গুগল ফেইসবুক থেকেও তৃতীয় সাবমেরিন কেবলের প্রস্তাব

FB-techshohor

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তৃতীয় সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হতে এ দুই টেক ও সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টসহ আরও বেশ কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে বিএসসিসিএল।

তৃতীয় সাবমেরিনের বিষয়টি মাথায় রেখে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকম উইকে অংশ নেয় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটি। সেখানে আগের দুটি প্রস্তাবের বাইরে আরও কিছু প্রস্তাব পেয়েছে তারা।

সবগুলো প্রস্তাব গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সামনে উপস্থাপন করে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রতি বছর ডেটার ব্যবহার দ্বিগুণ হচ্ছে। ফলে এখনই নতুন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারলে সামনের দিনে এটি নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

নতুন প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ভারতীয় একটি প্রস্তাব আছে। জিও নেক্সট জেনারেশন নামের কোম্পানিটি ফ্রান্স থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত কেবল করার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান সাংবাদিকদের নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে জানান, গুগল ও ফেইসবুকের দিক থেকেও সরকারের কাছে এ বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে। 

জিনজু সাবমেরিন কেবল নামের আরেকটি উদ্যোগের প্রস্তাবও এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ কোম্পানির কেবলটি ফ্রান্স থেকে ভারত মহাসাগর হয়ে জাপান পর্যন্ত স্থাপন করা হবে।

তবে প্রস্তাবগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এগুলো নিয়ে বিস্তারিত জানাতে চাননি বিএসসিসিএল প্রধান।

মশিউর রহমান বলেন, নতুনগুলোসহ সব প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন তারা। চলতি বছরের মধ্যেই সরকারকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তা না হলে ২০২৩ সালের আগে নতুন কেবলের সংযোগ পাওয়া যাবে না।

বিএসসিসিএল এমডি বলেন, ২০২২ সালের দিকে দেশে বিদ্যমান সংযোগগুলোর ক্ষমতার চেয়ে চাহিদা বেশি হবে। সে জন্য ওই সময়ের মধ্যেই নতুন সংযোগের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।

বিএসসিসিএলকে দেওয়া আগের দুটি প্রস্তাবের মধ্যে একটি ছিল সিংটেলের। তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম ইউরোপ-৬ বা সংক্ষেপে সি-মি-উই-৬ কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হতে প্রস্তাব করে। দেশের আগের দুটি সাবমেরিন কেবল সি-মি-উই-৫ ও সি-মি-উই-৪ এর সংযোগ এ কোম্পানির।

সিংটেলের সি-মি-উই-৬ কেবলে যুক্ত হতে খরচ হবে সাত কোটি ২০ কোটি ডলার। এ সংযাগ থেকে প্রাথমিকভাবে ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে ৫ টেরাবাইট পার সেকেন্ড গতিতে।

অপর প্রস্তাবটি দেয় সিঙ্গাপুরের আরেক কোম্পানি সিগমার (সিঙ্গাপুর-মায়ানমার সাবমেরিন কেবল কোম্পানি)। এটি একটি নতুন কোম্পানি এবং তাদের কেবলটি তুলনামূলক ছোট। বঙ্গোপসাগর থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত হবে এটির দৈর্ঘ্য।

এ কনর্সোটিয়াম থেকে সাড়ে ছয় কোটি ডলার খরচে প্রাথমিকভাবে ১২ দশমিক ৪ টেরাবাইট পার সেকেন্ড গতির ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে তারা।

সিগমার কাজ শেষ হতে ২০২২ এবং সি-মি-উই-৬ এ যুক্ত হতে ২০২৩ সাল লাগবে বলে পৃথক প্রস্তাব দুটিতে উল্লেখ রয়েছে।

বর্তমানে দেশে প্রায় এক হাজার ৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হয়, এর মধ্যে ৯০০ জিবিপিএসের সরবরাহ আসে সি-মি-উই-৫ ও সি-মি-উই-৪ থেকে। বাকিটা ভারত থেকে আমদানি হয়। যদিও নিজেদের সাবমেরিন কেবল দুটির সক্ষমতা ২৮০০ জিবিপিএস।

এসজেড/আরআর/ ০৪/২০১৯/১৩৫০

আরও পড়ুন – 

১৩ বছর পর সাবমেরিন কেবলের লাইসেন্সের নীতিমালা হচ্ছে

*

*

আরও পড়ুন