করের দাপটে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে রবি

নতুন বাজেটে চোখে সরষে ফুল দেখছেন মোবাইল ফোন অপারেটররা। বিশেষ করে সর্বনিম্ন করের বোঝা অপারেটরগুলোকে টিকে থাকার সংকটের মুখে দাঁড় করাবে বলে আশংকা করছেন তারা।

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে টেলিযোগাযোগ খাতে এটিসহ আরোপিত বিভিন্ন কর, নীতি ও এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনায় টেকশহরের মুখোমুখি হয়েছেন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের মোবাইল অপারেটর রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল-আমীন দেওয়ান। 

নতুন অর্থবছরে মোবাইল ফোনে সিম ও রিম কার্ডের উপর আরোপিত সম্পূরক শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা, সিম কার্ডের উপর আরোপিত শুল্ক ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা হয়েছে, পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোর রিটেইনড আর্নিং বা আয়ের সঞ্চিতির উপর ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ , মোবাইল কোম্পানির আয়ের উপর সর্বনিম্ন শুল্ক ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ এবং স্মার্টফোন আমদানিতে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।

টেকশহর : বাজেটে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সর্বনিম্ন শুল্ক সোয়া এক শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এই শুল্কে ব্যবসায় কেমন প্রভাব পড়বে?

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ : বিনিয়োগ নীতিতে অবশ্যই পরিবর্তন আসবে। অন্তত রবির আসবে। সর্বশেষ তিন বছর রবি অনেক কাজ করেছে, অনেক অ্যাফোর্ট দিয়েছে। শেষে চলতি বছরের প্রথম কোয়ার্টারে প্রফিট এসেছে। এগুলোর জন্য লংটার্ম প্লান হয়। ২০১১ সালে হতে এই মার্কেটে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই সেক্টরে কিন্তু এ সময়ে এমন বিনিয়োগ নেই।

এখানে লাভ না করার পরও বাধ্যতামূলকভাবে সর্বনিম্ন শুল্কের বোঝা টেলিকম খাতের জন্য চাপানো রয়েছে। এটা আগের পৌনে এক শতাংশ হতে এখন ২ শতাংশ করে দেয়া হয়েছে। লস করে এই কর তো মূলধন হতে দিতে হবে।

শুধুমাত্র টেলিকমের জন্য সর্বনিম্ন টাক্স পৃথিবীর কোথাও নেই। দু’ একটি দেশ যেমন, পাকিস্তান, নাইজেরিয়ার যা রয়েছে তাও বাংলাদেশের মতো নয় সেখানে এটিকে অন্য দিক দিয়ে সহনীয় করে দেয়ার পথ রাখা হয়েছে। 

এটি করে মাইনরিটি প্লেয়ারদের উল্টো পেনালাইজ করা হচ্ছে। কিন্তু কোম্পানি যখন মূলধন হতে টাকাটা দেবে তখন আর রোলআউট করতে পারবো না। রোলআউট করতে না পারলে কাস্টমার ইমপ্যাক্টেড হবে। 

যার প্রভাব হবে ম্যাসিভ। প্রথমে গ্রাহক পরে অপারেটর।

দেশে এত বিনিয়োগের পর বিনিয়োগকারীদের যখন প্রজেকশন দেয়া হয়েছে, ২০১৯ সালে প্রফিট করা যাবে তখন এই ধরনের পলিসিগত কারণে লসে চলে যেতে হবে। এতে নিশ্চিতভাবেই শেয়ারহোল্ডার বা মালিকরা হতাশ হবেন। যখন প্রফিট করা হবে তখন সরকার যদি টাকাটা নিয়ে যায় তাহলে এই দেশে কেউ কোম্পানি চালাতে চাইবে না।

টেকশহর : তাহলে রবির গন্তব্য? দেশে আর কোনো একীভূতকরণের সম্ভাবনা দেখছেন?

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ : যা বোঝা যাচ্ছে এখানে সরকার আর একীভূত করবে না। কেউ আসতেও চাইবে না। ট্যাক্স একটা কারণ, রেগুলেটরি একটা কারণ। ২০১১ সালে টুজি রিনিউয়াল করা হয় তখন জিএসএম লাইসেন্স ওপেন করা হয়েছিল যে, কেউ লাইসেন্স নিতে পারে কিন্তু একটি আবেদন পড়েনি, ২০১৩ সালে যখন থ্রিজি করা হলো তখন এটা ওপেন হলো কেউ আবেদন করেনি, ফোরজির সময়ে ওপেন হলো কিন্তু একটা লাইসেন্সেরও আবেদন পড়েনি। এতে কী মিন করে? এই ট্যাক্সেশন ও রেগুলেটরির দাপটের বাজারে কেউ আসতে চাইছে না। 

একটি অপারেটর গত তিন বছর চেষ্টা করছে কোম্পানিটিকে বিক্রি করতে। তিন বছরেও তারা তা পারেনি।

এই বাজেট যদি কন্টিনিউ করে সারপ্রাইজ হবো না যে, রবির শেয়ারহোল্ডারও একই লাইনে চিন্তা করবে।

টেলিনর-আজিয়াটা মিলে নতুন একটা কোম্পানি হচ্ছে। সেটা টেলিনর-আজিয়াটা দু’জনেরই স্টেক থাকবে। জিপি তার একটা অংশীদার। রবি কিন্তু আজিয়াটার সরাসরি বিনিয়োগে চলছে। ওই দুটি কোম্পানির সঙ্গে রবির কোনো সম্পর্ক নাই। এটা ক্লারিফাই করা যে, রবি কীভাবে আলাদা।

এখন আজিয়াটা একটা ইনভেস্টমেন্ট করে ফেলেছে নতুন একটা কোম্পানি হবে সেখানে। আজিয়াটা দেখলো রবি আর ভ্যালু ক্রিয়েট করছে না, এভাবে লসই গুনছে। এখন পর্যন্ত রবিতে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। সিনারিওটা এমন যে, আপনি যদি নিজে ইনভেস্টর হন আপনি কী করবেন? একটা কোম্পানি অনেক ইনভেস্টমেন্ট ও বেস্ট ম্যানেজমেন্ট করার পরও যদি কন্টিনিউয়াসলি লস করতে থাকে তখন আপনিই সেই কোম্পানি আর চাইবেন না।

বিষয় এমন, বাজেটে এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আজিয়াটা রবির ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নিলেও নিতে পারে।

টেকশহর : তার মানে শুরুতে খরচ কমিয়ে আনার পদক্ষেপ আসবে। লোকবল ছাঁটাইয়ের মতো সিদ্ধান্ত নেবেন কী? এমন পরিস্থিতিতে কোয়ালিটি অব সার্ভিস ঠিক রাখার চ্যালেঞ্জটা আরও কঠিন হবে কী ?

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ : চাকরি ছাঁটায়ের পরিকল্পনা হয়তো নেই, এতে খরচ রয়েছে। এমন ক্ষেত্রে এক বছর-দুই বছরের স্যালারি বা স্কিম দেয়ার বিষয় আছে। সেখানে তো অনেক টাকা লাগবে, এত টাকাই তো নেই। লোকজনকে চলে যেতে বলা হবে না, সেদিকে আগানো হবে না। তবে নতুন লোক নেয়া হবে না। শূন্য জায়গাগুলো পূরণ হবে না।

গণমাধ্যমগুলোতে প্রচার-প্রচারণার খরচ কমে আসবে। হয়তো হুট করে নেটওয়ার্ক খরচ কমানো যাবে না। কারণ, যেসব টাওয়ার রয়েছে সেগুলোর তো ভাড়া দিতে হবে। 

সুপার-ডুপার বিজনেস কেইস না থাকলে টাওয়ার কোম্পানির কাছ হতে টাওয়ার নেয়া হবে না, সেখানে বিনিয়োগ করবো না। যেখানে খুব এসেনশিয়াল না হলে ফাইবার নেয়া হবে না। মানে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হবে না। হ্যাঁ, এগুলোর নেগেটিভ অ্যাপ্লিকেশন আছে, বিটিআরসি এসে কোয়ালিটি অব সার্ভিসের জন্য ফাইন করবে? ফাইন করতে পারে, কিন্তু এই ধরনের একটা কর স্ট্রাকচার নিয়ে বিটিআরসি যদি রেসপন্সিবিলিটি না নেয় তাহলে তো ইমপ্যাক্ট পড়বেই।

টেকশহর : অপারেটরগুলোর এই খরচের বিষয়ে নীতিনির্ধারক ও রেগুলেটর নিয়শ্চই অবহিত? যদি তাই হয় তাহলে এভাবে কর বৃদ্ধির বিশেষ কী কারণ মনে হয় আপনার?

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ : বিটিআরসি কিন্তু জানে প্রতিটি আপারেটরের অবস্থা। তিন বছর আগে আইটিউকে দিয়ে কস্ট মডেলিং করিয়েছে। সেটা করেছিল ডেটার জন্য, কিন্তু সব কস্টই কিন্তু সংগ্রহ করেছে সব অপারেটরের কাছ হতে। সেখানে আইটিউ বিভিন্ন মডেল দিয়েছে ইনএফিশিয়েন্সি কোথায়? বিটিআরসি খুব ভাল করে জানে প্রতিটি অপারেটরের কস্ট স্ট্রাকচারটা কী?

বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপকভাবে কথা বলা হয়। ১০০ টাকার মধ্যে যে ৫০ টাকার বেশি দিয়ে দিতে হয় এই হিসাব কঠিন কিছু না। ২৭ টাকা ৫০ পয়সা বিলের সঙ্গে কলেক্ট করতে হচ্ছে, বিটিআরসিকে বিভিন্ন ফর্মে ১৩ টাকা দিতে হচ্ছে, এরপর রবির ভ্যাটের টাকা, কাস্টম ডিউটি, ইনকাম ট্যাক্স আছে, রিবেট হিসেব করে দেখাই যাচ্ছে ৫০ শতাংশের উপরে চলে যাচ্ছে। আর কোন ইন্ডাস্ট্রি আছে বাংলাদেশে যারা এভাবে টাকা দিচ্ছে-এটা বোঝার জন্য তো কঠিন কিছু নয়।

এটা হচ্ছে সুপার ক্যাপেক্স ইনটেনসিভ বিজনেস। ১০০ টাকায় যদি ক্যাপাসিটি-রিভিনিউ বাড়াতে হয় ৩০ টাকা ইনভেস্টমেন্ট করতে হয়। তাহলে ৫০ টাকা চলে গেলো ট্যাক্সে, ক্যাপাসিটিতে ৩০ টাকা। বাঁকি মাত্র ২০ টাকার মধ্যে ব্যবসা চালাতে হবে এবং প্রফিট করতে হবে। এটা কি বাস্তবসম্মত?

রবি গত বছর ২৯০০ কোটি টাকা সরকারের পকেটে দিয়েছে। এর থেকে ১০ শতাংশ যদি সরিয়ে ফেলা হতো তাহলে তো আমি প্রফিটেবল। এটা শুধুই তুলনার কথা। টেলিকম খাতে এসব হয় না। এখানে যা আরোপ করা হয় তাই আদায় করতে পারে সরকার। আমরাও সরকারের সব কর ঠিকঠাক দিয়ে দেই। পলিসি মেকাররা সেটা জানে। এটাও তারা জানে, এই ইন্ডাস্ট্রি টাকা দেয়, তাই যত ট্যাক্স বাড়ানো হবে ততো ট্যাক্স বাড়বে।

টেকশহর : এই বাজেটে গ্রাহকের উপর কোনো বাড়তি খরচের বোঝা চাপাবে? 

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ : গ্রাহককে বেশি টাকা খরচ করতে হবে। কথা বলায় ও ডেটায় সবখানে। ২০০ টাকা সিম ট্যাক্স গ্রাহকদের জন্য নতুন সংযোগ নেয়ার সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জে ফেলবে, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে। যারা এখনও টুজি সিম ব্যবহার করেন। 

টেকশহর : স্মার্টফোন আমদানিতে বাড়তি কর মোবাইল ফোন অপারেটরদের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে?

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ : স্মার্টফোন আমদানিতে যে ডিউটি বাড়ানো হয়েছে তার সরাসরি ইমপ্যাক্ট পড়বে গ্রাহকের উপর। যারা এখন টুজি হতে থ্রিজি ও ফোরজিতে আপগ্রেড করতে চাইবে তাদের উপর।

অপারেটরগুলো ফোরজি ইউজার বাড়ানো চেষ্টা করছে, কথা বলা হচ্ছে ফাইভজি নিয়ে, সেখানে লোকাল হ্যান্ডসেট সংযোজনকারীদের প্রোটেক্ট করতে গিয়ে কাস্টমারের পকেট হতে বাড়তি টাকা যাবে আর সংযোজনকারীদের টাকাটা বাড়বে। এতে সরাসরি ইমপ্যাক্টে পড়বে রবি।

এখন রবির ফোরজি কাভারেজ হচ্ছে ৭০ শতাংশ, কিন্তু ফোরজি হ্যান্ডসেট প্যানিট্রেশন হলো ২১ শতাংশ। রবিকে এত টাকা ইনভেস্টমেন্ট করানো হলো, রোলআউট অবলিগেশন দেয়া হলো, এত কিছু করার পর এখন এই যে পলিসি, এটা কীভাবে?

থ্রিজিতে যত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে তত টাকা রেভিনিউ হিসেবে তোলা যায়নি। থ্রিজি দিয়ে সার্ভিস কোয়ালিটি ঠিক রাখা কঠিন। ফোরজি সেখানে সার্ভিস কোয়ালিটি দেবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আগামী ৫ হতে ৭ বছর ফোরজি উপর রাইট করতে হবে।  এখন ৭০ শতাংশ কাভারেজ দিয়ে সার্ভিস দেয়ার জন্য কাস্টমার নেই? তাহলে কী হবে?

শুরুতেই রেসট্রিকশন চাই না। স্পেক্ট্রামে ১৫ বছরের টাকা একবারে নিয়ে নেয়া হচ্ছে। এক্যুজিশন পয়েন্টে স্টক করা হচ্ছে। যখন ফোরজি নেটওয়ার্ক করা হলো ডিভাইস এক্সপেন্সিভ হয়ে গেলো।

এখানে এমনও করা যেতো যে শুধু ফোরজি ডিভাইসের ক্ষেত্রে এই বাড়তি ডিউটি থাকবে না।  

এখন বিরাট ইম্প্যাক্ট হবে, ফোরজিতে তো ইনভেস্ট হবে না আর।

টেকশহর : আপনারা মানে মোবাইল অপারেটররা তো বাজেটের আগে দেনদরবার করেন, বাজেট প্রস্তাব দেন, পলিসি পর্যায়ে আলাপ আলোচনা করেন। এরপরও পরিস্থিতিগুলো এমন হলো কেন?

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ : ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিশনের সঙ্গে এমন ট্যাক্স পলিসি মেলে না। আমাদের ‍যিনি উপদেষ্টা রয়েছেন তিনি এক্সট্রিমলি নলেজবল, আমাদের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী এ খাতকে এগিয়ে নিয়ে অদ্যম-এমন কম্বিনেশন গত ১০ বছরে হয়নি। এটি গ্রেট কম্বিনেশন। আমাদের সৌভাগ্য আমরা ওনাদের পেয়েছি। 

কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলো ওনাদের ভিশন ও কর্মের সঙ্গে সমন্বয়ে নেই। এটাই প্রকাশিত হয়েছে এই বাজেটে। কারণ ওনারা একটা ভিশন দিচ্ছেন, যেটা আমরা ওনাদের কাছ হতে নিচ্ছি। সেটার সঙ্গে অন্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কোনো সংযোগ নেই। এর ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিশন অবশ্যই পিছিয়ে যাবে।

টেকশহর : দীর্ঘ সময় ধরে রবি লাভ করতে না পারা নিয়ে একটি ‘ধারণা’ প্রচলিত আছে যে লাভ গোপন করা হয়। এ সম্পর্কে কিছু বলবেন?

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ : এই অবস্থায় একটা এনাবলিং ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু হঠাৎ করে মনে হচ্ছে এটা এনাবলিং ইন্ডাস্ট্রি না। লোকজন মোবাইল অপারেটরগুলোর কন্ট্রিবিউশন পড়ে না, বিপরীতে অনেক নেগেটিভ পারসেশপন করে থাকে। সবাই মনে করেন বা বলতে চান যে, এরা ট্যাক্স ফাঁকি দেয়, প্রফিট করে গোপন করে, টাকা পাচার করে।

অথচ রবির দিক হতে সব সময় বলা হয়ে থাকে যে, ইনভেস্টিগেট করে দেখান যে রবি কোনো কিছু লুকাচ্ছে। টেলিকম সেক্টরের মতো অডিট কোনো সেক্টরে হয় না।  এনবিআর, কাস্টমস, ইনকাম ট্যাক্স-ভ্যাট, কন্ট্রোলার অডিট, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিআরসি অডিট করছে। ট্যাক্স কম দিলে তো প্রফিট করার কথা। কিন্তু কোথাও একটা ঘটনা আইডেন্টিফাই হয়নি যেখানে বলা হয়েছে যে, টাকা সরাচ্ছি, প্রফিট লুকাচ্ছি। তাহলে তো বিষয়টি কন্টাডিক্টরি দাঁড়াচ্ছে।

এমনকি এখানে রবি প্রস্তাব দিয়েছে যে, আরও অডিট হোক, রিসার্চ করা হোক। প্রয়োজনে রবি খরচ দিয়ে দেবে।

দেরি করে হলেও বিটিআরসি রিয়েলাইজ করেছে যে রবি প্রফিট করতে পারছে না। সেখানে তাই প্রটেকশন হিসেবে এসএমপির মতো রেগুলেশন প্রয়োগ করেছে।

এই বাজারে যদি রবি প্রফিটেবল হয়, বাংলালিংক প্রফিটেবল হয় তাহলে শেয়ার হোল্ডারা এখানে নি:সন্দেহে বিপুল বিনিয়োগ করবে।

টেকশহর : চলতি বছরে রবির লাভের একটা লক্ষ্য ছিল। প্রথম প্রান্তিকে সেটি হয়েছেও। বড় লক্ষ্য ছিল এটা নিয়মিত করে কয়েক বছর পর পুঁজিবাজারে যাবে রবি। এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপটে খাতটিকে যেখাবে অনিশ্চিত দেখছেন তাতে এই গন্তব্য ঠিক থাকবে কী?

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ : খসড়া হিসেবে বলতে পারি রবির প্রজেকশন ছিল ৪০ হতে ৫০ কোটি টাকার মতো প্রফিট করা। গত বছর প্রফিট ডিক্লেয়ার করা হয়েছিল যদিও ওটা আন্ডারলাইন প্রফিট ছিল না। গত বছরই ফোরজি রোলআউট করে ৭০ শতাংশ কাভারেজ দেয়া হয়েছে। না হলে প্রফিট হতো আরও বেশি।

পুঁজিবাজারে আসার বিষয়ে বেশ কয়েক বছর আগেই রবি আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু পলিসি ও নানা কারণে সেটা হয়ে উঠেনি। এবার রবি ভেবেছিল প্রফিটের শর্ত পূরণ করে পুঁজিবাজারে আসার বিষয়টি। 

বাজেটে এমন কর যদি থাকে তাহলে সেটি আর কীভাবে হবে। 

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ :

২০১৬ সালের নভেম্বর হতে রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। 

এর আগে ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত রবির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) পদে দায়িত্ব পালন করেন মাহতাব। ২০১০ সালে চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) হিসেবে রবিতে যোগদান করার আগে তিনি ইউনিলিভারের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় পদে ১৭ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ইউনিলিভার পাকিস্তান, ইউনিলিভার আরব এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশে ফিন্যান্স ডিরেক্টরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাহতাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স । তিনি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) ফেলো সদস্য, এফসিএমএ ও সিজিএমএর অব চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস (সিআইএমএ, ইউকে)। এছাড়া তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অ্যালামনাই।

এডি/জুন২৩/২০১৯/০৫০০

*

*

আরও পড়ুন