ভবিষ্যতের ওএস হারমনি

হুয়াওয়ের নতুন অপারেটিং সিস্টেম হারমনিতে কী আছে? এটি নিয়ে কী পরিকল্পনা তাদের?

টেকশহরের মুখোমুখিতে এসব নিয়ে বলেছেন হুয়াওয়ের সিনিয়র প্রোডাক্ট মার্কেটিং এক্সপার্ট রেমন্ড ঝো। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আল-আমীন দেওয়ান। 

আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধে সম্প্রতি গুগলের সেবা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞায় হুয়াওয়ে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেয়েছে স্মার্টফোন ব্যবসায়। অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার নিয়ে বিপাকে পড়ে যায় তারা। বিশ্বের স্মার্টফোন বাজারে শীর্ষ অবস্থান দখলে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়া ব্র্যান্ডটি হঠাৎ থমকে দাঁড়ায়। 

তবে এ ধাক্কায় নিজের স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার চেষ্টায় বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম সামনে নিয়ে আসে কোম্পানিটি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যা হয়, ঘুরে দাঁড়ানোর তুমুল চেষ্টা। 

চলতি বছরের আগষ্টের শুরুতে চীনে হুয়াওয়ের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে নিজেদের অপারেটিং সিস্টেম হারমনি এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন হুয়াওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড উ। 

বিশ্বজুড়ে শুরু হয় নতুন এই অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে আলোচনা। কী বিশেষ প্রযুক্তি আর কী নতুন আছে এতে, যা দিয়ে অ্যান্ড্রয়েডের বিপরীতে লড়বে হুয়াওয়ে?  

মূলত এসব জিজ্ঞাসাই রাখা হয়েছিল সম্প্রতি বাংলাদেশ ঘুরে যাওয়া হুয়াওয়ের প্রধান কার্যালয়ের এই বিশেষজ্ঞের কাছে। 

টেকশহর : বিশ্বে এখন একচোটিয়া রাজত্ব অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপলের। মাইক্রোসফট, স্যামসাং, নোকিয়ার মতো জায়ান্টরা নিজেদের অপারেটিং সিস্টেমের প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে কার্পন্যও করেনি। শেষ পর্যন্ত তাদের হাল ছেড়ে দিতে হয়েছে। 

এই চ্যালেঞ্জ হারমনি ওএস কীভাবে নেবে?

রেমন্ড ঝো : হারমনি ওএস অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস হতে সম্পূর্ণ আলাদা । এর গঠনশৈলি ও কার্যক্ষমতার কারণে হারমনি নতুন ইকোসিস্টেম তৈরি করবে। 

এটি ভবিষ্যতের অপারেটিং সিস্টেম। মূলত ফাইভজি ও আইওটিকে ঘিরে। হাজার হাজার কোটি নিরাপদ সংযোগ তাৎক্ষণিকভাবে গড়তে পারার প্রযুক্তি ফাইভজি । পরিবহন, স্বাস্থ্য, জরুরি সেবা, উৎপাদন ও বিতরণ থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই বড় প্রভাব ফেলবে ফাইভজি ও আইওটি প্রযুক্তি। যেখানে শুধু সকল মানুষ-মানুষে নয় বিশ্বের সব যন্ত্রপাতি-জিনিসপত্রও সবাই সবার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

হুয়াওয়ে ভবিষ্যতের এই ইনটেলেকচুয়াল জীবনব্যবস্থার কথা ভেবেছে আরও দশ বছর আগে। এখানেই হারমনি এমন একটি অপারেটিং সিস্টেম হবে যা সব কিছুতে চলবে। এভাবে সব ধরনের ডিভাইসকে সম্পৃক্ত করে একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করবে হারমনি। 

আবার এই ওএসেকে ঘিরে ডেভলপাররা যেন অ্যাপ তৈরিতে আগ্রহী হন তার আয়োজনও রেখেছে হুয়াওয়ে। হারমনিকে সম্পৃক্ত করে একটি ডেভলপার ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হুয়াওয়ের উদ্যোগ রয়েছে। যাতে বিষয়টি যেন সহজ হয় এবং ডেভলপাররা আগ্রহী হন এমন অনেক কিছুই হতে যাচ্ছে। 

আসলে হারমনি নিয়ে হুয়াওয়ের প্রতিযোগিতাটা এখনকার নয়, ভবিষ্যতের। 

টেকশহর : হারমনি ওএসের বিশেষত্ব কী?

রেমন্ড ঝো : হারমনি ওএস মাইক্রোকার্নেল বেইজ। বিভিন্ন রকম ডিভাইসের জন্য এর রয়েছে  ডিস্ট্রিবিউটেড অপারেটিং সিস্টেম। এটি ব্যবহারের পরিধি হবে ব্যাপক। মাইক্রোকার্নেলে হওয়ায় এটি  স্মার্ট স্পিকার, স্মার্ট স্ক্রিন, গাড়ি, কম্পিউটার, স্মার্ট ওয়াচ, ট্যাবলেট এবং স্মার্টফোনে ব্যবহার করা যাবে। মানে সব রকম ডিভাইস, প্রসেসরে একটি কাজ করবে। 

এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে এর ব্যবহার হবে সম্পূর্ণ নিরাপদ। যেহেতু মাইক্রোকার্নেলের সঙ্গে মূল সিস্টেমের সরাসরি কোনো কার্যক্রম নেই তাই রুটে প্রবেশের সুযোগ নেই। 

হারমনির ওএসের ডিটারমিনিস্টিক ল্যাটেন্সি ইঞ্জিনের কারণে অ্যাপের ল্যাগ নেমে আসবে অনেক কমে।

এছাড়া এর প্রযুক্তিতে অনেক নতুনত্ব রয়েছে যাতে এই অপারেটিং সিস্টেম একেবারে বিরামহীন, স্মুথ, নিরাপদ ও দারুণ সমন্বয় ক্ষমতার। 

টেকশহর : হারমনি ওএস কি ওপেন সোর্স হবে?

রেমন্ড ঝো : হ্যা, হারমনি ওএস ওপেন সোর্স হবে। অপারেটিং সিস্টেমটি নিয়ে ওপেন-সোর্স ফাউন্ডেশনের কথা ভাবা হতে পারে। বিশ্বব্যাপি কমিউনিটি তৈরি করা হবে, এতে সবাই অবদান রাখতে পারবে। 

টেকশহর :  প্রাথমিকভাবে এমন কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে যা অপারেটিং সিস্টেমটিতে কাজ করতে বিশ্বব্যাপী ডেভলপাররা উৎসাহিত হবে?

রেমন্ড ঝো : ডেভেলপাররা হুয়াওয়ের তৈরি আর্ক কম্পাইলার দিয়ে অ্যান্ড্রয়েড ওএস প্লাটফর্মে তৈরি অ্যাপের সোর্সকোড কম্পাইল করে হারমনি ওএসের উপযোগি করতে পারবেন। এছাড়া হারমনিতে ডেভলপ করা একটি অ্যাপ অনায়াসেই অনেকগুলো ডিভাইসে চালানো যাবে। এ বিষয়গুলো অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস হতে বাড়তি বিশেষ সুবিধা মনে করতে পারেন ডেভলপাররা।

টেকশহর : হারমনি অপারেটিং সিস্টেমের স্মার্টফোন কবে নাগাদ বাজারে আসতে পারে?

রেমন্ড ঝো : এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। হুয়াওয়ে এখনো আন্তর্জাতিকভাবে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমই ব্যবহার করবে। যদি কখনো গুগলের সঙ্গে ব্যবসা করা কঠিন মনে হয় তখন হারমনি ওএসের ব্যবহারের বিষয়টি আসবে। তবে হারমনি অপারেটিং সিস্টেমের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।   

আরও পড়ুন – 

এ যুদ্ধে কেউ জিতবে না : হুয়াওয়ে প্রতিষ্ঠাতা

প্রতিশোধ নেবে না হুয়াওয়ে, আপসও নয়

*

*

আরও পড়ুন