প্রতিযোগী নয় বিদেশি কোম্পানিকে সহযোগী ভাবুন : জয়

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিদেশী কোম্পানির অবদানের কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতিযোগী হিসেবে না দেখে সহযোগী ভাবতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। 

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সংসদ সচিবালয় আয়োজিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ: সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় তথ্য ও প্রযুক্তি’ শীর্ষক কর্মশালায় এ কথা বলেন তিনি।  

সংসদ সচিব জাফর আহমেদ খানের সভাপতিত্বে এই কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

জয় বলেন, ‘দেশের বাইরে অনেক কোম্পানি বাংলাদেশে আসতে চায়, বাংলাদেশে ইনভেস্ট করতে চায়। তবে আমাদের অনেকের মধ্যে ধারণা রয়ে গেছে যে, বিদেশী কোম্পানি এসে তারা শুধু প্রফিট নিয়ে চলে যায়।’ 

‘একটু ভেবে দেখেন, আজ যদি বিদেশী কোম্পানি দেশে না আসতো তাহলে থ্রিজি-ফোরজি বাস্তাবায়ন করা যেতো? তারা শুধু প্রফিট নিয়ে চলে যায় না, তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, তাতে দেশের কত মানুষের লাভ হয়, তারা ট্যাক্স দেয়’ বলছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা।  

তিনি বলেন, ‘আজকের যুগ গ্লোবালাইজেশনের যুগ। আমরা কিন্তু নিজেদের আলাদা করে রাখতে পারি না, আমাদের অর্থনীতিকে আরও ওপেন করতে হবে। আমাদের নিজেদের মাইন্ডসেট একটু চেইঞ্জ করতে হবে, পরিবর্তন আনতে হবে।’ 

সিঙ্গাপুর-মালেশিয়ায় যেকোনো কোম্পানি এসে ব্যবসা করতে পারে, এতে তাদের অর্থনীতির লাভ হয়। আমাদেরও সেদিকে যেতে হবে উল্লেখ করে জয় বলেন, ‘একা সরকার সব করতে পারে না। করা ঠিকও না,  কারণ সরকার যদি সব কিছু করতে যায় এতে সিস্টেম লস আছে। প্রাইভেট সেক্টরে লাভ-লোকসান বেশি দেখে, দেখতে হয়। সেখানে সিস্টেম লস কম হয় ।’

‘আমাদেরকে বিদেশী কোম্পানিকে কম্পিটিশনে না দেখে পার্টনারশিপে এগিয়ে যেতে হবে। এটা করতে অনেক পলিসি-নীতিমালা ও আইনের পরিবর্তন প্রয়োজন। এটা করতে পারলে আরও দ্রুত এগিয়ে যাওয়া যাবে’ বলছিলেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা জানান, ৩০০ সরকারি সেবা ডিজিটাইজ হয়ে গেছে। খাতা-কলমে ফাইল রাখার প্রয়োজন কমে আসছে। সেবার প্রদানের প্রক্রিয়া অনেক সহজীকরণ হয়েছে। আগে একটা কাজ দু’সপ্তাহ লাগতো এখন সেটা ২০ মিনিটে করা যায়। 

তিনি বলেন, ‘সরকারি সবকিছু ডিজিটাইজ করাতে দুর্নীতির সুযোগ আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে।  আমরা কিন্তু আসলেই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বানাতে পারি ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে। সব ডিজিটাইজ হয়ে গেলে দুর্নীতির সুযোগ থাকে না।’ 

টেলিকমিউনিকেশনস এখনও ১০-২০ বছর পুরোনো আইনে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটাকে এখন নতুন করে মর্ডান পদ্ধতিতে আনা প্রয়োজন। এটা না করলে আমরা এক পর্যায়ে গিয়ে আটকে যাবো, ইনফ্যাক্ট আমরা প্রায় সে পর্যায়ে চলে এসেছি।  উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, ১৫ বছরের একটা পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্পূর্ণ নতুন একটা টেলিকমিউনিকেশনস পলিসি করবো। যাতে ভবিষ্যতে জন্য উপযোগী থাকে।

অন্যন্য দেশ যারা এগিয়ে রয়েছে যেমন সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া হতে উদাহরণ নিয়ে নিজেদের আইন-নীতিমালা পরিবর্তন করার কথা বলেন তিনি। 

এডি/জুলাই১০/২০১৯/১৭৩১

 

*

*

আরও পড়ুন