এনওসি বন্ধে গ্রাহক সেবায় ভোগান্তির আশংকা জিপি-রবির

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ধীরগতির ইন্টারনেট, বেশি কলড্রপের মতো সমস্যায় পড়তে যাচ্ছেন জিপি-রবির গ্রাহকরা।   

নো অবজেকশান সার্টিফিকেট বা এনওসি বন্ধের কারণে মানসম্মত গ্রাহক সেবা দেয়া নিয়ে নতুন করে এই চ্যালেঞ্জের মুখে অপারেটর দুটি। যাদের গ্রাহক সংখ্যা ১২ কোটির মতো।  

জিপি ও রবির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কিছুদিনের মধ্যেই ইন্টারনেট, ভয়েস ও ডিজিটাল সেবায় বেশ ভোগান্তির মধ্যে পড়বেন গ্রাহকরা। 

অডিট আপত্তির পাওনা আদায়ে সোমবার বিকালে দুই অপারেটরের এনওসি বন্ধের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। 

ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে অপারেটর দুটির কর্মকর্তারা বলছেন,  মোবাইল সেবায় প্রতিদিনই নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। এনওসি বন্ধ করে দেয়ায় নেটওয়ার্ক পরিচালনায় ব্যবহার করা প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার কেনা যাবে না। এতে নেটওয়ার্ক আপগ্রেডেশন ব্যাহত হবে। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে গ্রাহক কম ব্যান্ডউইথ পাবেন। স্বাভাবিকভাবেই গতি হবে ধীর। 

‘কিছু দিনের মধ্যেই থ্রিজি ও ফোরজি সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার্বিক ডাটা নেটওয়ার্কের সক্ষমতা দূর্বল হয়ে পড়বে। ফলে ইন্টারনেটের গতির কমে যাওয়ার পাশাপাশি কলড্রপের পরিমাণও বাড়বে’ বলছিলেন তারা। 

এই ঈদের ছুটিতেই ইন্টারনেটের বাড়তি ব্যবহারের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যাপক পরিসরে ফোরজি সম্প্রসারণে কাজ ব্যাহত হবে বলেন জানায় অপারেটর দুটি। 

তাদের বক্তব্য, যন্ত্রপাতি আমদানি বন্ধ থাকায় আইজিডাব্লিউ গেটওয়েগুলোর বর্ধিতকরণের বা প্রতিদিনের আপগ্রেডেশানের কাজ বন্ধ থাকবে। এতে আইসিএক্স অপারেটরগুলোর ওপর প্রভাব পড়বে। ফলে অফ-নেট কলের মান খারাপের দিকে যাবে এবং রাজস্ব ভাগাভাগি কমে যাবে।

গ্রামীণফোনের ডাইরেক্টর ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘এনওসি বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু গ্রাহকদের উপরই প্রভাব ফেলবে না একই সঙ্গে মানসম্মত মোবাইল সেবা প্রদানে গ্রামীণফোনের দৈনন্দিন কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

অডিট পাওনাকে ‘বির্তকিত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জোরপূর্বক পাওনা আদায়ে এনওসি স্থগিতের সিদ্ধান্ত একটি ক্ষতিকর পদক্ষেপ এবং গ্রাহক স্বার্থের পরিপন্থী। পারস্পরিক আলোচনা এবং সালিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনসম্মত উপায়ে যেকোন মতপার্থক্য সমাধান চান তারা।’ 

এনওসি বন্ধের কারণে ইকুইপমেন্ট বা যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান যারা ইতোমধ্যে পূর্বে অর্ডারকৃত পণ্য তৈরি করে ফেলেছে তারা সেগুলো সরবরাহ না করতে পারলে বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এতে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ থাকবে, এমনকি যে বিনিয়োগের অনুমতি ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে তাও আবার নতুন করে নিতে হবে। অন্যদিকে সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার না কিনতে পারলে নতুন গ্রাহকও নিতে পারবে না তারা। 

জিপি ও রবি বলছে, নতুন লাইসেন্স প্রাপ্ত তিনটি টাওয়ার কোম্পানির ব্যবসাও এর ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখানেও নতুন বিনিয়োগ আটকে যাবে। সারাদেশে বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফোরজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে ডিজিটাল বৈষম্য আরও বাড়বে। 

রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম টেকশহরডটকমকে জানান, ‘বিতর্কিত নিরীক্ষা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দাবিকৃত অর্থ আদায়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা রবির অনাপত্তিপত্র (এনওসি) বন্ধের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা প্রকৃতপক্ষে এ সমস্যা সমাধানে সহায়ক নয়।’

এ সমস্যার প্রকৃত সমাধান বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি অথবা  আলাপ-আলোচনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলোচানার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে না বের করে এনওসি বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত গ্রাহকস্বার্থসহ টেলিযোগাযোগ খাতের সব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

অপারেটর দুটি বলছে তারা ব্যাপকভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখেরও পড়বে। 

পুন:নিরীক্ষার পর বিটিআরসি গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে। একই সঙ্গে রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি তাদের।

এর আগে ৪ জুলাই পাওনা আদায়ে গ্রামীণফোনের মোট ব্যবহার করা ব্যান্ডউইথের ৩০ শতাংশ এবং রবির ব্যবহৃত ব্যান্ডউইথের ১৫ শতাংশের ওপর ক্যাপিং আরোপ করে কমিশন।

তবে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার সীমিত করায় সেটি গ্রাহকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে – বিবেচনায় আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে এনওসি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় ব্যান্ডউইথ ব্লকের সিন্ধান্ত তুলে নেয় বিটিআরসি।

ব্যান্ডউইথ সীমিত করায় গ্রাহকদের মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহারে সমস্যা হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত তুলে দিতে বলেন জয়।

এডি/জুলাই২৪/২০১৯/১৯৩০

আরও পড়ুন – 

এনওসি বন্ধ হচ্ছে জিপির

২ বছরে সর্বনিম্ন জিপির শেয়ারদর

কর্মীদের অধিকার আদায়ে কাজ করে জিপিইইউ

*

*

আরও পড়ুন