এমন চমক চান না মোবাইল ফোন অপারেটররা

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : টেলিযোগাযোগ খাতে হুটহাট করারোপের নীতি হতে মুক্তি চান মোবাইল ফোন অপারেটররা।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এমন কথা বলেন মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর প্রতিনিধিরা।

তারা বলছেন, এক কর কাঠামোর মধ্যে বিনিয়োগ করে সময় না যেতেই আরেক কর কাঠামোর চমক এই খাতের বিকাশকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। এতে খাতটি আনপ্রেডিক্টেবল হয়ে যায় এবং প্রবৃদ্ধি থমকে যায়।

টিআরএনবি সভাপতি মুজিব মাসুদের সভাপতিত্বে ‘ প্রস্তাবিত বাজেট: টেলিকম খাতের বাস্তবতা’ শীর্ষক ওই গোলটেবিলে বক্তব্য রাখেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর জরিপ ও পরিদর্শন) মেফতাহ উদ্দিন খান, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, অ্যামটবের সাবেক মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবীর, রবির হেড অব কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম, গ্রামীণফোনের ডিরেক্টর ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত, বাংলালিংকের হেড অব ট্যাক্স সারোয়ার হোসেন খান, টেলিটকের ডিজিএম সাইফুর রহমান খান এবং মোবাইল ফোন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ।

গোলটেবিল সঞ্চালনা করেন টিআরএনবির সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সজল। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল আনোয়ার খান শিপু। মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির কোষাধক্ষ্য শামীম জাহাঙ্গীর।

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০১১ সালে টুজি রিনিউয়াল করা হয় তখন জিএসএম লাইসেন্স ওপেন করা হয়েছিল যে, কেউ লাইসেন্স নিতে পারে কিন্তু একটি আবেদন পড়েনি, ২০১৩ সালে যখন থ্রিজি করা হলো তখন এটা ওপেন হলো কেউ আবেদন করেনি, ফোরজির সময়ে ওপেন হলো কিন্তু একটা লাইসেন্সেরও আবেদন পড়েনি। এতে বোঝা যাচ্ছে এখানে ট্যাক্সেশন ও রেগুলেটরির দাপটের বাজারে কেউ আসতে চাইছে না।

‘টেলিটক আইসিইউতে রয়েছে। এখন অন্য তিনটি কোম্পানি যদি টিকে থাকতে না পারে তাহলে তা এই খাতের জন্য নেতিবাচক হবে। ২১ বছর ব্যবসা করার পরেও মুনাফা করার স্বপ্ন দেখা যায় না তখন বুঝতে হবে আসলেই পরিস্থিতি খুব খারাপ’ বলছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, এই খাত তো তামাকের মতো ক্ষতিকর খাত নয়। অথচ এখানে যেভাবে করারোপ করা হচ্ছে তা তামাকজাত পণ্যের মতো।

সরকারের ভিশনের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই উল্লেখ করে রবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বাস্তবায়নকারী দপ্তরগুলের সঙ্গে সরকরের ভিশনের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে না। বিটিআরসি রেগুলেটরি বডি তারা রেভিনিউ কালেক্টর নয়।

টিআইএম নূরুল কবীর বলেন, টেলিকম সেবায় ১০ শতাংশ সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি পৃথিবীর কোথাও নেই। এটা কীভাবে হলো তার তদন্ত হওয়া উচিত। সিম ট্যাক্স বাড়ানো কেন সেটি পরিস্কার নয়। সর্বনিম্ন কর পৌনে এক শতাংশ হতে ২ শতাংশ করার যৌক্তিকতা নেই।  ‘

তিনি বলেন, একদিকে সরকার সবাইকে টেলিযোগাযোগ সেবার আওতায় আনার কথা বলছে, অন্যদিকে উচ্চহারে কর আরোপ করা হচ্ছে। সরকারে কি দুই ধরনের নীতি প্রণেতা আছে?

সাহেদ আলম বলেন, প্রস্তাবিত ট্যাক্স বাস্তবায়িত হলে সরকার তিন হাজার কোটি টাকা পাবে। আর এই ট্যাক্স আরোপ না হলে এই খাতের সরকার ট্যাক্স পাবে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

‘তাহলে এভাবে অযৌক্তিক ট্যাক্স আরোপের চেয়ে খাতটিকে আরও বিকশিত হতে দেয়া ও জনগণের কাছে সুলভে সেবা পৌঁছে দেয়ার করনীতি নেয়া বরং সব দিক হতে লাভজনক’ বলেন তিনি।

হোসেন সাদাত বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতে গ্রামীণফোন প্রথম পুঁজিবাজারে এসেছে। তখন বলা হলো বাজারে আসলে করর্পোরেট ট্যাক্সে ১০ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়া হবে। এরপর পুঁজিবাজারে যাওয়ার তিন বছরের মাথায় কর রেয়াত ৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হলো।

‘এমন হলে অন্য কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে যেতে নিরুৎসাহিত হবে। চমক দিয়ে খাতটিকে আনপ্রেডিক্টিবল অবস্থায় নিলে বিনিয়োগে উৎসাহ থাকে না। এমন চমক চায় না এই খাত’ বলছিলেন তিনি।

সারোয়ার হোসেন খান বলেন, সরকারের বেশ কিছু টার্গেট রয়েছে। আর এই টার্গেট পূরণের জন্য টেলিকম খাতকে বেছে নেওয়া হয়েছে। অথচ অন্যান্য খাতকেও টার্গেট করা যেতে পারে। এ ধরনের পরোক্ষ কর না বাড়িয়ে আয়করের দিকে সরকারের বেশি নজর দেওয়া উচিত।

সাইফুর রহমান খান বলেন, টেলিকম খাতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক আরোপের ফলে লোকসান বাড়বে। ফলে ছোট কোম্পানির জন্য টিকে থাকা কঠিন হবে।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, যে সেবাকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলে সরকার ঘোষণা দিয়ে এসেছে সেখানেই করের বোঝা চাপানো হচ্ছে। এই খাত থেকে করের বোঝা কমাতে হবে।

‘একদিকে মোবাইল সেবাকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে চড়া হারে কর আরোপ করে তারা যাতে ব্যবহার না করতে পারে, সেই ব্যবস্থা হচ্ছে। এটা প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা। মোবাইল অপারেটরগুলো আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম নয় যে তারা জনসেবা করবে। তারা সব করের চাপ মানুষের ওপর চাপাবে’ বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় করেই কর কিংবা ভ্যাটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় উল্লেখ করে মেফতাহ উদ্দিন খান বলেন,  এখানে এককভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয় না।

‘স্মার্টফোনের সুফলের চেয়ে কুফলও বেশি দেখা যাচ্ছে। খুব বেশি স্মার্টফোনের দরকার নেই। সিম কর বাড়ানোয় আসল ক্রেতাদের ওপর প্রভাব পড়বে না। প্রয়োজন একটা হলেও অনেকের কাছে ৫-৬টা করে সিম থাকে’ বলেন তিনি।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন বিষয়ে অপারেটরগুলোর আপত্তি ও বক্তব্যগুলো টেলিযোগাযোগ বিভাগ পেয়েছে উল্লেখ করে সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার আন্তরিক হবে।

এডি/জুন২৬/২০১৯/১৮০০

*

*

আরও পড়ুন