vivo Y16 Project

হুয়াওয়ে ওয়াই৯ প্রাইম : ভালো ক্যামেরা, চার্জে ধীরগতি

রিয়াদ আরিফিন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর :  হুয়াওয়ে দেশের বাজারে তাদের ওয়াই সিরিজের লাইনআপে সর্বশেষ যুক্ত করেছে পপআপ ক্যামেরার নতুন ফোন। ‘ওয়াই৯ প্রাইম ২০১৯’ নামের ফোনটি দেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

এ রিভিউতে ফোনটির ভালো মন্দ তুলে ধরার চেষ্টা থাকছে।

এক নজরে স্মার্টফোনটির ফিচার ও কনফিগারেশন

Techshohor Youtube
  • ৬.৫৯ ইঞ্চির ফুল এইচডি ডিসপ্লে
  • কিরিন ৭১০ প্রসেসর
  • ৪ গিগাবাইট র‍্যাম ও ১২৮ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরি
  • ৪ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি
  • ১৬, ৮ ও ২ মেগাপিক্সেলের ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা
  • ১৬ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা

ডিজাইন

কালো, সবুজ ও নীল তিনটি ভিন্ন রঙে ফোনটি পাওয়া যাবে। প্লাস্টিক বডির ফোনটির ডিজাইন বেশ আকর্ষনীয়। ৮.৮ মিলিমিটার পুরুত্বের ফোনটি দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে যথাক্রমে ১৬৩.৫ ও ৭৭.৩ মিলিমিটার এবং ওজনে ১৯৭ গ্রাম।

ফোনটির ডানদিকে রয়েছে পাওয়ার বাটন ও ভলিউম রকার। ফোনটিতে থাকছে হাইব্রিড সিম কার্ড স্লট, যেটিতে দুটি ন্যানো সিম কিংবা একটি সিম ও একটি মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করা যাবে।

ফোনের পিছনে থাকছে ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। আর নিচে দিকে থাকছে স্পিকার, ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট ও ৩.৫ মিমি অডিও জ্যাক।

ফোনের ফ্রন্ট ক্যামেরাটি থাকবে একবারে উপরের দিকে, যেটি হালের ট্রেন্ড পপআপ ক্যামেরা। তবে এটির ডিজাইন সন্তোষজনক নয়। ক্যামেরাটি ফোনের যে অংশে যুক্ত তার চারদিকে কিছুটা ফাঁকা অংশ বিদ্যমান, যা দেখতে অনেকরই পছন্দ নাও হতে পারে।

আল্ট্রা ফুলভিউ ডিসপ্লে 

ফোনটিতে নচবিহীন আল্ট্রা ফুল ভিউ ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে বেজেলের পরিমাণ বেশ কম। বডি ও স্ক্রিন অনুপাত ১৯.৫:৯। ৬.৫৯ ইঞ্চির আইপিএস প্যানেলের ডিসপ্লেটির রেজুলেশন ১০৮০*২৩৪০ পিক্সেল এবং পিক্সেল ঘনত্ব  ৩৯১। ডিসপ্লেটি ১৬.৭ মিলিয়ন কালার সমর্থন করে।
ব্যবহারিক অভিজ্ঞতায় এই ফোনের ডিসপ্লে বেশ ভালো পারফরমেন্স দেবে।

তবে ডিসপ্লেতে কোনো প্রটেকশন ব্যবহার করা হয়নি, যা এই বাজেটের ফোনে একটি মন্দ দিক। তবে হুয়াওয়ের পক্ষ থেকে একটি গ্লাস প্রটেক্টর বিনামূল্যে দেয়া হবে যা ডিসপ্লেতে লাগানো অবস্থায় থাকবে।

পপআপ ক্যামেরা 

ফোনটিতে সেলফি তোলার জন্য দেয়া হয়েছে হালের ট্রেন্ড পপআপ ক্যামেরা যা ১৬ মেগাপিক্সেল সক্ষমতার। ফ্রন্ট ক্যামেরাটির ছবির মান বেশ ভালো। বিশেষ করে যারা সেলফি তুলতে ও তা সোশ্যাল মিডিয়ায় তা শেয়ার করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এই ফোন আদর্শ হতে পারে।

এছাড়া ফোনটির পিছনে রয়েছে ৩ ক্যামেরা সেটআপ। যার মধ্যে মূল ক্যামেরাটি এফ১.৮ অ্যাপারচারের ১৬ মেগাপিক্সেল সক্ষমতার, সঙ্গে থাকছে ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স ও ২ মেগাপিক্সলের ডেপথ সেন্সর। ফলে পিছনের ক্যামেরা দিয়ে বড় আকারের ওয়াইড ছবি তোলা যাবে। ব্যাক ক্যামেরার ছবির মান বেশ ভালো, কালার ও ডিটেইল সন্তোষজনক। তবে কম আলোতে ছবির মান আরও কিছুটা ভালো হতে পারত। সবমিলিয়ে ফোনটির ক্যামেরা বাজেটে চলনসই বলা যায়।

পারফরমেন্স ও ইউআই 

৪ গিগাবাইট র‍্যামের ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে হুয়াওয়েও নিজস্ব কিরিন ৭১০এফ মডেলের চিপসেট। অক্টাকোর এই প্রসেসর থেকে সর্বোচ্চ ২.২ গিগাহার্জ পর্যন্ত গতি পাওয়া যাবে। গ্রাফিক্স প্রসেসিং এ থাকবে মালি জি-৫১ এমপি-৪ জিপিউ।

ফোনটি চলবে অ্যান্ড্রয়েড ৯ পাই এর উপর তৈরি করা হুয়াওয়ের নিজস্ব ইমোশন ইউআই-তে। ফলে অ্যান্ড্রয়েডের পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে হুয়াওয়ের নিজস্ব কিছু ফিচারও মিলবে। হুয়াওয়ের ফোনটিতে প্লেস্টোরসহ গুগলের অন্যান্য সব সুবিধা পাওয়া যাবে।

সবমিলিয়ে ফোনটি থেকে ভালো মানের পারফরমেন্স মিলবে। দৈনন্দিন ব্যবহার কিংবা মাল্টিটাস্কিংয়ে হ্যাং হয়ে যাওয়ায় মতো বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না।

ফোনটি দিয়ে হালকা থেকে মাঝারি মানের গেইম ভালোভাবেই খেলা যাবে। তবে হাই গ্রাফিক্সের গেইমের ক্ষেত্রে বেশ বেগ পেতে হবে। তাই হাই গ্রাফিক্স গেইমারদের জন্য এই ফোন এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

তবে যারা দৈনন্দিন কাজে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন তারা অনায়েসেই এটি থেকে ভালো পারফরমেন্স পাবেন।

ভালো ব্যাটারি লাইফ, চার্জিংয়ে ধীর গতি

ফোনটিতে ৪ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ভালো মানের ব্যাকআপ নিশ্চিত করবে। একবার ফুল চার্জ করলে তা দিয়ে অনায়েসেই এক বা দেড় দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে।

ডিভাইসটিতে কুইক চার্জিং প্রযুক্তি নেই। তাই চার্জ হতে কিছুটা সময় বেশি লাগবে। বক্সে থাকা চার্জার দিয়ে এটি চার্জ হতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় নেয়।

স্টোরেজ, কানেক্টিভিটি ও অন্যান্য

ফোনটির ১২৮ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ সংস্করণে বাজারে পাওয়া যাবে। সাথে থাকছে মেমোরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা।

ফোরজি সুবিধা সম্বলিত এই ফোনে ৩.৫ অডিও জ্যাক ও মিলবে। চার্জিংয়ের জন্য থাকবে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট।

প্যাকেজিং, মূল্য ও বিক্রোত্তর সেবা

এক বছরের ওয়ারেন্টিসহ দেশের বাজারে ফোনটি বিক্রি হচ্ছে ২৩ হাজার ৯৯৯ টাকায়।

বক্সে ফোনটির পাশাপাশি মিলবে ব্যাক কাভার, গ্লাস প্রটেক্টর, সিম ইজেক্টর পিন, চার্জার, ক্যাবল, ইয়ারফোন, ইউজার ম্যানুয়াল ও ওয়ারেন্টি কার্ড।

এক নজরে ভালো 

  • ভালো পারফরমেন্স
  • আল্ট্রা ফুল-ভিউ ডিসপ্লে
  • ভালো মানের ক্যামেরা
  • দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি

এক নজরে খারাপ

  • ফেইস আনলক সুবিধা নেই
  • কুইক চার্জিং সুবিধা নেই
  • গরিলা গ্লাস প্রটেকশন দেয়া হয়নি

আরএ/ ইএইচ / অক্টোবর ০৬ / ২০১৯/১৫২৩

*

*

আরও পড়ুন

vivo Y16 Project