জাতির কলংকের দিনের কথা উঠে এলো ফেইসবুকেও

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বঙ্গবন্ধুকে হারানোর দিনে শোকের প্রকাশ পুরো ফেইসবুক জুড়েও। জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতাকে হারানোর বেদনা, আর্তনাদ ও কলংকের ঘটনা ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা জানিয়েছে নিজের মতো করে।

সোশ্যাল মিডিয়াটির ওয়ালে ওয়ালে পোস্ট করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ শোক পোস্টার, শোক দিবস পালনের নানা কর্মসূচির ছবি।

দিনভর ফেইসবুক আইডি ও পেইজগুলোতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের বিভিন্ন পোস্ট। অনেকে নিজেদের ওয়ালে শেয়ার করেছেন শোক দিবসে গণমাধ্যমগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে বিকাল ৪টায় পোস্ট করা হয় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে দলটির সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলীয় নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়ার ছবি।

‘আমরা এখনো মীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিতর্ক করি। তোমার অবদানকে অস্বীকার করি।আমাদের ক্ষমা করো পিতা। বিনম্র শ্রদ্ধা’ এমন স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী।

পেশায় সাংবাদিক আফসার আহমেদ লিখেছেন, বিশ্বের স্বাধীনতাকামী জাতিগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন! রক্তে ভাসছে যুগ যুগ; কিন্তু স্বাধীনতা ভাগ্যে জোটেনি। সংগ্রাম করে, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা, জাতিকে মুক্ত করা খেলার বিষয় নয়। বঙ্গবন্ধু সেটা পেরেছেন। স্বাধীনতার জন্য একটা জাতিকে এভাবে উদ্দীপ্ত করতে পারে একটা মানুষ!!! কী বিস্ময়কর তার অবদান! কী বিস্ময়কর তার ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব, দেশ আর মানুষ অন্তপ্রাণ মন-মস্তিস্ক।

এ রকম একজন নেতা হওয়া বিশ্বের স্বাধীনতাকামী নেতারা শুধু কল্পনাই করতে পারেন। কী অসম্ভব এক ভাগ্যবান এক জাতি বাঙালি, এমন এক নেতা আমরা পেয়েছি। কী অসম্ভব দুর্ভাগা এক জাতি, এরকম এক নেতাকে আমরাই হত্যা করেছি। শুধ তাই নয়, তাকে হত্যা করে, তার সমান্তরালে এক সেনাশাসককে দাঁড় করিয়ে পাপের বোঝা আরও বাড়ানো হল। যেন স্বাধীনতা সংগ্রাম একটা খেলার বিষয়।

সেই থেকে পথ হারালো বাংলাদেশ। কিন্তু ইতিহাসের শোধ বড় কঠিন। তাই আবার ফিরে এসেছেন বঙ্গবন্ধু। আবার দিশা পেয়েছে বাংলা।

কবি, লেখক ও সাংবাদিক নওশাদ জামিল স্ট্যাটাসে লিখেছেন, বাঙালি অত্যন্ত ভাগ্যবান যে, তাদের একজন বঙ্গবন্ধু আছেন। যদি বঙ্গবন্ধু না থাকতেন, যদি তিনি এ দেশে জন্ম না নিতেন, তাহলে রোহিঙ্গা কিংবা কাশ্মীরবাসীর চেয়ে খারাপ অবস্থা থাকতো বাঙালির। বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা বছর বছর জন্ম নেন না, শত বছরেও জন্ম নেন না, হাজার বছরে একবার জন্ম নেন হয়তো। এ জন্যই তাঁকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বলা হয়।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুকে এখনো যারা মানেন না, যারা বঙ্গবন্ধুর অবদানকে স্বীকার করেন না, তাদের চেয়ে অকৃতজ্ঞ ও হতভাগ্য আর কেউ নেই।

অল্পকিছু অকৃতজ্ঞ ও হতভাগ্য কুলাঙ্গার বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল বটে, কিন্তু তারা বুঝেনি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু নেই। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন পৃথিবী থাকবে, যতদিন পৃথিবীতে বাঙালি থাকবে, ততদিন বেঁচে থাকবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

গ্রামীণফোন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান লিখেছেন, তোমাকে হত্যা করে আমাদের চরিত্র প্রমান করেছি। মৃত্যুতে পরাজয় নেই, হায়েনাদের উল্লাসের আওয়াজে তোমার শক্তি আশার বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে এই দিনে হত্যা করা হয়। পরিবারের ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে অন্তঃসত্ত্বা নারীকেও রেহাই দেয়নি ঘাতকেরা।

এডি/২০১৯/আগস্ট১৫/১৯০০

*

*

আরও পড়ুন