা’

*

*

আরও পড়ুন