ভ্যাটে টিকবে না ই-কমার্স

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ই-কমার্স খাতে ভ্যাট আরোপসহ নানা প্রতিবন্ধকতা ঠেকাতে বছর বছর ‘লড়াই’ থেকে মুক্তি চান খাতটির উদ্যোক্তারা। 

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ই-কমার্স খাতে ভ্যাট আরোপের প্রেক্ষিতে করণীয় নিয়ে বুধবার বেসিসের উদ্যোগে এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন ই-কমার্স উদ্যোক্তারা।

গোলটেবিল বৈঠকে তারা বলছেন, গত কয়েক অর্থবছরে ই-কমার্স খাতে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব ও পরে ব্যাপক চেষ্টা-তদবিরে তা হতে অব্যাহতির কার্যক্রম হতে মুক্তি চান তারা। 

অন্তত ১০ বছর ই-কমার্স খাতে ভ্যাট আরোপ না করা এবং খাতটিকে আইটিইএস সার্ভিসে অন্তর্ভূক্ত করে কর অব্যাহতি দিয়ে একটা নিশ্চিত ব্যবসায়িক পরিবেশের দাবি তাদের। 

বেসিসের ডিজিটাল কর্মাস স্থায়ী কমিটির উদ্যোগে ওই গোলটেবিল বৈঠক রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বেসিস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন বেসিস সভাপতি জনাব সৈয়দ আলমাস কবীর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ই-কর্মাস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহেদ তমাল। উপস্থিত ছিলেন বেসিসর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি  ফারহানা এ রহমান, পরিচালক এবং বেসিস ডিজিটাল কর্মাস স্থায়ী কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক দিদারুল আলম।

সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ভার্চুয়াল বিজনেস তথা ডিজিটাল কমার্সের উপর ভ্যাট ০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে যা বিকাশমান এই খাতের অগ্রগতির জন্য অন্তরায়।  

‘প্রতি বছর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হয়। বাজেটে এ খাতে কোনো না কোনো বোঝা এসে চাপতে চাইছে। খাতটি নিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না উদ্যোক্তারা’ বলছিলেন তিনি।  

ফারহানা এ রহমান বলেন,  ই-কমার্স খাত অগ্রসরমান একটি খাত। ক্রমবর্ধমান এই খাতে শূন্য থেকে সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট আরোপ এ খাতের অগ্রগতি ব্যাহত করবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার দাবি রইল। 

দিদারুল আলম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে সরকার প্রাধিকার প্রদান করছে। তাহলে ই-কমার্স খাতে ভ্যাট আরোপ এ খাতকে অগ্রসর হতে দেবে না এটি বিপরীত হয়। সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট পরিবর্তন করে এ খাতকে আগের মতো ভ্যাটমুক্ত করার আহবান জানান তিনি। 

বেসিস ডিজিটাল কর্মাস স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, দেশের মানুষ অনলাইনে কেনাকাটায় অভ্যস্থ হতে শুরু করেছে। অনলাইনে কেনাকাটায় ভ্যাট আরোপ করলে বেশি দামে মানুষ আর অনলাইনে কেনাকাটা করতে চাইবে না। ই-কমার্স গ্রাহক হারাবে। ক্রমবর্ধমান এ খাত স্থবির হয়ে পড়বে। এ খাতে এখনই ভ্যাট নয়।

মো. আবদুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ই-কমার্সের বাজার এখনও তৈরি নয়। এখানে এখনই ভ্যাট আরোপ খাতটিকে বাড়তে দেবে না। 

বেসিস ডিজিটাল কর্মাস স্থায়ী কমিটির কো-চেয়ারম্যান আশিকুল আলম খান বলছেন, ই-কমার্স উদ্যোক্তারা যখন পণ্য কিনে আনেন তখন একবার ভ্যাট দেন। এখন অনলাইন প্লাটফর্মে বিক্রির সময় যদি আবার ভ্যাট দিতে হয় তাহলে ডাবল ভ্যাটারোপ হয়ে যায়। 

এ খাতে বছর বছর ভ্যাট-করের চিন্তা হতে মুক্তি দিয়ে খাতটিকে সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ দেয়ার কথা বলেন তিনি। 

‘অন্তত ১০ বছর এ খাতে কোনো ভ্যাট নয়। সঙ্গে আইটিইএস সার্ভিসে খাতটিকে অন্তুর্ভূক্ত করে দিতে হবে’ বলছিলেন প্রিয়শপের এই উদ্যোক্তা। 

গোলটেবিলে বক্তব্য রাখেন ডিজিটাল স্থায়ী কমিটির আরেক কো-চেয়ারম্যান জিসান কিংশুক হক।

এছাড়া বিকাশ, রকেট, উবার, পাঠাও, আইপে, সূর্যমুখী, অথবা ডট কম, চালডাল ডট কম, হাংরিনাকি ডট কম, রকমারি ডট কম, পিকাবু ডট কম, সেবা এক্সওয়াইজেড, আইফ্যারি ডট কম, ই-ভ্যালি, ডেলিগ্রাম, প্রোপার্টি বাজার লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

*

*

আরও পড়ুন