৭ বছরেও থ্রিজির পরীক্ষা শেষ হয়নি টেলিটকের!

Teletalk_3G_Techshohor
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটরটি ২০১২ সালের আগস্টে দেশে পরীক্ষামূলকভাবে থ্রিজির বাণিজ্যিক সেবা শুরু করে।অন্য অপারেটরগুলো ফোরজি চালুর পর এখন ফাইভজি নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

এরই মধ্যে সাত বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। টেলিটক এখনো চলছে সেই ‘পরীক্ষামূলক’ মোড়কে।

প্রতিবারই মেয়াদ শেষে ‘পরীক্ষামূলক’ সেবার পুনঃঅনুমোদনও নিচ্ছে একমাত্র সরকারি অপারেটরটি। এভাবেই চলছে তাদের থ্রিজি সেবা। অবশ্য চতুর্থ প্রজন্মের সেবা ফোরজি চালু করতেও তারা দেরিতে হলেও উদ্যোগী হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে যখন থ্রিজি সেবা ছিল না, তখন টেলিটককে দিয়েই সরকার ওই সময়ের দ্রুত গতির মোবাইল ইন্টারনেট সেবার প্রচলন করতে চেয়েছিল। তাই তখন তাদের ‘পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক সেবা’র অনুমোদন দেওয়া হয়।

শুরুর দিকে থ্রিজি দিয়ে বেশ কিছু গ্রাহকও পেয়ে যায় টেলিটক। কিন্তু ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে অন্য বেসরকারি অপারেটরগুলো থ্রিজি’র লাইসেন্স পেলে পিছিয়ে পড়তে শুরু করে টেলিটক। গ্রাহকতো আর বাড়েনি, বরং অনেক ক্ষেত্রে ছুটে গেছে।

থ্রিজির যাত্রার সময় টেলিটক ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামও পায় এ সেবা দিতে। তখন যেটির বাজার মূল্য ছিল এক হাজার ৫৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছিল এই মূল্যের ওপর। অন্য অপারেটররা তা পরিশোধও করে। সে হিসাবে আরও ৭৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা পাওনা বিটিআরসির।

টেলিটকের এক বছর পর থ্রিজির জন্য ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম নিয়েও এক হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা পরিশোধ করে গ্রামীণফোন। তখন বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল স্পেকট্রাম নিয়েছিল ৫ মেগাহার্ডজ করে।

স্পেকট্রামের এ অর্থ এখনও পরিশোধ করেনি সরকারি অপারেটরটি। অন্যান্য অপারেটরের যে কোনো বকেয়া ফির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ বিলম্ব ফি ধরা হলেও টেলিটক ছাড় পাচ্ছে।

এটি নিয়ে অশ্বস্তিতে রয়েছে খোদ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ কারণে সম্প্রতি তাদের টুজি’র লাইসেন্স নবায়নের সময় আবার এ বিষয়টি আলোচনায় আসে।

আগামী ৩১ আগস্ট শেষ হবে রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটরটির ১৫ বছরের লাইসেন্সের মেয়াদ। এমনকি এটি নবায়নে বিটিআরসির পক্ষ থেকে অনুরোধ করার পরই টেলিটক আবেদন করে।

সূত্র জানিয়েছে, গত এপ্রিল মাসে বিটিআরসি এ বিষয়ে প্রথম টেলিটককে অনুরোধ করে। পরে চলতি মাসে তারা আবেদন জমা দেয়।

এ দিকে টেলিটকের সব দেনা-পাওনার বিষয়ে সরকারকে অবহিত করে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

স্পেকট্রামের মূল্য ছাড়াও দুই বছর ধরে টেলিটক সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে কোনো অর্থ দিচ্ছে না। তা ছাড়া অপারেটরটির আরও কিছু বকেয়া জমা হয়েছে।

জেডএ/আরআর/ ২৬ আগস্ট/২০১৯/১৪৩০

আরও পড়ুন –

টেলিটকের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩১ আগস্ট

টানা পতন ঠেকছে না টেলিটকের

*

*

আরও পড়ুন