ব্রডব্যান্ডে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের সুবিধা পাচ্ছেন অভিভাবকরা

Evaly in News page (Banner-2)

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পরিবারের জন্য নিরাপদ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিশ্চিতে এবার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

সাধারণত ব্রডব্যান্ড সংযোগে রাউটার দিয়ে ওয়েবসাইট ব্লক করা গেলেও সচেতনতা, ওই পদ্ধতিকে ঝামেলা মনে করা ইত্যাদি কারণে অধিকাংশ অভিভাবক তা করেন না।  

তাই এবার সরকারের নির্দেশনায় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাদের (আইএসপি) প্যারেন্টাল গাইড বাধ্যতামূলক করে দেয়া হচ্ছে। এতে খুব সহজে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট লাইনে কী চলবে তা ঠিক করতে পারবেন অভিভাবকরা। 

ইতোমধ্যে এই নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইএসপিদের  নির্দেশনা দিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। 

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে বলেন, প্যারেন্টাল গাইড আইএসপিদের জন্য বাধ্যতামূলক করে দেয়া হচ্ছে। এতে অভিভাবকরা সহজেই পরিবারের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে পারবেন। ব্রডব্যান্ড লাইনে অভিভাবকরা যেকোনো ওয়েবসাইট বা কনটেন্ট ব্লক করতে পারবেন। 

‘নতুন যারা আইএসপির লাইসেন্স নিচ্ছেন তাদের লাইসেন্সের সঙ্গেই এটি বলে দেয়া হচ্ছে। আর পুরোনো আইএসপিদের ক্ষেত্রে চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে’ বলছিলেন মন্ত্রী। 

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ইন্টারনেট যেমন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তেমনি এখানে সুরক্ষা পাওয়াও অধিকার।  

আইএসপিএবি সভাপতি এবং  আম্বার আইটির সিইও আমিনুল হাকিম টেকশহরডটকমকে বলেন, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার দুইভাবেই ব্রডব্যান্ডে লাইনে এই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 

তিনি বলেন, হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে অভিভাবকরা নিজেরাই পারেন। এখানে একটু উচ্চ প্রযুক্তির রাউটার দিয়ে তা করা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে এর প্রয়োগ একদমই কম। সচেতনতার অভাব, একটু বেশি খরচ, কীভাবে করতে হবে তা না জানা ইত্যাদি কারণে অভিভাবকরা তা করেন না। এর জন্য আসলে সরকারের কোনো নির্দেশনারও দরকার নেই। 

‘কিন্তু সফটওয়্যারের মাধ্যমে যেটা তা আইএসপিরা নিজেরা করবে। এখানে অভিভাবকদের একটি ইউজার নেইম ও পাসওয়ার্ড দেয়া হবে যার মাধ্যমে তার কী দেখতে চান আর চান না তা ঠিক সহজেই ঠিক করতে পারবেন’ বলছিলেন আইএসপিএবি সভাপতি। 

আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক টেকশহরডটকমকে জানান, তারা সরকারের নির্দেশনা অনুয়ায়ী কাজ করবেন। এটি বাস্তাবায়ন করতে আইএসপিদের অল্প কিছু ইনভেস্টমেন্টও করতে হবে।  

সংগঠনটির এই দুই নেতা বলেন, একজন ব্যবসায়ীর আগে অভিভাবক তারা। তাদের সন্তান ও পরিবারের সুরক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান তারা। 

আমিনুল হাকিম জানান, দেশে এখন প্রায় সাড়ে ১৭’শ বৈধ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার রয়েছে। এর বাইরে লাইসেন্স নেই এমন আইএসপির সংখ্যা ৫ হাজারের মতো। 

দেশে সব ধরনের ব্যবহারকারীর জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট গড়ে তুলতে একটা অভিযান চালাচ্ছে সরকার।

ইতোমধ্যে দেশে ২০ হাজারের বেশি পর্নো ও জুয়ার সাইট বন্ধ করেছে। এছাড়াও ভিডিও শেয়ারিং মাধ্যম ইউটিউব এবং সামাজিক মাধ্যমগুলো থেকে ‘সফট পর্নো’ সরাতে কাজ করে যাচ্ছে সরকারের কয়েকটি সংস্থা।

 এডি/২০১৯/আগস্ট১৭/১৯৩৯

*

*

আরও পড়ুন