ডেঙ্গু সচেতনতায় অ্যাপ উন্মোচন

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে সচেতনায় মোবাইল অ্যাপ উন্মোচন করা হয়েছে। ‘স্টপ ডেঙ্গু’ নামের অ্যাপটি গুগলের প্লে স্টোরে উন্মোচন করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর কাকরাইলস্থ জাতীয় স্কাউট ভবনে ‘পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সাতটি প্রতিষ্ঠান এক সমঝোতা চুক্তি করে অ্যাপটি আনা হয়।

বহুপক্ষীয় ওই সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ স্কাউটস, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) , ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর, আইসিটি বিভাগের অধীনস্থ এটুআই প্রকল্প এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

 চুক্তি অনুযায়ী পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সংক্রমিত রোগ প্রতিরোধে  প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রযুক্তির সহায়তায় নাগরিক পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর কমিশনার ও বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার  ড. মো. মোজাম্মেল হক খান।

সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, জানাকীর্ণ ও সংকীর্ণ হলেও যে অ্যাপটি উন্মোচন করা হচ্ছে তা জন সম্পৃক্ততায় বিশেষ অবদান রাখবে। কেবল ডেঙ্গু মোকাবেলায় নয়, সুস্থ্য নাগরিক জীবনের প্রয়োজনে আমাদের জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি আজকে যে ডেঙ্গুকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে এটাই সব নয়। ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও বায়ু ও পানি দূষণ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রযুক্তি জ্ঞানকে কাজে লাগাতে হবে। এসব বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে সকেলে মিলে কাজ করতে হবে। 

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলায় আজ থেকে আমরা রোভারদের মতো  ‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’ স্লোগান দেশজুড়ে প্রত্যেকের মধ্যে ছড়িয়ে দেবো।

 দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, এবার ডেঙ্গু ব্যাপকতা পেলেও তা দুর্যোগ পর্যায়ে পৌঁছেনি। ন্যাশনাল গাইডলাইনের ফলে সব মানুষের জন্য এখন ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা ও চিকিৎসা এখন সুলভ হয়েছে। মূলত শক সিন্ড্রম নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসায় তাদের সুরক্ষা দেয়া কঠীন হয়ে পড়ে। তাই জ্বর হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া দরকার।

অনুষ্ঠানের অ্যাপটির ব্যবহার ও কার্যকারিতা তুলে ধরেন ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল। তিনি জানান, ‘স্টপ ডেঙ্গু’ অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে যে কেউ সারা দেশের যে কোন স্থানে মশার প্রজনন স্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে পারবেন। এর মাধ্যমে পুরো দেশের মশার প্রজনন স্থানের ম্যাপিং তৈরি করা হবে। ফলে সিটি কর্পোরেশন এবং স্থানীয় সরকার খুব সহজেই কোন এলাকায় কত জন লোক নিয়োগ করতে হবে তা মশার জন্ম স্থানের ঘনত্ব দিয়ে নির্ধারণ করতে পারবে।

মশা নিয়ন্ত্রণে কী পরিমাণ ঔষধ কিনতে হবে বা ব্যবহার করতে হবে সে বিষয়টিও জানা যাবে অ্যাপটির মাধ্যমে। একইসঙ্গে পরবর্তী বছরের জন্য পূর্বের থেকে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাবে।

স্টপ ডেঙ্গু অ্যাপের উদ্বোধনের পর বাংলাদেশ স্কাউটের নির্বাহী পরিচালক আরশাদুল মোকাদ্দেস, ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সিইও মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সিইও আব্দুল হাই, ডাইরেক্টর হেলথ ডিজি আবুল কালাম আজাদ, হেলথ সার্ভিস ডিভিশনের অতিরিক্ত সচিব জাকিয়া সুলতানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেন, এটুআই প্রকল্প পরিচালক মো: আব্দুল মান্নান এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মহসিন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা চুক্তিতে সই করেন।

ইএইচ/ আগস্ট১৭/ ২০১৯/ ১৯০০

*

*

আরও পড়ুন