উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম গড়তেই স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ : পলক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, দেশে উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্যই স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের যেসব উদ্ভাবনী উদ্যোগ আজ সফল ও বড় তার সবারই শুরু হয়েছে পড়ালেখা করা অবস্থায়। শিক্ষার্থী থাকার সময়ই এসব উদ্যোগ আলোর মুখে দেখেছে।

দেশেও একটা উদ্ভাবনের সংস্কৃতি গড়ে তোলার কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রোববার প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর আগারগাঁওস্থ আইসিটি টাওয়ারে ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা  উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্পের (আইডিয়া)’ কার্যালয়ে  ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ’ দ্বিতীয় পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

 তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট এনজয় করছে। দেশের প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি জনগণের ৭০ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। প্রায় সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ-তরুণী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা দরকার।

বিশ্বের অনেক দেশেই এই তারুণ্যের সংকট হচ্ছে। কিন্তু শুধু চাকরি দিয়ে বিপুল সংখ্যক এই তরুণ তরুণীদের কর্মসংস্থান  করা যাবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেজন্য তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

স্টার্টআপ সংস্কৃতি এবং প্রতিযোগিতার সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক ফলাফল রয়েছে উল্লেখ করে পলক বলেন, আমাদের তরুণদের একদিনের জন্য আহার দিতে চাই না। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ থেকে তরুণদের জন্য সারাজীবনের আহারের সংস্থান তৈরি করতে পারে এমন কর্মসংস্থান তৈরি করতে চায়, যেন তরুণরা চাকরি খোঁজার পরিবর্তে চাকরি দিতে পারে।

পলক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্ভাবনীকে কাজে লাগিয়ে দেশে একটি ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ইনোভেটিভ আইডিয়া ও আইটি বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার চলতি বাজেটে উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া আইডিয়া প্রকল্প থেকে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আইডিয়া প্রকল্প থেকে একজন উদ্যোক্তা সিড পর্যায়ে ১০ লাখ এবং গ্রোথ স্টেজে এক কোটি থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেবের সভাপতিত্বে অন্যান্যোদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. সাজ্জাদ হোসেন ও আইডিয়া প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মুজিবুল হক এবং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর সহযোগী সমন্বয়ক তন্ময় আহমেদ।

আইডিয়া প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মুজিবুল হক বলেন, স্টার্টআপ ইনকিউবেশন এবং স্টার্টআপদের উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি করার মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ফান্ডিং করা হবে আইডিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে।

একই সাথে ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ : অধ্যায় ২’ এর কার্যক্রমটির সফলভাবে সমাপ্তকারী টিমগুলো দেশের পরবর্তী সফল এবং বৃহৎ স্টার্টআপ হবে বলেও তিনি আশা করেন।

দ্বিতীয় পর্বের স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ দেশের ২৫ ভেন্যু থেকে ৭৫টি প্রকল্প বাছাই করা হবে। এই ঠিকানায় গিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন আগ্রহীরা। আর এবারই প্রথম স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন।

স্টার্টআপদের পাঠানো আইডিয়াগুলো থেকে নির্বাচন করা হবে ৩০টি স্টার্টআপ। এদের মধ্য থেকে ২০টি স্টার্টআপকে রানারআপ এবং ১০টি স্টার্টআপকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। বিজয়ী স্টার্টআপদের আইডিয়া প্রকল্প থেকে ফান্ডিং দেওয়ার পাশাপাশি মেন্টরিংসহ নানাভাবে সহযোগিতা করা হবে।

ইএইচ/ সেপ্টে ১৫/ ২০১৯/ ১৬১৮

আরও পড়ুন :

শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু

*

*

আরও পড়ুন