প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে মোবাইল অপারেটররা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তি, ভ্যাট-ট্যাক্স,  ব্যান্ডউইথ ব্লক, টাওয়ার ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সুরাহায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দিকে তাকিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটররা।

মোবাইল ফোন অপারেটর-বিটিআরসির মতপার্থক্যে উল্লেখিত বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে অমিমাংসিত রয়েছে।

সোমবার গণভবনে সরকারের নীতিনির্ধারণীর শীর্ষ পর্যায়ের এক বৈঠকে এসব বিষয় আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

দুপুরের পর অনুষ্ঠিতব্য ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

থাকবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিটিআরসির চেয়ারম্যান-কমিশনার, শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও সকল মোবাইল ফোন অপারেটরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।

মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, এর আগে ২০১৭ সালের শেষ দিকে যখন ফোরজি নীতিমালা ‍চূড়ান্ত করা নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দেয় তখন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা এক বৈঠকেই ২৪ টি সমস্যার ২২টির সমাধান করে দিয়েছেন। এবারও এ খাতের উদ্ভুত বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি সব সময়ের মতো সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে খাতকে এগিয়ে নেবেন।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এস এম ফরহাদ টেকশহরডটকমকে বলেন, অপারেটরগুলোর দিক হতে সব রকম চেষ্টা করা হয়েছে সমস্যাগুলো মিটিয়ে ফেলতে কিন্তু এখনও বিষয়গুলোর সমাধান হয়নি।

‘ আমরা প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে রয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি আগের মতোই তিনি আমাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেবেন’ বলছিলেন তিনি।

গ্রামীণফোন ও রবির কাছে অডিট আপত্তিতে সরকারের পাওনা প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল গ্রামীণফোনের কাছেই সরকারের পায় ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। 

সম্প্রতি এই টাকা আদায়ে দুটি মোবাইল ফোন অপারেটরের ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দেওয়ার বিষয়টির সুরাহা হতে পারে। তাছাড়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় মোবাইল ফোন অপারেটররা তাদের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের দেনা পরিশোধ করতে পারেনি-এই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হবে।

এর আগেও এমন একটি নীতিনির্ধারণী বৈঠক থেকে বিটিআরসিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে ভ্যাট নিবন্ধনের জন্যে বলা হয়েছিল। বিটিআরসি এনবিআরের কাছে নিবন্ধনের জন্য আবেদনও করেছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।

আলোচনায় আসতে পারে টাওয়ার লাইসেন্স দেওয়ার পরেও টাওয়ার সংক্রন্ত জটিলতা না কাটার বিষয়টিও।

এছাড়া মোবাইল ফোন অপারেটরদের সবগুলো লাইসেন্সকে একত্রিত করার সিদ্ধান্ত আগেই হলেও সেখানে এখনো কিছু জটিলতা থেকে গেছে। ওই বিষয়টি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে।

সোমবার এই বৈঠকের পর মঙ্গলবার আবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তা এবং সরকারের অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে উপদেষ্টার বৈঠক হবার কথা রয়েছে।

জেএ/ইএইচ/এডি/জুলাই ১৪/ ২০১৯/ ১৬০০

আরও পড়ুন –

ভ্যাটসহ পাওনা না দেওয়ায় অপারেটরদের টাকা নেয়নি বিটিআরসি

জিপির সালিশ প্রস্তাবকে ‘ডিলে কৌশল’ হিসেবে দেখছে বিটিআরসি

টেলিকম অপরাধকে জামিন অযোগ্য দেখতে চায় বিটিআরসি

*

*

আরও পড়ুন